Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৩ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

Book review: ‘বাঙালি বুদ্ধিজীবী’ বলতে যা বোঝাত

কবি যখন দেখলেন পানীয় পরিবেশনের কোনও ব্যবস্থাই নেই, তখন হাতের বইগুলো গঙ্গায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে ফিরে গেলেন!

আবাহন দত্ত
০২ এপ্রিল ২০২২ ০৭:৪৩
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

ম্যাজিক লণ্ঠনে কয়েকটি মুখ
মীনাক্ষী দত্ত
৩৫০.০০

সে কালে গঙ্গার উপর একটা ভাসমান রেস্তরাঁ ছিল। শিবনারায়ণ রায়ের অনুরোধে সেখানে বসে কবিতা-আসর। ঠিক হয়, মোমের আলোয় কবিতা পড়বেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়। কবি উৎসাহী, শ্রোতাগণ ততোধিক। যথাসময়ে পৌঁছেও গেলেন সবাই। কিন্তু কবি যখন দেখলেন পানীয় পরিবেশনের কোনও ব্যবস্থাই নেই, তখন হাতের বইগুলো গঙ্গায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে ফিরে গেলেন!

সে বার অফিসে প্রোমোশন পেয়ে সেকশনের বড়বাবু হয়েছেন তারাপদ রায়। হাসানোর খুব শখ— টিফিনের সময়ে গল্প বলেন, সকলে হেসে গড়িয়ে পড়ে। একটি ছেলে হাসছে না দেখে জানতে চাইলেন, “কী হে, তোমার শরীর খারাপ নাকি?” সে বলল, “আজ্ঞে আমি আর আপনার সেকশনে নেই। বদলি হয়ে গেছি অন্য সেকশনে।”

তখন বুদ্ধদেব বসু বাড়িতে একা। দেখা করতে এসেছেন জীবনানন্দ। কবিতা পত্রিকার লেখা দিলেন, বুদ্ধদেবের অনুরোধে বসলেনও— যদিও সোফার এমন প্রান্তে, যেন পিছলে যাবেন। কিন্তু যেই ঘরে ঢুকলেন বুদ্ধদেবের প্রতিবেশী অজিত দত্তের স্ত্রী উমা দত্ত, অমনি ধুতিতে প্রায় হোঁচট খেতে খেতে পালিয়ে গেলেন জীবনানন্দ।

Advertisement

‘তখন’, ‘সে বার’, ‘সে কাল’— কোন কাল? খুব স্পষ্ট করে বলেন না মীনাক্ষী দত্ত, তবে এ সব যে বিশ শতকের মধ্যবর্তী পর্যায়ে ঘটে চলেছে, শিক্ষিত বাঙালিমাত্রেই তা জানবেন। বস্তুত, খুব স্পষ্ট করার দরকারও নেই। বুদ্ধদেব বসুর এই কন্যার জন্ম ১৯৩৫ সালে। বাংলা মেধাচর্চার জগৎকে ভিতর থেকে তিনি যে ভাবে দেখেছেন, তা-ই সাজিয়েছেন স্মৃতিনির্ভর প্রবন্ধমালায়। পড়তে পড়তে নাটকের গ্রিন রুমের কথা মনে আসে। সর্বসমক্ষে আবির্ভাবের আগে সেখানে প্রস্তুত হন নটনটীরা, এখানেও শুনি কবিতাজগতে নামার আগে জনপ্রিয়তার খাতিরে সুভাষচন্দ্র মুখোপাধ্যায় হন সুভাষ, অভিযান-এর শুটিংয়ে মামা-ভাগ্নে পাহাড়ে গিয়ে এক ভাঙা মন্দির দেখে ডেভিড ম্যাককাচ্চনের জীবন বদলে যায়। জানতে পারি, ইউনিয়ন করার কারণে অধ্যক্ষ চিন্তামণি কর কর্তৃক হিরণ মিত্রকে আর্ট কলেজ থেকে বহিষ্কারের কথা, নরেশ গুহ-র প্রতি বুদ্ধদেব বসুর পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে অশোক মিত্রের কবি হতে না পারার আক্ষেপ। এ কি ইতিহাস? ঠিক তা নয়, বরং এক ব্যক্তির বয়ান— অ্যানেকডোট। তার যা যা ধ্রুপদী শর্ত— অর্থাৎ বক্তব্যভিত্তিক কাহিনি, ব্যক্তি-স্থান-বস্তুর খুঁটিনাটি তুলে ধরে সে বিষয়ে ধারণা গড়ে তোলা, এবং শেষাবধি তার ভিতর দিয়ে সময়ের চরিত্র তুলে ধরা— সে পথেই এগোয় মীনাক্ষীর ছোট ছোট জবানবন্দি। গল্পের ঢঙে কথা বলতে বলতেই।

কিন্তু আবর্তের মতোই সময়ে- সময়ে ফিরে আসে এক বিশেষ সমাজেরই কথা। আমেরিকায় প্রবাসী বাঙালি জীবন, সাহেব বন্ধুদের গল্প, স্বচক্ষে দেখা জীবনজয়ী বীর বা দুর্ভাগ্যজনক প্রিয়জনবিয়োগ— সবই আসে স্মৃতিচারণায়; তবুও, টুকরোটাকরা মিলে ভেসেই থাকে বাঙালির মেধাচর্চার জগৎ ও তার কুশীলবরা।

এ তো তাই ইতিহাসও। এই জগতের মুদ্রিত কাহিনি নানা লেখকের কলমে আসে প্রসঙ্গে-অনুষঙ্গে, কিন্তু এক আধারে ধরে রাখা হয় না বিশেষ। উদয়শঙ্কর থেকে অমর্ত্য সেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় থেকে হাবিব তনভির— তাঁর নিকট জনদের মুখে আলো ধরে পুরনো গল্পের লিপিকর হয়ে রইলেন মীনাক্ষী। তির্যক রশ্মি কখনও পড়ল আবু সয়ীদ আইয়ুব, নবনীতা দেব সেন, অমিয় দেব, প্রণব মুখোপাধ্যায়দের মুখেও। আর, আটপৌরে বলার ছাঁচে তা বড় আপন হয়ে উঠল। ঠিক এক খাঁটি বাঙালি যাপনের স্বাদ।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement