×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু

০২ জুলাই ২০১৭ ০০:১০

‘পরিবর্তন’ অবশ্যই

রাষ্ট্রপুঞ্জে ৬৩টি দেশের ৫৫২টি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হল বাংলার ‘কন্যাশ্রী’। এই বিরল সম্মানপ্রাপ্তিতে ভারতবাসী হিসেবে আমরা গর্বিত। অন্তত এক দিনের জন্য রাজনৈতিক আকচাআকচি পাশে সরিয়ে আসুন তাঁদের অভিনন্দন জানাই, যাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে, বিশেষত মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় কন্যাশ্রী প্রকল্পের ব্যাপক সদর্থক প্রভাব দেখা গেছে। এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের কিছু প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে চাইছি।

মুর্শিদাবাদের গ্রামে স্কুলছুটের সংখ্যা ছিল বেশ ভীতিপ্রদ। সেটা অনেকাংশে কমেছে। খুব কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া প্রায় বন্ধ। কিন্তু এ ছাড়াও কিছু ধীর অথচ নিশ্চিত সামাজিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। যেমন, দিলু মণ্ডল বিড়ির কারখানায় কাজ করেন। বড় মেয়েটাকে পড়াননি। চোদ্দো হতে না হতে তার বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলেন। ছোটটা এখন ক্লাস নাইনে পড়ছে। গর্ব হয় দিলুর। স্কুলপড়ুয়া মেয়ের সামনে মদ খেয়ে ঘরে আসতে লজ্জা লাগে। বউয়ের গায়েও হাত তোলেন না আর। নিঃশব্দ পরিবর্তন।

Advertisement

আগে অক্ষরজ্ঞানহীন গরিব মায়েরা মেয়েদের লেখাপড়া শেখার ব্যাপারটা এত গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে পারতেন না। কন্যাশ্রীর এই ধারাবাহিকতা যদি ধরে রাখা যায়, আজ থেকে কয়েক বছর পরে স্কুলে পড়া মেয়েরা যখন কন্যাসন্তানের মা হবে, তখন কিন্তু বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর জন্য আর নতুন কোনও উৎসাহ ভাতা না-ও লাগতে পারে। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, এই প্রকল্প ও তার প্রভাব হয়তো ভবিষ্যতে সমাজতত্ত্ববিদদের গবেষণার বিষয় হবে।

মানস ঘোষ

হাওড়া

পিছনে হাঁটা

পর পর ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আমাদের সমাজের একটি গভীর অসুখের বাড়বাড়ন্ত— অসহিষ্ণুতা। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যূথবদ্ধ হিংস্রতা। শুধুমাত্র সন্দেহ বা ক্ষোভের বশে গণপ্রহারে প্রাণ কেড়ে নেওয়া আজ যেন কোনও ঘটনাই নয় (‘গণরোষের উৎস’, সম্পাদকীয়, ২৬-৬)। এত অসহিষ্ণুতা কেন? মানুষ কি তার ন্যূনতম ধৈর্য-যুক্তি-বুদ্ধি হারিয়েছে? ঘৃণা আজ এতটাই প্রাণঘাতী যে এ ফোঁড়-ও ফোঁড় করে দিতে পারে মানুষকে। স্বীকার করতেই হয়, সমাজ আজ ধর্মীয়, রাজনৈতিক এবং আদর্শগত ভাবে মেরুকৃত। কিছু একটা মনোমত না হলেই চাবকে সিধে করে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। প্রাণঘাতী হিংসা এবং অসহনীয় মনোভাব থাবা বসিয়েছে প্রেম-সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। বর্বর মধ্যযুগের দিকে আমাদের পিছিয়ে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত। চলছে দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার। একমাত্র সুস্থ নাগরিক সমাজই পারে এই পিছনের দিকে হাঁটার প্রবণতাকে রুখে দিতে।

শোভনলাল চক্রবর্তী

কলকাতা-৯৪

বিপন্নই তো!

অতনু পুরকায়স্থ-র (‘একটি বিপন্ন প্রজাতি’, ১৬-৬) লেখাটি সময়োপযোগী এবং যথেষ্ট চিন্তা উদ্রেককারী। আইসিএস বা আইএএস হওয়া মানেই একটি দুর্দান্ত সিলমোহর। ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় আপনি যেখানেই যাবেন, প্রথম পঙ্‌ক্তিতে স্থান পাবেন। তবে সর্বক্ষেত্রে নয়। রৌপ্য গোলক যেখানে প্রথম এবং শেষ কথা, সেখানে আইএএস-এর অ্যাম্বাসাডর গাড়িকে আটকে দেয় নামকরা স্কুলের বিএমডব্লিউ। বাঁকুড়ার জেলা শাসককে মেয়ের গঞ্জনা শুনতে হয়। আইসিএসদের সঙ্গে আইএএস-দের গুলিয়ে ফেললে চলবে না। অবিভক্ত বাংলাকে শাসনে রাখতে আনুমানিক পঁচাত্তর জন আইসিএস ইংরেজকে সাহায্য করতেন। তাঁদের চলাফেরা এবং সামাজিক গতিবিধি পুরোটাই ইংরেজ নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল। এমনকী, এক জন আইসিএস কোন বাড়িতে বিয়ে করতে যাচ্ছেন অথবা কোন কোন নিমন্ত্রণ তাঁরা গ্রহণ করবেন বা করতে পারেন— তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল ইংরেজবাহাদুর। গরমের ছুটি কাটাতে তাঁরা কান্ট্রিতে (ইংল্যান্ড) চলে যেতেন। পরবর্তী কালে আইসিএস-রা যে আইএএস-দের হাতে ব্যাটনটি তুলে দিয়ে গেলেন, তাঁরা যথার্থই উপযুক্ত। দীর্ঘ কাল তাঁরা পূর্বসূরিদের মর্যাদা ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিচ্ছে ইদানীং। সন্দেহ নেই যে, অসম্ভব কৃতী এবং মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাই আইএএস হচ্ছেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমী অফিসার ছেড়ে দিলে অধিকাংশই রাজনীতির দাদা-দিদির আজ্ঞাবাহক হয়ে পড়লেন। অথচ কারও দয়ায় তাঁরা এই চাকরি পাননি। কেন তিনি ন্যুব্জ হয়ে বসে থাকবেন সভার এক কোণে? তা হলে কি সেই পতাকার ভার আমরা আর বহন করতে পারলাম না?

আশার কথা, সবাই তা নন। এর মধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি কিছু সাহসী প্রশাসক এগিয়ে এসেছেন বালি মাফিয়া রুখতে, কেউ বা চোরা কারবারিদের শায়েস্তা করতে। কার্যক্ষেত্রে অনেকে মারা গেছেন। কেউ বা একত্রিশ বার বদলি হয়েছেন আবার কেউ কমপালসরি ওয়েটিং-এ চলে গেছেন অনির্দিষ্ট কালের জন্য। ভাল ছাত্র হলে হয়তো আইএএস হওয়া যায়, কিন্তু তাতে কিছুই যায় আসে না, যদি আমাদের মেরুদণ্ডের ঋজুতা না থাকে।

পরিশেষে, দেখা যায় অন্যান্য পেশায় উত্তরসূরি পূর্বসূরির পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার, উকিলের ছেলে উকিল। কিন্তু এই পেশায় সে রকম কোনও ধারাবাহিকতা খুব একটা নজরে পড়ে না। এত ছেলেমেয়ে তো স্কুল-কলেজ থেকে পাশ করে বেরিয়ে আসছে, কেউ বলছে না তো আমি এন ডি এ-র পরীক্ষায় বসব! রাইটার্স বারে বারে ঘাঁটলেও চট করে পাবেন না এক জন আইএএস-এর ছেলে বা মেয়েও আইএএস হয়েছে।

এক সময় বেসরকারি মাল্টিন্যাশনাল যখন দিচ্ছে হাজার টাকা, তখন এক জন সদ্য আইএএস পাচ্ছেন সাড়ে চারশো। কিন্তু সেই প্রজন্মের কাছে কাজ করেছে পেশার প্রতি আনুগত্য এবং এক প্রচ্ছন্ন অহংকার, যা তাকে মেরুদণ্ড সোজা রাখতে সাহায্য করেছে। মন্ত্রীর চাপ এসেছে, কিন্তু তাঁরা মাথা নোয়াননি। এই হল জাত প্রশাসক। আজকের আইএএস-রা কি সেই প্রজাতির প্রতি সুবিচার করলেন?

সুব্রত চট্টোরাজ

সোনারপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

বাস্তববাদী গাঁধী

অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘শুনেছি দাঙ্গায় সন্তানহারা এক হিন্দু পিতা গাঁধীজিকে প্রশ্ন করেছিলেন, মুসলমানরা তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছে, তিনি কী ভাবে এর প্রতিশোধ নিতে পারেন। গাঁধীজি উত্তর দিয়েছিলেন, দাঙ্গায় নিহত কোনও মুসলমানের অনাথ সন্তানকে প্রতিপালনের দায়িত্ব নিয়ে’ (‘আবেগ মূল্যবান...’, ৬-৬)।

গাঁধীজি আদর্শবাদী হলেও তাঁর আদর্শবাদ বাস্তববোধ-বিরোধী ছিল না। ঘটনাটি সম্পর্কে যা শোনা যায় তা হল, দাঙ্গায় এক হিন্দু পিতা তাঁর শিশুসন্তানকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিতে এক মুসলমান শিশুকে হত্যা করে। ওই হত্যাকারী পিতা অনুতপ্ত হয়ে গাঁধীজির কাছে এসে প্রশ্ন করে, সে কী ভাবে প্রায়শ্চিত্ত করতে পারে। গাঁধীজি বলেন, দাঙ্গায় পিতামাতা হারানো কোনও মুসলমান শিশু খুঁজে তাকে মুসলিম ধর্মের সমস্ত নিয়ম মেনে মুসলমান করেই প্রতিপালন করে। এই উত্তর বাস্তবসম্মত। অনুতপ্ত হত্যাকারী এই উপদেশ পালন করেছিল কি না জানা নেই, কিন্তু পালন করা সম্ভব ছিল।

সুস্মিতা ভট্টাচার্য

কলকাতা-২৬

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

ভ্রম সংশোধন

‘আমার পাড়া’ শীর্ষক লেখায় (কলকাতা উত্তর, ১-৭) পাড়ার নাম ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় স্ট্রিট ছাপা হয়েছে।
সেটি হবে ত্রৈলোক্যনাথ চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিট। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

Advertisement