পড়ুয়া ভর্তি ঠেকে গিয়েছে তলানিতে। আইটি বিভাগের এনবিএ অনুমোদন চলে গিয়েছে, সর্বভারতীয় কর্ম তালিকা এনআইআরএফ-এ নেমে গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান। এ রকমই একাধিক অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখালেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ম্যাকাউট )-এর পূর্ণসময়ের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের নিশানায় অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য তাপস চক্রবর্তী।
শুক্রবার নদিয়ার হরিণঘাটা ক্যাম্পাসে দুপুর থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ আন্দোলন চলে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কাছে উপাচার্যের নানা কাজ অসঙ্গতিপূর্ণ এবং অবৈধ দাবি করে এক অভিযোগপত্রও পেশ করা হয়েছে বলে জানান এক শিক্ষক। এ দিন উপাচার্যের দফতরে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তৃণমূল শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপার ম্যাকাউট শাখার সভাপতি তোতন ঘোষ।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর , এ দিন ক্যাম্পাসে যাননি অস্থায়ী উপাচার্য। তাঁর দফতরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি করেছেন শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, ২০২১ সালে যেখানে প্রায় ৩ হাজার পড়ুয়া ছিল, ২০২৫-২৬ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে হাজারেরও নিচে।
পড়ুয়া কেন্দ্রিক স্কুল কানেক্ট প্রোগ্রাম বা আউটরিচ-এর মতো নানা কার্যকলাপ উপাচার্য বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তাঁদের। পাশাপাশি বহু কোর্স বন্ধ করে দেওয়ায় গত দু’বছরে ৫০ জন শিক্ষক পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ। তাঁদের দাবি প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে ম্যাকাউট -এর মান তলানিতে ঠেকে গিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের মতো জনপ্রিয় বিষয়ে এনবিএ-এর অনুমোদন না পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও ক্ষতিকারক বলে জানান এক শিক্ষক।
ওই শিক্ষকের দাবি, “স্থায়ী উপাচার্য থাকাকালে কর্মসমিতিতে হওয়া বার্ষিক ৩ শতাংশের বেতন বৃদ্ধিও অবৈধ ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ভাবে কর্মসমিতির সিদ্ধান্তে অস্থায়ী উপাচার্য কোনও ভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।”
সারা বাংলা তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতির ম্যাকাউট শাখার সভাপতি এবং রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি সাহেব সাহা বলেন, “উপাচার্য স্বেচ্ছাচারিতা করছেন। কোনও কর্মচারী তাঁর পছন্দের হলেই চুক্তি নবীকরণ করছেন, না হলে অনেকের চুক্তির মেয়াদ কমিয়ে দিচ্ছেন। রাজ্যের একমাত্র সরকারি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন।”
তিনি জানান, সংগঠনে সিদ্ধান্তের পরে আগামী সপ্তাহ থেকে শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁরাও আন্দোলনে যোগ দেবেন।
পূর্ণ সময়ের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক তোতন ঘোষ বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীকে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। আজ উপাচার্যের দফতর স্মারকলিপি দিলাম। গত কয়েক বছরে সব দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের অবনমন হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন চাই।”
ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য তাপস চক্রবর্তী বলেন, “আমি পূর্ণ সময়ের উপাচার্য নই। আমার অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার মধ্যেই কাজ করছি। কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমার নেই। এখানে কর্মসমিতিও নেই। সে ভাবেই কাজ চালানোর চেষ্টা করছি।” তাঁর দাবি, অনেকে ভাল সুযোগ পেয়ে চাকরি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তিনি নিজে থেকেও কাউকে যেতে কোনও ভাবে বাধ্য করেননি। ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি থমকে যাওয়ার কারণ হিসেবে তাঁর ব্যাখ্যা, ফিন্যান্স কমিটি এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়নি।
যদিও এক আধিকারিকের ব্যাখ্যা, পূর্ণ সময়ের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন হয় ম্যাকাউটের নিজস্ব তহবিল থেকে। ‘সেলফ ফিন্যান্স কোর্স’ চালু করে সেখান থেকেই এই অর্থ দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর।