কুকীর্তিটা ঢাক পিটিয়ে এ বার থেকে সকলকে জানিয়ে দেওয়া হবে। শাস্তি এটাই। স্থির করেছে ইনদওরের নগর নিগম।

পরিচ্ছন্নতার সমীক্ষায় দেশের শহরগুলির মধ্যে শীর্ষ স্থান পেয়েছে ইনদওর। কিন্তু সে শহরও নিজের রাস্তাঘাটে, হাটবাজারে পানের পিক আর থুতুর ‘দাপট’ কিছুতেই রুখতে পারছে না। অভিনব কৌশল তাই। পানের পিক আর থুতুতে শহরকে অপরিচ্ছন্ন করবেন যাঁরা, তাঁদের ছবি ছাপানো হবে সংবাদপত্রে, নাম-পরিচয় ঘোষিত হবে রেডিওয়। সেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে যাঁরা চান না, তাঁরা পানের পিকে শহর রাঙিয়ে তোলা থেকে বিরত থাকুন— নগর নিগম এমনই বার্তা দিতে চাইছে।

ইনদওর শুধু নয়, পানের পিক আর থুতুর বন্যায় কিন্তু ভাসতে হয় এ দেশের প্রায় সব শহরকেই। পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে আপোস দেখলে আমরা নগর নিগম বা পুর প্রশাসনের বিরুদ্ধে আঙুল তুলি। কিন্তু নিজেরাই সর্বক্ষণ পরিস্থিতিকে আপোসের দিকে ঠেলতে থাকি। নাগরিক হিসেবে যে সব দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালনীয় আমাদের, সে সবের বিষয়ে আমরা উদাসীন থাকি। কিন্তু নানা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে আমরা পাঠাই যাঁদের, তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য অত্যন্ত সুচারু ভাবে পালন করবেন, এমনটাই আমরা আশা করে থাকি। এই আশাটার মধ্যে একটা দ্বিচারিতা রয়েছে। তাই পরিচ্ছন্নতার লক্ষ্যে প্রশাসনকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হয়। রাস্তার ধারে যত্রতত্র প্রস্রাব করার অভ্যাস রয়েছে কারও। কেউ হেলমেট ছাড়া বাইক চালাতে অভ্যস্ত। কারও অভ্যাস যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে দেওয়া। এঁদের বিরুদ্ধে কখনও গাঁধীগিরির পথ নিয়েছে প্রশাসন, কখনও কঠোর পদক্ষেপ করেছে। অর্থাত্ কখনও হেলমেটবিহীন বাইক আরোহীকে পুলিশ ফুল দিয়ে ‘অভ্যর্থনা’ জানিয়েছে। কখনও প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য পথপ্রান্তে দাঁড়িয়ে পড়া নাগরিককে জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু গাঁধীগিরি বা জরিমানা, কোনও পন্থাই পূর্ণ সাফল্য এনে দিতে পারেনি। ইনদওরের অভিনব পন্থাকে তাই স্বাগত জানাতেই হচ্ছে।

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

ইনদওরের পরিস্থিতির কথা একটু বৃহত্তর প্রেক্ষিত থেকে ভাবা যাক। ভারতের ছবিটা আন্তর্জাতিক পরিসর থেকে কেমন দেখতে লাগছে, সে কথা একটু কল্পনা করা যাক। এক সুপ্রাচীন সভ্যতার ভূমি যে ভারত, এক সমৃদ্ধশালী দেশ যে ভারত, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র যে ভারত, প্রগতি এবং অগ্রগতির সূচকে সামনের সারিতে যে ভারত, সেই ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরটিও পানের পিক আর থুতুর দাপটে অতিষ্ঠ। তা হলে অন্য শহরগুলির অবস্থা কেমন হওয়া উচিত? বিশ্ব পরিসরে ভারতের ছবিটাই বা কী রকম দাঁড়াচ্ছে সে ক্ষেত্রে?

আরও পড়ুন: রাস্তায় থুতু ফেললেই খবরের কাগজে ছবি!

ছবিটা যে লজ্জাজনকই হচ্ছে, সে কথা স্বীকার করতে লজ্জিত হওয়া উচিত নয়। নিজেদের অপকীর্তির জন্যই লজ্জিত হওয়া জরুরি বরং। যাঁরা এতেও লজ্জিত হবেন না, তাঁদের লজ্জায় ফেলার জন্য ইনদওরের পৌর প্রতিষ্ঠান যে পদ্ধতি আপন করার কথা ভেবেছে, সে পদ্ধতির প্রতি সমর্থনও ব্যক্ত করা উচিত।

ইনদওর মডেলের দিকে যে গোটা দেশেরই নজর থাকবে, সে কথা বলাই বাহুল্য। এই মডেল সাফল্য পেলে আরও অনেক শহরই ইনদওরের পথই অনুসরণ করবে, এও এখন থেকেই বলে দেওয়া যায়।