×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ জুন ২০২১ ই-পেপার

লাগামটা টেনে ধরা অত্যন্ত জরুরি আজ

অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ০০:৪৭

তীব্রতা এবং প্রাবল্যে ক্রমশ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে শাপটা। তাই শাপমুক্তির উপায়টা খুব গুরুত্ব দিয়েই খোঁজা দরকার। এই মুহূর্ত থেকেই খোঁজা দরকার। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা যে ভাবে বাড়ছে, সে প্রবণতায় লাগাম পরানোর কোনও একটা উপায় অবশ্যই থাকা উচিত। পন্থা-পদ্ধতি নিয়ে তর্ক থাকতে পারে। কিন্তু ভুয়ো খবরে রাশ টানার বিষয়ে ভারত সরকারের সক্রিয়তাকে সমর্থন করতেই হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়া এক অসামান্য উদ্ভাবন, সংশয় নেই বিন্দুমাত্র। এই উদ্ভাবন অত্যন্ত দ্রুত কী ভাবে বদলে দিয়েছে জীবন, এই উদ্ভাবন কী ভাবে প্রায় গোটা বিশ্বকে এক উঠোনে এনে হাজির করেছে, এই উদ্ভাবন দৈনন্দিন যাপনকে কী রকম ভাবে সহজ করে তুলেছে— সে নিয়ে বিস্তর চর্চা নানা পরিসরে হয়েছে। সে প্রসঙ্গ আজ নতুন করে উত্থাপনের প্রয়োজন নেই, কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনও সন্দেহ প্রকাশ করার জন্য এ লেখা নয়। অসামান্য উদ্ভাবানটাকে কী ভাবে দুঃস্বপ্নে পরিণত করছেন অপরিণামদর্শীরা বা দুষ্কৃতীরা, আজকের চর্চা মূলত তা নিয়ে এবং তার নিরসনের উপায় নিয়ে।

মিথ্যা, অপপ্রচার, গুজব এবং ভুয়ো খবরের মতো নানা আবর্জনায় দিনের পর দিন ক্লেদাক্ত হয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়া। নানা অসদুদ্দেশ্য নিয়েই যে ভুয়ো কথাগুলো ছড়ানো হয়, তা নিয়ে কারও সংশয় থাকার কথা নয়। কিন্তু গুজবের সমুদ্র আজ এতই ফেনিল সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে যে, কোনটা আসল আর কোনটা নকল, কোনটা খাঁটি আর কোনটা ভেজাল, তা চিনে নেওয়া দুষ্কর হয়ে উঠছে ক্রমশ।

Advertisement

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এই বিভ্রান্তির শিকার কিন্তু আমাদের সমাজই হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া গুজব বা আপত্তিকর পোস্ট কখনও প্রাণঘাতী সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কখনও দেশের নানা প্রান্তে একের পর এক গণপ্রহার তথা হত্যার ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই সব গুজব।

আরও পড়ুন: ফেক নিউজ রুখতে ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন’ তুলে দিয়ে নয়া আইন আনছে কেন্দ্র?

আবার বলি, সোশ্যাল মিডিয়া যে বিজ্ঞানের এক অসামান্য উদ্ভাবন, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু উদ্ভাবনটা আশীর্বাদ হিসেবে এল, নাকি অভিশাপ রূপে, বোঝা যাচ্ছে না মাঝেমধ্যে। আসলে আশীর্বাদকেই অভিশাপে পরিণত করার অবধারিত চেষ্টাটা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিনা বাধায় সেটা ঘটতে দিতে আমরা পারি না। তাই এর বিরুদ্ধে সক্রিয় হতেই হবে। ভারত সরকার যে সক্রিয় হয়েছে, তার জন্য সরকারের সাধুবাদ প্রাপ্য।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আদান-প্রদানের গোপনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন’ ব্যবস্থার যে প্রচলন রয়েছে, সরকার সেই ব্যবস্থার বিলোপ চাইছে, যাবতীয় আদান-প্রদানে নজর রাখার অধিকার চাইছে সরকার। ভুয়ো খবর বা গুজব কারা ছড়াচ্ছেন, সে সবের উৎস কী— সহজেই চিহ্নিত করা যাবে ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন’ ব্যবস্থা অবলুপ্ত হলে। কিন্তু তাতে বাক্‌স্বাধীনতার অধিকারে হস্তক্ষেপ হয়, ব্যক্তিগত জীবনকে গোপন রাখার যে অধিকার নাগরিকের রয়েছে, তা ক্ষুণ্ণ হয়। তাই অনেকেই সরকারের এই প্রস্তাবনার বিরোধিতা শুরু করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলোও যে ভারত সরকারের প্রস্তাব একবাক্যে মেনে নিতে প্রস্তুত, তেমনও নয়।

অতএব কাজটা কঠিন হতে চলেছে। খুব সহজে সরকার ভুয়ো খবরে লাগাম পরিয়ে দিতে পারবে, এমনটা হবে বলে এখনও মনে হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে তর্কও ক্রমশ বাড়ছে।

Advertisement