গঙ্গারামপুরে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শুরু হল রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি। অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার মাঠে নেমে পড়ল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ও বিজেপি। 

তৃণমূল এ দিন দাবি করেছে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে অচল করে দেওয়া হবে জেলা। অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিও জানিয়েছে শাসক দল। অন্যদিকে পিছিয়ে নেই বিজেপিও। এ দিন দলের সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, নির্যাতিতা ওই তরুণী বিজেপির সমর্থক ছিলেন। বিজেপির বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। তবে দিনের শেষে পুলিশ সূত্রের খবর, হিলি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত যুবককে। বাংলাদেশ পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল সে। এই ঘটনার সঙ্গে আর যারা যুক্ত রয়েছে তাদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গঙ্গারামপুর থানার আইসি পুর্ণেন্দু কুণ্ডু বলেন, ‘‘মূল অভিযুক্ত ধরা পড়েছে। সে দোষও স্বীকার করেছে।’’

ওই তরুণীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা গত শনিবারের। পুলিশ সূত্রের খবর, ওইদিন গঙ্গারামপুরের জাহাঙ্গিরপুরের পাঠানপাড়া এলাকায় পুনর্ভবা নদীর ধার থেকে নির্যাতিতার অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়। এলাকারই বাসিন্দা এক যুবক ওই মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে ওই যুবক। তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে নদীর ধারে ফেলে রাখা হয়।

এ দিন অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে গঙ্গারামপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সত্যেন রায় ‘রাজবংশী জনজাগরণ চেতনা মঞ্চে’র ব্যানারে গঙ্গারামপুর থানা ঘেরাও করেন। এর আগে কয়েক হাজার রাজবংশী সম্প্রদায়ের মহিলা-পুরুষকে নিয়ে মিছিল করেন। জাতীয় সড়ক অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। বিদ্যুৎ দফতরের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। সত্যেন বলেন, ‘‘১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করা হলে আমরা গোটা জেলা অচল করে দেব। অভিযুক্তের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।’’ অন্যদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি দুপুরেই বিজেপি সাংসদ সুকান্ত নির্যাতিতার বাড়ি যান। সুকান্ত বলেন, ‘‘প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাইছে। আমরা অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি করছি।’’ 

আজ, শুক্রবার নির্যাতিতার বাড়িতে যাওয়ার কথা সাংসদ লকেটেরও। এ দিন সকালে কলকাতা থেকে বালুরঘাটে পৌঁছন লকেট। বালুরঘাটের একটি বেসরকারি লজে সাংগঠনিক বৈঠকের শেষে লকেট দাবি করেন, গঙ্গারামপুরে তাঁদের দলীয় সমর্থক তরুণীকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। অভিযুক্ত এখনও গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ করে তিনি জানান, শুক্রবার তিনি নির্যাতিতার বাড়ি যাবেন।