সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: বিদ্যুতের এই বিল?

Protest

যা মিটার রিডিং হবে, ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ খরচের হার হিসেবে তার বিল হবে। এতে অস্বচ্ছতার কোনও জায়গা নেই। দু-এক জন গ্ৰাহকের ক্ষেত্রে ভুল হলেও হতে পারে। কিন্তু লাখখানেক গ্ৰাহকের একসঙ্গে পাঁচ-ছ’গুণ বেশি বিল! 

সিইএসসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এপ্রিল-মে মাসে লকডাউনের কারণে মিটার রিডিং নেওয়া যায়নি। তখন গড় বিল পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু যে হেতু এপ্রিল-মে মাসে বিদ্যুতের গড় খরচ অনেক বেশি হয়, তাই জুন মাসের বিলে সেই বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ ইউনিট জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি খরচ কত, জুন মাসের রিডিংয়েই তো সেটা ধরা পড়বে। রিডিং অনুযায়ী বিল হলে সেটা যুক্তিসঙ্গত ব্যাপার। কিন্তু এপ্রিল-মে মাসের প্রকৃত বিদ্যুৎ খরচ কি গড় বিদ্যুৎ খরচের থেকে পাঁচ-ছ’গুণ বেশি হতে পারে?

নিঃসন্দেহে, আমপানে সিইএসসি-র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার জন্য সিইএসসি-গ্রাহককে যথেষ্ট আর্থিক দায়ভারও বহন করতে হয়েছে। যে কোনও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহকারী সংস্থাকে নিজস্ব তহবিলে এই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার জন্য আর্থিক সঙ্গতি রেখেই ব্যবসা চালিয়ে যেতে হয়। সেই সঙ্গতি না রেখে, বা সংস্থার আর্থিক নীতিতে পরিবর্তন না করে হঠাৎ গ্ৰাহকদের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হল।

প্রণব রাহা, দুর্গাপুর-৪

 

বেহাল নিকাশি

কলকাতা পুরসভার ১১ নং বোরো-র ১১৩ নং ওয়ার্ডটি টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। বাঁশদ্রোণীর এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা গত ২৬ বছর ধরে জলনিকাশির অব্যবস্থাতে নরকযন্ত্রণা ভোগ করছেন। সামান্যতম বৃষ্টিতে ওয়ার্ডের বেশির ভাগ অংশই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বাঁশদ্রোণীর সত্যজিৎ পার্ক, প্রফুল্ল নগর, নিরঞ্জন পল্লি (কংগ্রেস নগর), সোনালি পার্ক-সহ বিভিন্ন পাড়ায় গুটিকতক পাম্প মেশিন চালিয়ে এ দিকের জল ও দিকে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা চলে। টালিগঞ্জ থেকে নিউ গড়িয়ামুখী মেট্রোর সম্প্রসারণের ফলে টালিনালা গভীরতা হারিয়ে সঙ্কীর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ কাল যাবৎ টালিনালা সংস্কারহীন। এখন সে আর সামান্যতম জলভার বহন করতে পারে না। আবার বাঁশদ্রোণীর দক্ষিণাংশে রানিয়াখালি এখন অবলুপ্তপ্রায়। কেওয়াপুকুর খালের অবস্থাও সঙ্গিন। মৃতবৎ খালগুলির জলবহন করার ক্ষমতা না থাকায় ১১৩ নং ওয়ার্ডটি জলমগ্ন হয়। ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ সাম্প্রতিক লকডাউন। কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে ১১৩ ও পার্শ্ববর্তী ১১৪ নং ওয়ার্ডে যে সব ভূগর্ভস্থ জলনিকাশি নালাগুলির সংস্কারের কাজ চলছিল, সেগুলি অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই বন্ধ হয়ে যায়। জমা জলে নাওয়া-খাওয়া লাটে ওঠার অবস্থা, খাট-তক্তপোশই এখন গৃহস্থের আশ্রয়স্থল। করোনা অতিমারির সঙ্গে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার আতঙ্ককে সঙ্গী করে আমরা আর কত দিন দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করব? 

রাজীব মিত্র, কলকাতা-৭০

 

যানসমস্যা

আনলক পর্বে গণপরিবহণে যাতায়াত করার সময় শারীরিক দূরত্ববিধি কোনও ভাবে মানা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমিতের সংখ্যা। এর জন্য প্রধানত যানবাহনেরই অভাবই দায়ী। এখন করোনা থেকে বাঁচার জন্য যেমন দূরত্ববিধি মানা প্রয়োজন, পেটের তাগিদে তেমন কর্মক্ষেত্রে যাওয়াও প্রয়োজন। এই যানবাহনের সমস্যা থেকে বাঁচতে যদি পরীক্ষামূলক ভাবে স্বল্প দূরত্বে কিছু লোকাল ট্রেন চালানো যায়, তবে কিছুটা সুরাহা হলেও হতে পারে। যেমন, শেওড়াফুলি-হাওড়া, উলুবেড়িয়া-হাওড়া, ডানকুনি-হাওড়া, বালিঘাট-শিয়ালদহ, সোনারপুর-শিয়ালদহ ইত্যাদি। এর জন্যে শুধুমাত্র মাসিক টিকিটই থাকবে, দৈনিক টিকিট নয়। সকাল ও বিকাল থেকে আধ ঘণ্টা অন্তর এবং বাকি সময় এক ঘণ্টা অন্তর এই ট্রেনগুলো চালানো যেতে পারে।

অশোক দাস, রিষড়া, হুগলি

 

বিপজ্জনক রাস্তা

বেশ কয়েক দিন জাতীয় সড়ক দিয়ে বর্ধমান-দুর্গাপুর যাতায়াতের কারণে দেখতে পেলাম রাস্তাটি বেশ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে পানাগড় থেকে গলসি, বুদবুদের মধ্যে রাস্তার দু’দিকে অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত। যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জানি না সমগ্র জাতীয় সড়কেরই এই দুরবস্থা কি না। আগে দেখেছি জাতীয় সড়ক খারাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হত। এখন কোনও আগ্রহ দেখা যায় না। 

টোল ট্যাক্স সংগ্রহে কিন্তু কোনও খামতি নেই। মানুষ টোল ট্যাক্স দিচ্ছেন, অথচ যাতায়াতযোগ্য সুষ্ঠু জাতীয় সড়ক পরিষেবা পাচ্ছেন না। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনও সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটবে।

শুভ্রাংশু বসু, শ্রীপল্লি, পূর্ব বর্ধমান

 

মিলন বাজার

বিধাননগর পুরসভা থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, পুরসভার ভিতরের বাজারগুলো পরিশুদ্ধ করা হবে। কৃষ্ণপুর মেন রোডের ওপর সমরপল্লি-সংলগ্ন একটি স্থায়ী বাজারের নাম মিলন বাজার। আনাজপাতি-মাছ-মুদি দোকান আছে একতলায়। দোতলায় আছে কৃষ্ণপুর ডাকঘর, আয়া সেন্টার, কেবল টিভির অফিস। তিনতলায় অনুষ্ঠান বাড়ি, যা এখন বন্ধ। এই অঞ্চলের ব্যস্ত ডাকঘর, মিলন বাজারের ডাকঘর। বিশেষত মাসের প্রথম ক’টা দিন ডাকঘর ভরে থাকে পেনশনভোগী বরিষ্ঠ নাগরিকের ভিড়ে। এ ছাড়া আমানত-চিঠিপত্র আদান-প্রদান, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজেও গ্রাহকদের যেতে হয়। লকডাউনের মধ্যেও নিরলস ভাবে কাজ করেছেন ডাকঘরের কর্মীরা। 

কিন্তু বাজারটি নিকট অতীতে জীবাণুমুক্ত করা হয়নি। মাছ বাজারের পিছনের জায়গা উচ্ছিষ্টে ভরে আছে, দোতলায় ডাকঘরে ওঠার সিঁড়ি ভাঙা। দু’ধারের দেওয়ালে কোনও হাতল নেই। বেঁচে থাকার শংসাপত্র সশরীরে জমা দেওয়ার জন্য বৃদ্ধ পিতাকে প্রায় কোলে তুলে নিয়ে যেতে হয়েছিল। সুরাহার আবেদন করছি।

পার্থ দত্ত, কলকাতা-১০২

 

বিদ্যাসাগর

এই বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০০-তম জন্মবার্ষিকী চলছে। আগামী ২৯ জুলাই তাঁর ১৩০-তম মৃত্যুবার্ষিকী। সরকারের কাছে অনুরোধ, যেন ওই দিন লকডাউন বাতিল করে অন্য দিন ধার্য করা হয়, যাতে রাজ্যের ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক-সাধারণ মানুষ দূরত্ববিধি বজায় রেখে বিদ্যাসাগরের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

নিখিল কবিরাজ, সহকারী শিক্ষক, চাঁদমারী দেশপ্রিয় শিক্ষায়তন

 

ভর্তির গেরো

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে পূর্ব মেদিনীপুরের সাফল্য নিয়ে যখন চর্চা চলছে, তখনই জেলার স্কুল ও কলেজগুলো সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অফলাইনে ভর্তির নির্দেশ দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ভর্তির ফি গ্রামাঞ্চলের স্কুলে ২৪০ টাকা এবং শহরের স্কুলে ২৯৫ টাকা হলেও স্কুলগুলি ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা দাবি করছে। দু’-তিন জন অশিক্ষক কর্মচারী দিয়ে ফর্ম ভরার যাবতীয় কাজ করানো হচ্ছে। সাইবার কাফে, ফটোকপি করার দোকানে ঠাসাঠাসি ভিড়। অভিভাবকেরা স্বাস্থ্যবিধি ভুলে অতিরিক্ত ভর্তি ফি কমানোর দাবিতে কোথাও কোথাও বিক্ষোভ শুরু করেছেন। জেলা স্কুল পরিদর্শক, প্রধান শিক্ষকেরা নীরব দর্শক।

স্বপন জানা, পূর্ব মেদিনীপুর

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন