সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

৪০ দিন পর জেল থেকে বেরচ্ছি! ফের যাব কানপুর আইআইটি-র ক্যাম্পাসে

এই লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের থেকে তাঁদের অবস্থার কথা, তাঁদের চারপাশের অবস্থার কথা জানতে চাইছি আমরা। সেই সূত্রেই নানান ধরনের সমস্যা পাঠকরা লিখে জানাচ্ছেন। পাঠাচ্ছেন অন্যান্য খবরাখবরও। সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন, এবং অবশ্যই আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা ম‌‌নোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি।

main
ছবি- সুমিতা ঘোষদস্তিদার ও লেখক।

অধ্যাপনার সূত্রে আইআইটি কানপুরে বসবাস সাড়ে তিন দশক হয়ে গেল। কখনও ভাবিনি দিনের পর দিন গৃহবন্দি জীবন কাটাতে হবে। ‘করোনাভাইরাস’– নামটা উচ্চারণ করতেও ভয় লাগে। খবরের কাগজ, টিভি, ফেসবুক, হোয়াটস্‌অ্যাপ, সব জায়গায় শুধুই মৃত্যু-মিছিলের সংবাদ।

এখন আমাদের দেশেও কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের ছবির মতো সুন্দর ক্যাম্পাস ছাত্রছাত্রীহীন ও জনশূন্য। হস্টেল খালি। যে রাস্তা তরুণ, তরুণীর কলকাকলিতে থাকত মুখরিত, তা এখন খাঁ খাঁ করছে। শুধুই দেখা যাচ্ছে, মুখে মাস্ক-পরা পুলিশকর্মীরা পাহারারত। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘বিরস দিন’!

বহু দিন আগে একটি ফরাসি ছবিতে দেখেছিলাম ইঁদুরদের উপর শক ট্রিটমেন্টের একটি দৃশ্য। খাঁচার তারে অল্প বিদ্যুৎ পাঠানো হচ্ছে।  প্রথমে হতভাগ্য প্রাণীগুলি কিছু ক্ষণ ছটফট করল। তার পর স্থির হয়ে রইল। করোনাবন্দি আমাদের অবস্থাও একই রকম। আমাদের এই নিদারুণ করুণ সময় আমরা এখন মেনে নিয়েছি। 

কী রকম দিন কাটছে আমাদের আইআইটি কানপুরে? বাইরে যাওয়া একেবারেই বন্ধ। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পেতে হোয়াটস্অ্যাপের মাধ্যমে অথবা অনলাইনে দোকানের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।  তার এক দিন বা দু’দিনের মধ্যে পুলিশ মারফত অত্যাবশ্যকীয় জিনিস বাড়িতে পৌঁছচ্ছে। ওষুধপত্রও হোম ডেলিভারিতে আসছে।

আরও পড়ুন: কোন জেলায় করোনা আক্রান্ত কত, মৃত কত, তালিকা দিল রাজ্য সরকার

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় সহায়তা চায় তৃণমূল, বিজেপি রাজ্যে

দিনের বেলা ছাত্রদের অনলাইনে পড়াচ্ছি। এমটেক এবং পিএইচডি ছাত্রদের ই-মেলে গাইড করছি। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আর কি! তার পরেও হাতে থাকছে অনেকটা সময়। বিভূতিভূষণের মতো প্রকৃতিপ্রেমিক হলে সারা দিন-রাত বাড়ির বাগানেই কাটিয়ে দিতাম। তবুও বারান্দায় এসে বসি। দেখি রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুল এসেছে। গোলাপ, করবী ও ডালিয়া সকালের নতুন রোদ গায়ে মেখে আনন্দে উদ্ভাসিত। আম গাছে উঁকি মারছে খোকাখুকি আম।  এক মনে এক পাগল কোকিল গান গেয়ে চলেছে। প্রকৃতির ভান্ডারে আনন্দের খামতি হয়নি। হঠাৎই চোখে পড়ল আমাদের বাংলোর উল্টো দিকের জঙ্গলে লাজুক ভঙ্গিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে দু’টি নীলগাই। সঙ্গে সঙ্গে আমার স্ত্রীর ক্যামেরায় ক্লিক! 

কে বলবে এটা ভারতের অন্যতম দূষিত শহর কানপুর? খাঁ খাঁ করছে বটে, তবু দেখা যাচ্ছে নীলগাই! ছবি- সুমিতা ঘোষ দস্তিদার ও লেখক।

করোনাভাইরাস কিন্তু আমার সাহিত্যপাঠে থাবা বসাতে পারেনি।  জীবনে এই প্রথম মোবাইল ফোনে উপন্যাস পড়লাম কিন্ডল ক্লাউড অ্যাপ ডাউনলোড করে। আমার প্রিয় ‘দেশ’ পত্রিকাও এখন পড়তে পাচ্ছি সেল ফোনে। ভাবা যায়!

কয়েক দিন আগের ঘটনা। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বাইরের ঘরে এসে বসেছি। হঠাৎ চোখে পড়ল জানালার শিকে কি যেন ঝুলছে।  সামনে গিয়ে দেখি, একটা পাখির বাসা। সেটার থেকে একটা ছোট্ট মা-পাখি এক বার বেরচ্ছে আর এক বার ঢুকছে। ভিতরে দেখা যাচ্ছে ডিম।

করোনাভাইরাস মানুষের জীবনকে থমকে দিয়েছে বটে, কিন্তু মহাজীবন বয়ে চলেছে তার নিজের নিয়মে। শেষ হাসি হাসবে জীবনই। মৃত্যু নয়। এইমাত্র খবর পেলাম, আগামী কাল থেকে আমরা আবার অফিসে যেতে পারব। কারণ, আমাদের ক্যাম্পাসকে গ্রিন জোনের তকমা দেওয়া হয়েছে। চল্লিশ দিনের জেল থেকে অবশেষে মুক্তি। আহ!

পার্থসারথি ঘোষদস্তিদার, অধ্যাপক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, আইআইটি কানপুর।

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন