পাঁচ নম্বর সেক্টর থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর পরিষেবা শুরুর যাবতীয় প্রস্তুতি সারা। তবে মেট্রো কর্তৃপক্ষের একাংশের আশঙ্কা, মাত্র এটুকু পথে পরিষেবা শুরু হলে যাত্রী-সংখ্যা বেশ কম হতে পারে। সে কারণে তাঁরা অন্তত ফুলবাগান পর্যন্ত পরিষেবা শুরু করতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্যেই সিগন্যালিং ব্যবস্থার কাজ সম্পূর্ণ করে মঙ্গলবার থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

সূত্রের খবর, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয় কমিউনিকেশন বেস্‌ড ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেমে (সিবিটিসিএস) সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে ট্রেনের গতি এবং অবস্থান জানা যাবে। এ ছাড়াও খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ট্রেন চালাতে কাজে লাগানো হচ্ছে তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ নির্ভর সিগন্যালিং ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় মেট্রোর লাইনের পাশে কয়েক ফুট ব্যবধানে বিশেষ যন্ত্র বসাতে হয়। এ ছাড়াও প্রত্যেক ট্রেনে থাকে অ্যান্টেনা। লাইনের পাশে বসানো যন্ত্র থেকে বেরোনো তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ ট্রেনের অ্যান্টেনায় প্রতিফলিত হয়ে প্রতি মুহূর্তে ফিরে আসতে থাকে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই কন্ট্রোল রুমে বসে ট্রেনের অবস্থান জানা যায়।

সল্টলেক স্টেডিয়াম পেরিয়ে ফুলবাগান পর্যন্ত মাটির নীচ দিয়ে যাবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। সেই পথে সিবিটিসিএস প্রযুক্তিতে ট্রেন চালাতে শিয়ালদহ স্টেশনের পূর্ব প্রান্তে থাকা ‘ক্রসওভার’ (X আকৃতির রেললাইন, যা ট্রেনের অভিমুখ পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার হয়) পর্যন্ত নতুন সিগন্যালিং ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করতে হয়েছে। সুড়ঙ্গে প্রয়োজনীয় হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থাও করতে হয়েছে। আধুনিক এই সিগন্যালিং ব্যবস্থা যাতে ত্রুটিমুক্ত হয়, সে জন্য নাগাড়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সে কারণে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর একটি রেককে ফুলবাগান স্টেশনে পাকাপাকি ভাবে এনে রাখা হয়েছে।

মেট্রোর আধিকারিকদের একাংশের মতে, পাঁচ নম্বর সেক্টর থেকে অন্তত ফুলবাগান পর্যন্ত পরিষেবা চালু করা গেলে যাত্রীদের অনেকটাই সুবিধা হবে। বাড়বে যাত্রী সংখ্যাও। সে কথা মাথায় রেখেই প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ডিরেক্টর (রোলিং স্টক) অনুপকুমার কুন্ডু বলেন, ‘‘ফুলবাগান স্টেশনে সিগন্যালিং পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমরা ওই পথে দ্রুত পরিষেবা চালু করার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে চাই।’’