নেতা নয়, ম্যানেজার। এটাই কি সদ্যপ্রয়াত মুকুল রায়ের প্রকৃত পরিচয়? নেতার সঙ্গে জনতার একটা রসায়ন থাকে। যেমন ছিল জ্যোতি বসু বা এখন আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এটা কারও থাকে, কারও থাকে না। সেই অর্থে মুকুল নেতা ছিলেন না। নেতা হওয়ার মতো জন-আবেদন বা জনভিত্তি তাঁর ছিল না। তাঁর রাজনৈতিক মস্তিষ্ক থাকলেও আদর্শ বা বিশ্বাসের সমষ্টি ছিল না। যা তাঁর সঙ্গে জনগণের সেতু হতে পারত।
মুকুল সম্ভবত সেটা জানতেন। তাই তিনি দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ সম্ভাবনার পথে হেঁটেছিলেন— জননেতার ম্যানেজার।
দক্ষ সংগঠক তিনি ছিলেন, কিন্তু সেটা জননেত্রী মমতার প্রতিনিধি হিসাবে। তাঁর কদর ছিল নেত্রীর বিশ্বস্ত হিসাবে। নিজে নেতা হতে পারবেন না জানতেন বলেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন। তাঁর দরকার ছিল নেতা বা প্রতিষ্ঠান, যার হয়ে তিনি রাজত্ব সামলাবেন। ক্ষমতা বিস্তারের পথ দেখাবেন। তৃণমূলনেত্রীকে দেখিয়ে দেবেন, তাঁকে হারিয়ে তিনি কী হারালেন। এ ছাড়া মুকুলের কোনও রাজনীতি ছিল না।
সে ভাবেই একদা তৃণমূলনেত্রী মমতার এবং পরে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হয়ে রাজনৈতিক ম্যানেজারির সময় দল ভাঙানোর খেলায় তাঁর দক্ষতা দেখাতে গিয়ে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনে বিপুল অবদান রেখে গিয়েছেন মুকুল। প্রথমে ঘাসফুলে এবং পরে পদ্মফুলে দল ভাঙানোকে রাজ্য রাজনীতির মূলস্রোতে নিয়ে এসে মুকুল যে ধারা বাংলার মাটিতে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তা এখনও প্রবহমান।
আরও পড়ুন:
সামনে রাজ্যসভার নির্বাচন। বিধায়ক সংখ্যার হিসাবে তৃণমূলের চারটি এবং বিজেপির একটি আসনে জয়লাভ নিশ্চিত। তবু বাড়তি প্রার্থী দিতে পারে দু’পক্ষ। অন্তত চিন্তাভাবনা চলছে। আছে ভোট ভাঙানোর খেলার ভয়। আছে বারো বছর আগের স্মৃতি। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভা নির্বাচনে একটি অতিরিক্ত রাজ্যসভা আসন জেতার জন্য বাম-কংগ্রেস শিবিরের বিধায়ক ‘তুলে নেওয়ার’ খেলায় নেমেছিল তৃণমূল। কান্ডারি মুকুল।
রাজ্যসভা নির্বাচনে তিন বাম এবং দুই কংগ্রেস বিধায়ক দলের ‘হুইপ’ অমান্য করে ভোট দেন তৃণমূলের চতুর্থ প্রার্থীকে। যাঁর জেতার জন্য যথেষ্ট ভোট ছিল না। বামেরা তাদের বাড়তি ভোট কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল প্রার্থী আহমদ সৈয়দ মলিহাবাদীকে দিলে তিনিই পঞ্চম আসনে জিততেন। কিন্তু তৃণমূলের কৌশল বুঝে বামেরা তাঁদের একমাত্র প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে সব ভোট তাঁদের প্রার্থীকেই দেন। ফলে মলিহাবাদীকে হারিয়ে রাজ্যসভায় চলে যান তৃণমূলের আহমেদ হাসান ইমরান। সেই প্রথম রাজ্যে ওঠে রাজনৈতিক ‘ঘোড়া কেনাবেচার’ অভিযোগ।
তবে বাংলায় রাজ্যসভা নির্বাচনে ‘ক্রস ভোটিং’ আগেও হয়েছে। ১৯৯৩ সালে বামেদের থেকে চারটি ভোট পেয়েছিলেন কংগ্রেসের প্রার্থী প্রণব মুখোপাধ্যায়। গোপন ব্যালটে কারা কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছিলেন বোঝা যায়নি। তবে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র অভিযোগও ওঠেনি। তখন বামফ্রন্টের অন্দরে একটা গোলমাল চলছিল। ঘটনার পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বসু ফ্রন্টের ঐক্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। প্রণবের কংগ্রেসের বাইরে অন্যান্য দলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। সেই ঘটনা ছিল বাংলার রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রম।
গোটা পঞ্চাশ এবং ষাটের দশক জুড়েই পশ্চিমবঙ্গে নানা রাজনৈতিক ভাঙাগড়া চলেছে। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ টালমাটালের বছরে কংগ্রেস ভেঙে হয়েছে বাংলা কংগ্রেস, সিপিআই(এম) ভেঙে নকশালেরা বেরিয়ে গিয়েছেন, বাংলা কংগ্রেস ভেঙে হয়েছে বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস। প্রগ্রেসিভ মুসলিম লিগ মুর্শিদাবাদে তিনটি আসন পেলেও পরে কংগ্রেস সেই দল থেকে নেতা ভাঙিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সে ছিল এক রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়। সত্তরের দশক থেকে পশ্চিমবাংলার রাজনীতির বাম-কংগ্রেস মেরুকরণে বামেদের দিক থেকে কোনও কোনও নেতা কখনও-সখনও কংগ্রেসের দিকে গেলেও কংগ্রেস থেকে বামে আসার ব্যাপার ছিল না। পশ্চিম মেদিনীপুরের দীর্ঘদিনের সিপিআই বিধায়ক ওমর আলি দল ছেড়ে সিপিএমে যোগ দিয়ে আবার বিধায়ক হলেও বামফ্রন্টের দলগুলি একে অন্যকে ভাঙার চেষ্টা করেনি। তবে ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল হওয়ার পরে দু’দলে যাতায়াত থেকেছে। তবে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলের জন্ম হওয়ায় তা অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু ২০১৪ সালে কোনও রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল না। ২০১১ সালে বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। সেই সরকার পড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা ছিল না। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভাঙার পরেও তৃণমূলের একারই ১৮৪ আসন ছিল। তবু দল ভাঙিয়ে পশ্চিমবাংলাকে বিরোধীশূন্য করার কৌশল নিল তৃণমূল। সেই শূন্যতাই নতুন অস্থিরতার জন্ম দিয়ে ২০১৪ থেকে বিজেপির উত্থানের সুযোগ করে দেয়। তৃণমূল দল ভাঙিয়ে বাম-কংগ্রেসকে দুর্বল না করতে চাইলে বিজেপির জমি পাওয়া এত সহজ হত না। দলনেত্রীর কথায় মুকুল সেই প্রকল্প নিয়েছিলেন, না মুকুলের উৎসাহে দলনেত্রী অনুমোদন দিয়েছিলেন, তা কারও পক্ষে জানা সম্ভব নয়।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ভেঙে যেতেই কংগ্রেস ভাঙাতে নামে তৃণমূল। নভেম্বরে মালদহের কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এবং মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীর। পরের বছর নদিয়ার অজয় দে। এঁরা দল ছাড়ার সঙ্গে বিধায়কপদও ছাড়েন এবং উপনির্বাচনে দাঁড়ান। এতে অনৈতিক কিছু নেই। তাঁরা মাঝপথে দল ছেড়েছেন আবার জনতার মত নিতে গিয়েছেন। কিন্তু সেই সময় থেকে দল ভাঙানো তৃণমূলে একটি রাজনৈতিক প্রকল্পের রূপ পায়। সেটি এই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ছিল। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বাঁকুড়ার কোতুলপুরের কংগ্রেস বিধায়ক সৌমিত্র খাঁকে দলে নেওয়ার দিন খানিক গর্বের হাসি হেসে মুকুল বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আদর্শে কাজ করার জন্য দার্জিলিং থেকে জঙ্গলমহল, কোচবিহার থেকে কাঁথি— উৎসাহের জোয়ার নেমেছে। সেই উৎসাহের জোয়ারেই তিন বাম ও দুই কংগ্রেস বিধায়ক ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দিলেন। আর এক কংগ্রেস বিধায়ক নিজের ভোট নষ্ট করলেন।
সেই বছরেই ২১ জুলাই তৃণমূল আরও তিন কংগ্রেস এবং এক বাম বিধায়ককে শহিদ দিবসের মঞ্চে দলে যোগ দেওয়ায়। কিন্তু অজয় দে-র পরে আর কোনও দলত্যাগী নেতা বিধায়কের পদ ছেড়ে উপনির্বাচনে লড়েননি। সৌমিত্র খাঁ, দশরথ তিরকে, সুনীল মণ্ডল লোকসভার টিকিট পেয়ে বিধায়কপদ ছাড়েন। গোলাম রব্বানি, ইমানি বিশ্বাস, অনন্তদেব অধিকারী, ছায়া দোলই বা অসিত মাল ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট পাওয়ার আগে বিধায়কপদ ছাড়েননি।
২০১৪ সালের শেষে দলনেত্রীর সাথে সংঘাত শুরুর পর থেকে ২০১৭ সালের শেষে খাতায়কলমে দল ছাড়া পর্যন্ত অবশ্য দল ভাঙানোয় তৃণমূলে আর মুকুলের বিশেষ ভূমিকা ছিল না। তখন তিনিই শিবির বদল নিয়ে দোলাচলে। তত দিনে তাঁর খেলায় দড় হয়ে উঠেছেন শুভেন্দু অধিকারী। হাত পাকাচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসেরা।
কিন্তু বিজেপিতে গিয়ে মুকুল আবার সেই খেলা শুরু করলেন। প্রথম প্রয়াসে অবশ্য ধাক্কা খেয়েছিলেন। ২০১৮ সালের উপনির্বাচনে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মঞ্জু বসুর নাম বিজেপি ঘোষণা করে দিলেও মঞ্জু নিজেই খানিক পরে বলে বসেন, তিনি বিজেপি প্রার্থী হচ্ছেন না। তবু মুকুলে আস্থা হারাননি বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব। বাংলায় বিজেপি তখনও ছোট দল। আরএসএস রাজ্য বিজেপির প্রতি স্তরে তাদের থেকে বাছাই সংগঠক পাঠালেও তা যথেষ্ট নয়। দ্রুত বাড়তে গেলে অন্য দল থেকেই নেতা-সংগঠক-কর্মী নিতে হবে। সে কাজে মুকুলের চেয়ে দক্ষ আর কে! ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে মুকুল সেই দক্ষতার প্রমাণ দেন। একে একে দলে টানেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, বিধায়ক অর্জুন সিং এবং দুলাল বরকে। শুধু তৃণমূল নয়, বাম শিবির থেকেও। তিন বারের বাম বিধায়ক খগেন মুর্মু সরাসরি বিজেপির টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে গেলেন মুকুলের কল্যাণে।
নির্বাচনে বিজেপি অভাবনীয় সাফল্য পেল। স্বভাবতই মুকুলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে উঠল। ২০১৪ সালে মাত্র দু’টি লোকসভা আসন থেকে ২০১৯ সালে এক লাফে ১৮টি আসন। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে তৃণমূল এগিয়ে ১৬৪টিতে, বিজেপি ১২১টিতে। মুকুল যে ভাবে ‘বিরোধীশূন্য’ বিধানসভা করার কৌশল নিয়েছিলেন, সেই সুরেই ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় শুভেন্দু এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ‘বিরোধীশূন্য’ পঞ্চায়েত গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। অনেকের মতে, ‘বিরোধীশূন্য’ পঞ্চাযেতের আহ্বানের ফলে রাজনৈতিক হিংসা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। তার বিরুদ্ধে তৈরি ক্ষোভেই লোকসভা ভোটে ভরাডুবি হয়েছিল তৃণমূলের।
লোকসভা নির্বাচনে মুকুলের ভাঙিয়ে আনা প্রার্থীদের মধ্যে খগেন, সৌমিত্র, অর্জুন এবং নিশীথ প্রামাণিক জিতে যান। এর পর দল ভাঙানোর নেশায় যাঁকে পেলেন তাঁকেই তুলতে শুরু করেন মুকুল। বনগাঁর বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিংহ, কালচিনির বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারি, প্রাক্তন বাম মন্ত্রী বঙ্কিম ঘোষ মুকুলের খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন। কিন্তু লাভপুরের বিতর্কিত বিধায়ক মণিরুল ইসলামকে যোগ দেওয়ানোর পরে তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি রাজ্যনেতৃত্ব কার্যত বিদ্রোহ করেন। মুকুলের উপর সাময়িক লাগাম টানেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তা ছাড়া, রাতারাতি দলবদল করিয়ে বিভিন্ন পুরসভা দখল করার যে প্রকল্প মুকুল নিয়েছিলেন, তা-ও ব্যর্থ হয়। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে তৃণমূল তখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। অভিষেকের উদ্যোগে প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাককে নিয়ে আসা হয়েছে। পর পর কিছু উপনির্বাচন জিতে নিজেদের দিকে হাওয়া ঘোরাতে সমর্থ হয় তৃণমূল।
বিজেপিতে মুকুল দল ভাঙানোয় খানিক বিরতি নেওয়ার পরে ২০২০ সালের শেষ দিকে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। তার পরে কার্যত মুকুল-শুভেন্দু প্রতিযোগিতা শুরু হয়! কে তৃণমূল থেকে কত নেতা ভাঙিয়ে আনতে পারেন। প্রসঙ্গত, ২০১৪ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি বেড়েছে মূলত দল ভাঙিয়েই। কংগ্রেস ভেঙেই অসম ও ত্রিপুরায় তাদের জয়যাত্রা। বাংলায় এই অভিযানের দায়িত্বে প্রাথমিক ভাবে ছিলেন মুকুল এবং ক্রমে শুভেন্দু। যাঁরা তৃণমূলে থাকাকালীন ওই বিষযে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু, হরেদরে সকলকে নেওয়ায় রাজ্য বিজেপিরও এক ‘তৃণমূলীকরণ’ ঘটে যায়। সারদা-অভিযুক্ত মুকুল বিজেপিতে, নারদ কেলেঙ্কারি-অভিযুক্ত শুভেন্দু বিজেপিতে, টেট কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ কুন্ডুও বিজেপিতে। কংগ্রেস বা আঞ্চলিক দলগুলি প্রায়শই বিভিন্ন ধরনের নেতার মঞ্চ হয়ে দাঁড়ায়। বিজেপি এবং বাম দলগুলির আলাদা করে চিহ্নিত করার মতো বৈশিষ্ট্য থাকে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিও তেমনই একটা নানা মুনির মঞ্চ হয়ে ওঠে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কে কোন দলে থাকবেন, সব ধোঁয়াশা। মালদহের হবিবপুরের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার একদিন পরেই সরলা মুর্মু বিজেপিতে যোগ দেন। আবার বিজেপির প্রার্থিতালিকায় নাম বেরোনোর পরেই শিখা মিত্র এবং তরুণ সাহা বলে বসেন, তাঁরা বিজেপিতে যোগই দেননি! ভোটে দাঁড়ানোর প্রশ্ন নেই। আসানসোলের জিতেন্দ্র তিওয়ারি শুভেন্দুকে ধরে বিজেপিতে ঢোকার জন্য তৃণমূল ছাড়েন। প্রাথমিক ভাবে ঢুকতে না পেরে মমতার কাছে ক্ষমা চেয়ে তৃণমূলে ফেরেন। কিন্তু গুরুত্ব পাবেন না বুঝে আবার শুভেন্দুকে ধরে শেষমেশ বিজেপিতেই ঢোকেন। আসানসোলের টিকিটও পেয়ে যান। মমতার একদা ছায়াসঙ্গিনী সোনালি গুহও ভিড়ে যান সেই ভিড়ে। এরই মধ্যে আইপ্যাকের পরামর্শে তৃণমূল তাদের অনেক ‘বিতর্কিত’ মুখকে সরিয়ে ফেলে। তৃণমূলেও যোগদান চলে। সেই টানাপড়েনে সিপিএম বিধায়ক রফিকুল ইসলাম মণ্ডল ঢুকছেন তৃণমূলে আর দেবেন্দ্রনাথ মণ্ডল ঢুকছেন বিজেপিতে।
২০২১ সালে তৃণমূল বিপুল ভাবে ক্ষমতায় ফেরার পরে এই দলবদল নাট্যরঙ্গ অবশ্য গতি হারিয়েছে। মুকুল ফিরেছিলেন তৃণমূলে। শারীরিক অসুস্থতা মুকুলকে নতুন কোনও ইনিংসের সুযোগ দেয়নি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন কমে ১৮ থেকে ১২ হয়ে যাওয়ায় তাদের আর তৃণমূল ভাঙার ক্ষমতাও নেই। উল্টে ৭৬ থেকে ১২ জন বিধায়ক হারিয়ে এখন রাজ্য বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৬৪। সর্বশেষ তৃণমূলে গিয়েছেন কার্শিয়াঙের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবার কিছু দলবদলের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ সদ্য রাজ্য সরকারের ‘বঙ্গবিভূষণ’ পেয়েছেন। যে খেলা মুকুল শুরু করে গিয়েছিলেন, সে খেলা ফুরোয়নি এখনও।