বিদেশ থেকে ক্যারিয়ারের দল কাপড় নিয়ে আসে কলকাতায়। এখানে এসে তা বিক্রি করে। কলকাতার বহু যুবক যেমন এই কাজ করেন, তেমনই উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের একটি দলও এতে যুক্ত।

আবগারি দফতরের অভিযোগ, সেই কাপড়ের গাঁটরির মধ্যে করে গোরক্ষপুরের যুবকেরা বিদেশি মদ নিয়ে আসছেন। এমনকি, বিমানের পণ্য হিসেবে পোশাকের গাঁটরি বিদেশ থেকে ‘বুক’ করে পাঠানোর সময়েও তার ভিতরে লুকিয়ে বিদেশি মদ পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই মদ প্রধানত ব্যাঙ্কক, সিঙ্গাপুর, হংকং বিমানবন্দরের ডিউটি ফ্রি দোকান থেকে কেনা। কলকাতায় বসে সস্তায় পাওয়া সেই বিদেশি মদ বেশি দামে বিক্রি করছে একটি চক্র। কলকাতার কিছু দোকানেও এখন এই বিদেশি মদ কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সরকারি কর চাপানোর পরে তার দাম অনেকটাই বেড়ে যায়। বিদেশ থেকে ডিউটি ফ্রি মদ চোরা বাজারে তুলনায় কম দামে মেলে। হোটেল, পার্টির আয়োজক, এমনকি বড় ব্যবসায়ীদের অনেকেই নিয়মিত চোরা পথে আসা এই বিদেশি মদ কেনেন বলে আবগারি দফতর সূত্রের খবর।

মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় এমনই এক চক্রের হেফাজত থেকে প্রায় আড়াই হাজার লিটার বিদেশি মদ বাজেয়াপ্ত করেছেন আবগারি অফিসারেরা। রাজ্য আবগারি দফতরের স্পেশাল কমিশনার সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘‘ডিউটি ফ্রি-র দাম ধরলেও বাজেয়াপ্ত হওয়া মদের দাম প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। সুনীল জয়সওয়াল নামে এক ব্যক্তিকে আমরা গ্রেফতার করেছি।’’ কলকাতায় এর আগে একসঙ্গে এত বেআইনি বিদেশি মদ ধরা পড়েনি বলে আবগারি দফতর সূত্রে খবর।

ঘটনার সূত্রপাত দিন সাতেক আগে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক ক্রেতাকে দিয়ে ডেকে পাঠিয়ে এই চোরাই মদের অন্যতম বিক্রেতা অনিল জয়সওয়ালকে গ্রেফতার করে আবগারি দফতর। মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে সে দিন অনিল মদ পৌঁছে দেন। শেষ এক ঘণ্টায় তাঁর মোবাইলের টাওয়ারের অবস্থান দেখিয়েছিল চৌরঙ্গি, সদর স্ট্রিট এলাকা। ওই এলাকায় কোথাও এই বেআইনি মদ মজুত করা আছে বলে সন্দেহ হয়। দিন কয়েক আগে জামিন পেয়ে যান অনিল। 

কিন্তু তক্কে তক্কে ছিল আবগারি দফতর। মঙ্গলবার রাতে খবর পেয়ে চৌরঙ্গি লেনের একটি গেস্ট হাউসে হানা দিয়ে দেখা যায়, সেখানকার তিনটি ঘরে তালা ঝুলছে। চাবি চাইলে মালিক জানান, মাসিক ভাড়ায় দেওয়া ওই ঘরের চাবি সংশ্লিষ্ট ভাড়াটেদের কাছে। জানা যায়, একটি ঘর ভাড়ায় নিয়ে রেখেছেন অনিলই। একটি ঘর ভাড়া আছে তাঁর ভাই সুনীলের নামে। তৃতীয় ব্যক্তিকে আবগারি দফতর খুঁজছে। 

রাতে সেই তিনটি ঘরের তালা ভেঙে থরে থরে বিদেশি মদ মেলে। সুনীলকে ডেকে গ্রেফতার করা হয়। সুনীলের কাছ থেকে গোরক্ষপুরের বেশ কিছু যুবকের পাসপোর্ট মিলেছে। তাঁরা নিয়মিত ক্যারিয়ারের কাজ করতেন। সেই পাসপোর্ট পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে, খুব ঘন ঘন তাঁরা ব্যাঙ্কক, সিঙ্গাপুরে যাতায়াত করতেন।