সুবিমল ভট্টাচার্যের ‘বীরেন্দ্রকৃষ্ণ মহানুভব’ (২২-১০) শীর্ষক চিঠি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। কিন্তু আমি একটু অবাক হয়েছি পড়ে, যে, ১৯৭৬ সালে জরুরি অবস্থার কারণে ভারত সরকার কর্তৃক অন্যায় কর্তৃত্ব জাহির করার দরুন ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নামক অনুষ্ঠানটি সে বছর বাদ দেওয়া হয়েছিল। এই তথ্যটি পত্রলেখক কোথা থেকে পেয়েছেন, কী ভাবে পেয়েছেন, জানতে পারলে খুশি হতাম।

১৯৬৯-৭০ সালে বাণীকুমার (মহিষাসুরমর্দিনীর রচয়িতা ও প্রযোজক) ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র অবসর গ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিচালক পঙ্কজ মল্লিক কিন্তু আকাশবাণীতে চাকরি করতেন না। মহিষাসুরমর্দিনীটি আকাশবাণীর নাট্য বিভাগের সহযোগিতায়, সঙ্গীত বিভাগ পুরোপুরি প্রযোজনার দায়িত্বে ছিল। এক সময় ভাবা হল, এই অনুষ্ঠানটির একটু পরিবর্তন করলে কেমন হয়, অবশ্যই বীরেনদা ও বাণীদাকে অসম্মান করে নয়।

তখন মিউজ়িক প্রোডিউসার ছিলেন অসীমা মুখোপাধ্যায়। ওঁর সঙ্গে উত্তমকুমারের সম্পর্ক খুব ভাল ছিল, অসীমাদির চেষ্টায় উত্তমকুমার ওই অনুষ্ঠানে যেতে রাজি হন। আমরা ভাবলাম এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহানায়কের কণ্ঠস্বর আকাশবাণীতে থেকে যাবে। যাকে বলা হয় আর্কাইভ ভ্যালু। মহানায়ক ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল ‘নতুনত্ব’ ও ‘গ্ল্যামার’ দুটোই হবে, কিন্তু অনুষ্ঠানটি সফলতা পায়নি, কিন্তু এই পরিবর্তনের প্রচেষ্টা এবং তার বিফলতায় বীরেনদার পপুলারিটি শত গুণ বৃদ্ধি পেল। বীরেনদা প্রায় ভগবানের আসনে বসে গেলেন। সমুদ্রে একটা ছোট ঢেউয়ের পর বড় ঢেউটা যেমন বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়। অনেকটা সেই রকম।

আমি এত কথা লিখলাম কারণ ১৯৫৬ থেকে ১৯৮৮ সাল আমি আকাশবাণীর নাট্য বিভাগে কাজ করেছি। বীরেনদার কাছে হাতেকলমে কাজ শিখেছি, ফলস্বরূপ আকাশবাণী থেকে পাঁচশোর বেশি নাটক প্রযোজনা করেছি। আমি আকাশবাণীতে বীরেনদা ও বাণীদার পাশাপাশি ১৪ বছর চাকরি করেছি। এই মহালয়ার মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে নানা ভাবে আমিও যুক্ত ছিলাম। ১ নম্বর গারস্টিন প্লেসে ১৯ বছর বয়সে নাট্যবিভাগে যোগদান করি। ১৯৮৮ সালে দূরদর্শনে চলে যাই। এখন আমার বয়স একাশি বছর।

অজিত মুখোপাধ্যায়

পটেল, নেতাজি

১৯৩৩ সালের ২২ অক্টোবর মারা যান ব্রিটিশ ভারতের এক প্রধান রাজনৈতিক নেতা বিঠলভাই পটেল। বিঠলভাই ছিলেন মতিলাল নেহরু এবং চিত্তরঞ্জন দাশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্বরাজ পার্টির এক প্রধান নেতা। তিনি আবার সুভাষচন্দ্র বসুর গুণমুগ্ধ ছিলেন, এবং ওই ১৯৩৩ সালের গোড়ার দিকেই বিঠলভাই ও সুভাষচন্দ্র একযোগে একটি ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেন, যার নাম ছিল ‘প্যাটেল-বোস’ ম্যানিফেস্টো। মৃত্যুর আগে বিঠলভাই একটি উইল করে যান, তাতে তিনি সুভাষচন্দ্রকে বিপুল অর্থ দান করে যান, রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপের জন্যে তা খরচ করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিঠলভাইয়ের পরিবার আদালতে সেই উইলকে চ্যালেঞ্জ করেন, এবং সুভাষচন্দ্র একটা পয়সাও পাননি। বিঠলভাইয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে যাঁরা আদালতে সেই উইলকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিঠলভাইয়ের ছোট ভাই— বল্লভভাই পটেল।

এ বার ইতিহাসের আর একটি অধ্যায়ের প্রতি দৃষ্টি ফেরানো যাক। ১৯৩৯ সালের ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন— পট্টভি সীতারামাইয়ার থেকে ২০৩ ভোট বেশি পেয়ে সুভাষচন্দ্র জয়লাভ করেন। তার আগে অবশ্য সুভাষচন্দ্র যাতে নির্বাচনে না দাঁড়ান, সেই মর্মে সুভাষচন্দ্রের দাদা শরৎচন্দ্রকে একটি চিঠি লিখেছিলেন এক জন— তিনি হলেন সেই বল্লভভাই পটেল। শুধু তা-ই নয়, সুভাষচন্দ্র নির্বাচিত হওয়ার পর, ১৯৩৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদকে একটি চিঠি লিখে বল্লভভাই জানান যে সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব। তার কয়েক দিন পরেই, ১৯৩৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, ওয়ার্ধায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল কংগ্রেস দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক, সেই বৈঠকে অসুস্থতার কারণে যোগ দিতে পারেননি সুভাষচন্দ্র, তিনি অনুরোধ করেছিলেন বৈঠক পিছিয়ে দিতে। তখন সুভাষচন্দ্রকে চাপে ফেলতে ওয়ার্কিং কমিটির অধিকাংশ সদস্য পদত্যাগ করেন, আর সেই পদত্যাগীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আবার সেই বল্লভভাই।

তবে এই ঘটনাক্রমের একটা অন্য ইতিহাসও আছে। বল্লভভাইয়ের নেতৃত্বে ওয়ার্কিং কমিটির অধিকাংশ সদস্য পদত্যাগ করলেও করেননি দু’জন সদস্য— তাঁদের এক জন সুভাষচন্দ্রের দাদা শরৎচন্দ্র, কিন্তু আর এক জন কে? তিনি হলেন বিঠলভাইয়ের স্বরাজ পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মতিলাল নেহরুর পুত্র জওহরলাল নেহরু। বল্লভভাই সরাসরি সুভাষচন্দ্রের বিরোধিতা করতে চাইলেও জওহরলাল করেননি, বরং গাঁধীকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন যে তিনি পদত্যাগ করার কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। জওহরলাল পদত্যাগ করেননি বলে বল্লভভাই এবং অন্যরা জওহরলালের ওপর বিস্তর চটে গিয়েছিলেন, এবং তাঁরা দু’টি গাড়ি নিয়েই সভাস্থল থেকে চলে গিয়েছিলেন। ফলে জওহরলালকে সেখান থেকে পাঁচ মাইল হেঁটে ফিরতে হয়েছিল।

বর্তমান ভারতের এক মাননীয় নেতা সুভাষচন্দ্রের মতো টুপি পরে সুভাষচন্দ্রের প্রতি ঘটে যাওয়া নানান অবিচারের প্রসঙ্গ এনেছেন। আবার তিনিই বল্লভভাই পটেলের মূর্তি উন্মোচনও করেছেন। কিন্তু কোথাও তাঁকে এটা বলতে শুনিনি কেমন করে বারংবার বল্লভভাই পটেল সুভাষচন্দ্রের পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন। জওহরলাল শেষ পর্যন্ত চেয়েছিলেন সুভাষচন্দ্রের সঙ্গ, কৃষ্ণ মেননকে লিখেছিলেন যে সুভাষচন্দ্র ঐক্যের ব্যাপারে খুব উৎসাহী, এবং প্রায় মরিয়া হয়ে গাঁধীকে লিখেছিলেন সমাধানের জন্যে। যদিও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জওহরলালের সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের ব্যাপক মতবিরোধ ঘটেছিল, সুভাষচন্দ্রের প্রতি জওহরলালের যে ব্যক্তিগত অপছন্দ ছিল না তা বলাই বাহুল্য। তবু, কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সুভাষচন্দ্র বিষয়ে বলতে গিয়ে বল্লভভাই সম্বন্ধে নীরব থেকে বর্তমান ভারতের সেই নেতা পরোক্ষে জওহরলালকেই নিশানা করেছেন, যা বিস্ময়কর।

সন্দীপন সেন

কলকাতা-৫

বলল, বললেন

রবিবাসরীয়তে ধারাবাহিক উপন্যাসের পর্ব ১৪-তে (১১-১১) হাসপাতালের দৃশ্যে, লেখক ডাক্তারদের বেলায় ‘বললেন, করলেন, দেখলেন’ ইত্যাদি শব্দ প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু সিস্টার বা নার্সিং স্টাফদের ক্ষেত্রে ‘বলল, করল, দেখল’। এটা অভিপ্রেত নয়।

শিশির কুমার তপস্বী

বোড়াল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা-৯৭

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।