সম্পাদক সমীপেষু: ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

language

Advertisement

 ‘জয় বাংলা’ এমন একটি স্লোগান, যা পাকিস্তানের ভিত কাঁপিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে তাঁদের মুক্তিসংগ্রামে প্রবল ভাবে প্রেরণা জুগিয়েছিল। এর আগে বাঙালি কখনও এমন তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয়নি, যাতে একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, সংস্কৃতি, দেশ, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ ।
কখন কী ভাবে এই স্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিল তা সুনিশ্চিত ভাবে জানা যায় না। এক সূত্রে বলা হয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে শিক্ষা দিবস (১৭ মার্চ) যৌথ ভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহুত সভায় তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব আহমেদ ও চিশতী হেলালুর রহমান ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি সর্বপ্রথম উচ্চারণ করেন। তবে ১৯ জানুয়ারি ১৯৭০-এ ঢাকা শহরের পল্টনের এক জনসভায় ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খান তাঁর ভাষণে সর্বপ্রথম ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে। যদিও কেউ কেউ বলেন কবি নজরুল ইসলামের লেখা থেকেই ‘জয় বাংলা’ এসেছে।
আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (ছবিতে) ৭ মার্চ ১৯৭১-এ প্রদত্ত তাঁর বিখ্যাত ৭ মার্চের ১৯ মিনিটের ভাষণে বাঙালিকে শোষণের জাঁতাকল ভেঙে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানালেন। ডাক দিলেন ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার। ভাষণ শেষ করলেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে। রেসকোর্স ময়দান থেকে ওঠা এই রণধ্বনি অব্যাহত ছিল মুক্তিযুদ্ধের ন’মাস ধরে। এই স্লোগান বুকে ধরে বাঙালিরা সত্যি করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন।
অথচ এখন ভারত দেশের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে, ইতিহাস-ভূগোল সব আলাদা হয়ে যাওয়ার পরেও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। আমাদের রোজকার জীবনে কোনও দিনও বাংলা ভাষা বা পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে কোন স্বাভিমান দেখালাম না, তার বদলে কত সহজেই হাজার হাজার শহিদের রক্তে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ আমরা নকল করতে চাইছি। এই বিপজ্জনক মূঢ়তার  বিরুদ্ধে ধিক্কার না জানালে ভবিষ্যৎ ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
জয় পশ্চিমবঙ্গ!


দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়
বজবজ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

নবজাগরণ


‘ফের এক ফ্রেমে মুকুল এবং সব্যসাচী’ (৪-৬) শীর্ষক প্রতিবেদন সম্পর্কে সবিনয় নিবেদন, রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত, তৃণমূলের নব-আদি দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে ‘নবজাগরণ’ মঞ্চ তৈরির পিছনেও মুকুলবাবুর হাত রয়েছে। এই তথ্য এবং অভিমতের প্রতিবাদ করছি। ‘নবজাগরণ’ মঞ্চটি গঠনের পিছনে মুকুল রায়ের কোনও হাত নেই। এই মঞ্চে মুকুলবাবুর সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের মানুষ যেমন আছেন, মুকুলবাবুর বিরোধী অনেকেও আছেন। বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের আতিথ্যে বিভিন্ন জগতের কয়েক জন ব্যক্তি বসে ঠিক হয়েছিল, মূলত চলতি পারিপার্শ্বিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার বিরুদ্ধে একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ হবে, যারা বাংলার গর্বের ইতিবাচক দিক ফেরানোর বা সুরক্ষিত রাখার সওয়াল করবে। এর সৃষ্টি বা ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে মুকুল রায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রথম দিনের বৈঠকে উপস্থিত অন্যতম ব্যক্তি অমিতাভ মজুমদারের সঙ্গে মুকুলবাবুর পুরনো সম্পর্ক ছিল। সেই কারণে তাঁর পারিবারিক পুজোর অনুষ্ঠানে মুকুলবাবু উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে ‘নবজাগরণ’-এর কোনও সম্পর্ক নেই। আমি যত দূর জানি, অমিতাভবাবু তৃণমূল বা কংগ্রেসের অনেককেও আমন্ত্রণ করেছিলেন। দয়া করে প্রস্তাবিত সংগঠনের পিছনে মুকুল রায়ের হাত রয়েছে, এমন ধারণাকে প্রশ্রয় দেবেন না। কোন দিন হয়তো শুনব, বিজেপি দলটা তৈরির পিছনেও মুকুল রায় ছিলেন!
আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার দেখা করতে যাওয়া প্রসঙ্গে লাইনটি নিয়ে আমার বক্তব্য: আমি পরিবর্তনের আন্দোলনের এক জন পুরনো দিনের সৈনিক। কোনও ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও কখনও দল ছাড়িনি। বন্দিদশার সময়ও দলকে সাংসদ হিসেবে নির্দিষ্ট সদস্যপদের চাঁদা দিয়ে গিয়েছি। সাংসদ পদের মেয়াদ শেষের পরেও দলবদল বা দল ছাড়ার কথা ভাবিনি। আমার দলের সর্বোচ্চ নেত্রী এবং দলের যুবনেতা, সাংসদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে। বাকিটা সময় বলবে। এইটুকুই।


কুণাল ঘোষ
কলকাতা-৯

 

এও ঐতিহ্য


 ‘অসৌজন্য’ (২-৬) শীর্ষক পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে দু’চার কথা। রাজনীতিতে অসৌজন্যের ইতিহাস এক কথায় দীর্ঘ, এবং ঐতিহ্য বীভৎস, কদাকার। ১৯২৫ সালে ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ, নবাগত হয়েও তিনি ঈর্ষণীয় রেকর্ড স্থাপন করেন। ব্যারাকপুর কেন্দ্রে রাষ্ট্রগুরু স্যর সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যোমকেশ চক্রবর্তীর ন্যাশনালিস্ট পার্টি প্রার্থী হিসাবে ডা. রায় অবতীর্ণ হন। ‘স্বাধীনতার ফাঁকি’ গ্রন্থে (১৩৭৪ বঙ্গাব্দ, পৃ ৯৮) ড. বিমলানন্দ শাসমল লিখেছেন, ‘‘নির্বাচন যুদ্ধে রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেয় করার জন্য একটি পতিতা শ্রেণীর স্ত্রীলোক যোগাড় করে সভায় সভায় সুরেন্দ্রনাথের তথাকথিত যৌন বিকৃতির সাক্ষী খাড়া করা হয়। এই জঘন্য উপায়ে জনতা মহারাজের চিত্তজয় করে বিধানচন্দ্র রায় সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীকে নির্বাচনে হারিয়েছিলেন।’’
১৯৪৬ সালে বোম্বে প্রেসিডেন্সি থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ড. ভীমরাও অম্বেডকরের সংবিধান সভায় নির্বাচনের ঘোর বিরোধিতা করেছিল। সর্দার বল্লভভাই পটেল তো সদম্ভে ঘোষণাই করেছিলেন, আমরা সংবিধান সভার দরজা-জানালা পর্যন্ত বন্ধ করে ফেলেছি, দেখি তিনি কোন পথে সেখানে প্রবেশ করেন? এই পটভূমিতে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের আহ্বানে যশোহর-খুলনা (বর্তমান বাংলাদেশ) কেন্দ্র থেকে অম্বেডকর সংবিধান সভার নির্বাচনে প্রার্থী হন। তাঁকে পরাজিত করতে কংগ্রেস দল সব রকম উপায় বার করেও সফল হয়নি। একদল অসামাজিক গুন্ডা রংপুরের এমএলএ গয়ানাথ বিশ্বাসকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়, যাতে তিনি অম্বেডকরকে ভোট দিতে না পারেন। যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের হস্তক্ষেপে মুসলিম লিগ সরকার তৎপরতার সঙ্গে পুলিশ দিয়ে ভোটের আগেই তাঁকে উদ্ধার করে কলকাতায় নিয়ে আসেন। বাংলা থেকে সবচেয়ে বেশি (সাত) ভোট পেয়ে অম্বেডকর সংবিধান সভায় নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে তাঁকে হারানোর সব অপচেষ্টা 
বিফল হয়েছিল।


অতুলকৃষ্ণ বিশ্বাস
কলকাতা-৫২ 

 

আবার এও


১৯৮৯। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বহরমপুর পুরসভা ভেঙে দিয়েছে। নিয়োগ হয়েছে প্রশাসক। তৎকালীন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বহরমপুরে গিয়েছেন। কংগ্রেস পার্টি অফিসে তখন সাংসদ অতীশচন্দ্র সিংহ উপস্থিত। কংগ্রেসের কিছু কর্মী-সমর্থক বুদ্ধবাবুকে কালো পতাকা দেখাবে বলে অতীশবাবুর কাছে দাবি জানান। তিনি পরিষ্কার বলেন, কেউ কালো পতাকা দেখালে তিনি নিজে পুলিশে খবর দেবেন।
১৯৮৪-৮৯। বহরমপুরের সাংসদ অতীশবাবু। এক বার তিনি নওদায় এলে কংগ্রেসের কিছু কর্মী-সমর্থক তাঁকে দলীয় ছেলেদের চাকরির ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস করলেই চাকরি হবে, তা কী করে হয়? আপনারা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় বসুন। আপনার চেয়ে কম নম্বর পেয়ে কেউ চাকরি পেলে বলবেন, আমি সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই লড়ব।
এই সৌজন্য ও সততা এখন কি আর আশা করা যায়?


কৈলাসপতি মণ্ডল
কলকাতা-২৮

Advertisement

আরও পড়ুন
বাছাই খবর
আরও পড়ুন