বাংলার নদী ও তার চরিত্র সবটাই ভিন্ন, তাকে বুঝতে হলে মঙ্গলকাব্য পাঠ করা চাই: মনসামঙ্গল কাব্যে যেমন নিহিত আছে নদীর ভূগোল— নদী নিয়ে বিশেষ সংখ্যাটির শুরুতে লিখেছেন অতিথি সম্পাদক। আজকের জলবায়ু ও পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে নদীভাবনা: নদীর কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমণ, নদী আন্দোলন, নদীর পাড়ের লোকজীবন নিয়ে লেখালিখি। প্রতিবেশী রাজ্য ও প্রবাসের নদীদেরও ভোলেনি পত্রিকাটি। বাংলার তিস্তা আত্রেয়ী কপোতাক্ষ জলঙ্গী ইছামতী ময়ূরাক্ষী কেলেঘাই দামোদর বিদ্যাধরীর পাশে ওড়িশার জঙ্ক, অস্ট্রেলিয়ার প্যারামাট্টা-ইয়ারা, আমেরিকার র্যারিটান-হাডসন’এর মতো নদীর কথা।
যাপনচিত্র, নদী সংখ্যা
অতিথি সম্পা: সুপ্রতিম কর্মকার
২৫০.০০
মারিয়ো ভার্গাস য়োসা, লাজ়লো ক্রাসনোহোরকাই, ওলগা তুকারচুক, ইয়োকো ওগাওয়া, ইন্তেজ়ার হুসেন থেকে হ্যান কাং। বিশ্বসাহিত্যের বহুবিস্তারী সাহিত্যপ্রবাহকে এই লেখকদের চুম্বকে দেখতে চেয়েছে পত্রিকাটি। বাংলা অনুবাদে পাঠক পড়তে পারবেন তাঁদের প্রতিনিধিত্বমূলক লেখালিখি, সাক্ষাৎকারও; বিশেষ ভাবে বলতে হয় ওলগা তুকারচুকের নোবেল বক্তৃতার কথা। এই সবই অনুবাদ করেছেন এই সময়ের লেখক-অনুবাদকেরা। চলচ্চিত্র অংশে লুই বুনুয়েলের অনুবাদ ও আব্বাস কিয়ারোস্তামিকে নিয়ে নিবন্ধ, সেই সঙ্গে কবিতা ছোটগল্প দিনলিপি চিন্তন, ল্যাংস্টন হিউজ থেকে গুলজ়ারের অনুবাদ-কবিতা— দু’মলাটে প্রাপ্তি অনেক কিছুই।
ধূসর শহর, বিশেষ ব্যক্তিত্ব
সম্পা: দেবাশিস চক্রবর্তী
৩০০.০০
গ্রন্থজগতে আন্তর্জাতিক স্তরে হরফ সংক্রান্ত সেরা ‘ম্যানুয়াল’, জার্মান হরফশিল্পী হেরমান জ়াফ-এর মানুয়ালে তিপোগ্রাফিকুম-এর প্রথম খণ্ড প্রথম সংস্করণ (১৯৫৪) নিয়ে অরণ্য সেনগুপ্তের সবিস্তার আলোচনা পত্রিকার সপ্তম সংখ্যায়। নজর কাড়ে ‘সিয়াম রুপালি’ বাংলা ইউনিকোড ফন্টের জন্ম ও যাত্রা-কথা, ফন্ট-নির্মাতার স্বকলমে। অষ্টম সংখ্যার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলা হরফ— বিশেষত পুরান ঢাকার পুরনো টাইপ ফাউন্ড্রি নিয়ে সম্পাদকের লেখাটি তথ্যবহুল, স্মৃতিময় হরফ-ইতিহাস। ঠাকুরমার ঝুলি অবলম্বনে ওয়েব সিরিজ় তৈরি করতে গিয়ে কী করে একটা নতুন বাংলা ফন্ট ও ‘রাক্ষস’ নামের টাইপফেস তৈরি করলেন নির্মাতা কিউ ও তাঁর বন্ধুরা, জানা যাবে তা-ও।
হরফচর্চা ৭,৮
সম্পা: সুস্নাত চৌধুরী
৬৫.০০ (প্রতিটি)
“যত না খাবি, খাবার দেখবি তত বেশি!... খাবারের গপ্প যত শুনবি মানুষকে ক্ষুধার্ত না রাখার চেষ্টাটা তত তৈরি হবে ভেতরে!” মনোজ মিত্রের নাট্যে খাদ্য ও খাদ্যহীনতার প্রসঙ্গে চমৎকার এক জীবনদর্শনের কথা লিখেছেন প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্বের কন্যা, ময়ূরী মিত্র। মনোজ মিত্র, রতন থিয়াম ও হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করেছে এই বার্ষিক নাট্যপত্র, সেই সঙ্গে বাংলা থিয়েটারের প্রণম্য শতবর্ষীদেরও— তৃপ্তি মিত্র তাপস সেন বাদল সরকার এবং অবশ্যই ঋত্বিককুমার ঘটক। লিখেছেন বিভাস চক্রবর্তী অশোক মুখোপাধ্যায় দেবাশিস মজুমদার সৌমিত্র বসু দেবাশিস রায় সুদীপ সান্যাল প্রমুখ বিশিষ্ট নাট্যজন ও লেখক; ঋত্বিককুমার ঘটকের অনুবাদে বের্টোল্ট ব্রেখটের গ্যালিলিও চরিত নাটকটিও মুদ্রিত।
পূর্ব পশ্চিম বার্ষিক নাট্যপত্র ২০২৫
সম্পা: সৌমিত্র মিত্র
১০০.০০
লজ্জা নিবারণ বা প্রকৃতির থেকে আত্মরক্ষা, যে কারণেই মানুষ প্রথম বস্ত্র বা আচ্ছাদন ব্যবহার করুক, কালক্রমে তার পরিধেয় হয়ে উঠেছে সভ্যতা ও সংস্কৃতির অভিজ্ঞান, রাজনীতি অর্থনীতি সমাজ ধর্মেরও মনোযোগের কেন্দ্র। সংখ্যাটি লোকসংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে বস্ত্রকে ধরে এক বিরাট চর্চার পরিসর: এসেছে ধর্ম সংস্কৃতি বিজ্ঞান ইতিহাস ভূগোল। পূজার্চনা, মন্দির অলঙ্করণ, মহাভারত, বৈষ্ণব পদাবলি, বাংলা কবিতা, প্রবাদ, শাস্ত্রীয় নৃত্যে বস্ত্র-কথা নানা নিবন্ধে। প্রাচীন ভারতে বেশভূষা, নিম্নবর্গের পোশাক, জাদুকর থেকে বহুরূপীর পোশাক, অন্তর্বাস থেকে গ্রন্থপ্রচ্ছদে বস্ত্রের ব্যবহার; বেনারস সম্বলপুর রাজস্থান শান্তিপুরের বস্ত্র-ঐতিহ্য, রয়েছে সবই।
শাশ্বত আলাপন, বস্ত্র ও লোকসংস্কৃতি
সম্পা: ব্যাসদেব গায়েন
৫০০.০০
সুপ্রিয় ঠাকুর লিখেছেন শান্তিনিকেতনে তৃপ্তি মিত্রের ডাকঘর নাটক করানোর স্মৃতি: “উনি মনে করতেন অমলের মৃত্যুই হচ্ছে নাটকের শেষ এবং সেখানে কোনও দ্বিমত থাকতেই পারে না।” সেই স্মৃতিই, আরও বিশদে, সলিল সরকার ও অসীম চট্টরাজের কলমে। কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে সুরঞ্জনা দাশগুপ্তের লেখা, আরব্ধ নাট্যবিদ্যালয় নিয়ে দেবাশিস রায়চৌধুরীর রচনাটি বড় প্রাপ্তি। ইতিহাস পাঠের আয়নায় তৃপ্তি মিত্রকে দেখেছেন অভিজিৎ সেনগুপ্ত। সার্থক তৃপ্তি-তর্পণ।
এখন শান্তিনিকেতন, তৃপ্তি মিত্র
সম্পা: আবীর মুখোপাধ্যায়
১০০.০০
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)