E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: নতুন সম্ভাবনা

বর্তমান ভারতে গণতন্ত্র, মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের আধিপত্যবাদ— এই সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে সংগঠিত পথে আন্দোলনে জেন-জ়ি’র উল্লেখযোগ্য ভূমিকা কিন্তু এখনও চোখে পড়ে না।

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০৭:৪০

শুভময় মৈত্রের লেখা ‘ভারতের জেন-জ়ি মুহূর্ত?’ (১০-৬) প্রবন্ধটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। তবে এই প্রবণতার প্রভাব এখনও সীমিত। ভারতের রাজনীতিতে জেন-জ়ি এখনও তেমন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠেনি। কেন তা হয়নি, তার ব্যাখ্যাও প্রবন্ধে রয়েছে।

ইতিহাস সাক্ষী, প্রায় সব দেশ ও কালেই তরুণ প্রজন্ম বিদ্রোহ ও বিপ্লবের সূচনা করেছে। সেই অর্থে আধুনিক জেন-জ়ি’র নতুন ভাবনা ও তা প্রয়োগের সাহস থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমান ভারতীয় জেন-জ়ি’র মানসিক জগৎ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এঁদের একটি বড় অংশ উচ্চবিত্ত, উচ্চশিক্ষিত, তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর এবং আপাত বিশ্বনাগরিক। অথচ তাঁদের যৌবনের ভাবনা অনেকাংশেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও স্থানীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ। বর্তমান ভারতে গণতন্ত্র, মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের আধিপত্যবাদ— এই সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে সংগঠিত পথে আন্দোলনে জেন-জ়ি’র উল্লেখযোগ্য ভূমিকা কিন্তু এখনও চোখে পড়ে না। কৃষি, শিল্প বা পরিষেবা ক্ষেত্রেও জনস্বার্থভিত্তিক আন্দোলনে তাঁদের উপস্থিতি তেমন নেই বললেই চলে। বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্নের তুলনায় ব্যক্তিগত বা তাৎক্ষণিক স্বার্থই যেন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ কথা ঠিক, তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে এই প্রজন্ম খুব দ্রুত নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মসূচি সংগঠিত করতে পারে। তাঁদের নেতার অভাব নেই। কিন্তু নৈতিক নেতৃত্ব অর্জন করা সহজ হচ্ছে না। ফলে এই উদ্যোগগুলি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক বা নাগরিক আন্দোলনের রূপ নিতে পারছে না। জেন-জ়ি যদি নিজেদের সংগঠিত করে সামাজিক ও রাজনৈতিক ন্যায়ের পক্ষে মানবতাবাদী আন্দোলনে শামিল হন, তা হলে তাঁরা অবশ্যই নতুন পথ দেখাতে পারেন। বস্তুত, অভিজ্ঞ ভারতীয় সমাজ ও নাগরিকরা আজ সেই সম্ভাবনার দিকেই তাকিয়ে।

শুভ্রাংশুকুমার রায়, চন্দননগর, হুগলি

ক্ষোভের ভাষা

শুভময় মৈত্রের লেখা ‘ভারতের জেন-জ়ি মুহূর্ত?’ শীর্ষক প্রবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে আমার এই চিঠি। ভারতীয় যুবসমাজের ক্রমবর্ধমান হতাশারই প্রতিফলন আজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। সিজেপি-র অতি দ্রুত জনপ্রিয়তা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাক্ষয়— সব মিলিয়ে এক প্রজন্মের মনে জন্ম নিয়েছে অবহেলা ও বঞ্চনার অনুভূতি। তাঁদের বিশ্বাস, রাষ্ট্র ও সমাজ তাঁদের কথা শুনছে না। সিজেপির কর্মকাণ্ড কিন্তু সেই ক্ষোভকেই ভাষা দিয়েছে।

এই অনুষঙ্গে নেপালের সাম্প্রতিক জেন-জ়ি আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করা প্রয়োজন। দেখা গিয়েছে, সাধারণ নাগরিককে অপমান করা হয়তো সম্ভব, কিন্তু তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করা ততটা সহজ নয়।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আদৌ কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হবে, না কি আন্তর্জাল-নির্ভর প্রতিবাদ আন্দোলন হিসাবেই থেকে যাবে, তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, সিজেপি তরুণ প্রজন্মের এক গভীর ক্ষোভ, বঞ্চনা ও অসন্তোষকে প্রকাশ্যে এনেছে। সেই বার্তাকে উপেক্ষা না করে তার অন্তর্নিহিত কারণগুলি বোঝার চেষ্টা করাই যুক্তিযুক্ত।

প্রদীপকুমার সেনগুপ্ত, ব্যান্ডেল, হুগলি

গুরুত্বহীন নয়

প্রেমাংশু চৌধুরীর “‘আরশোলা’দের পাশে বিরোধীরাও, নজর রাখছে বিজেপি” (৭-৬) শীর্ষক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে কিছু কথা। প্রতিবেশী দুই দেশের অভিজ্ঞতা এবং সমাজমাধ্যমে সিজেপি-র দ্রুত জনপ্রিয়তা দেখে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়াই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশ বা নেপালের সঙ্গে তুলনা করলে ভারতের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই সমাজমাধ্যমে প্রশাসনের সমালোচনামূলক ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ বা মিম তৈরির মাধ্যমে অন্য কোনও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার দেশের মতো ভারতের বিপুল ও বৈচিত্রময় জনসংখ্যার দেশে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করা কার্যত অসম্ভব।

সাময়িক ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে শহুরে তরুণ-তরুণী বা ছাত্রছাত্রীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করতেই পারেন। কিন্তু শুধুমাত্র সমাজমাধ্যমকে হাতিয়ার করে নির্বাচনের বাইরে সরকারের পরিবর্তন ঘটানো তাঁদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।

তবে সিজেপি-র আন্দোলনের পদ্ধতির সঙ্গে সহমত না হলেও তাদের উত্থাপিত বেশ কয়েকটি দাবির যৌক্তিকতাকে অস্বীকার করা যায় না। বিশেষ করে, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বার বার ফাঁস হওয়া কোনও ভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর পরিশ্রম, ভবিষ্যৎ এবং গোটা পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিজেপি-র বিক্ষোভের অন্তর্নিহিত বার্তাটি উপলব্ধি করবেন। সেই শিক্ষা থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা ও চাকরির পরীক্ষায় আরও কঠোর নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ করা হবে। তা হলে কোনও দমনপীড়নের প্রয়োজন হবে না। ভয়হীন সেই ভরসাটুকুই তো আজ সবচেয়ে বেশি প্রার্থিত।

কৌশিক চিনা, মুন্সিরহাট, হাওড়া

কসরত

আকাশের প্রবন্ধ ‘শরীরচর্চা কি লক্ষ্যভ্রষ্ট’ (১২-৬) সময়োপযোগী। বাস্তবিক কেউই এখন আর মাঠে নেমে খেলাধুলা, দৌড় বা কসরতে বিশ্বাসী নয়। অথচ ছাত্রবয়সে আমরা মাঠে-ময়দানে খেলার উৎসাহ বেশি পেয়েছি। মাঠে না খেললে, পাঁচ জনের সঙ্গে না মিশলে শারীরিক ক্ষমতা বাড়ে না। এই কারণেই গ্রামের মানুষদের ক্ষমতা শহরবাসীর চেয়ে বেশি। আজও যাঁরা কোনও স্পোর্টসের সঙ্গে যুক্ত, যেমন— ফুটবল, হকি বা অ্যাথলেটিক্স, নিঃসন্দেহে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত জিমে যাতায়াতকারীদের চেয়ে বেশি। এতে ক্রীড়াসুলভ মনোভাবেরও বিকাশ হয়, যা জীবনে চলার পথে খুব প্রয়োজন। এ কারণেই এক সময় আখড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে খেলাধুলা যোগাসন আবশ্যক হয়েছে। এ নিয়ে এক দিনের অনুষ্ঠান পালন বা প্রচার করে বাস্তবে বিশেষ লাভ হবে না। এখনকার দিনের অস্থিরতা, পড়াশোনার প্রবল চাপ সামলাতে লোকদেখানো শারীরিক রূপান্তরের বদলে প্রকৃত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

অরিত্র মুখোপাধ্যায়, শ্রীরামপুর, হুগলি

হাল ফেরান

বইকে ঘিরে বাঙালির উন্মাদনা আজকের নয়, বহু দিনের। প্রতি বছর জেলা বইমেলা ও কলকাতা বইমেলায় বইপ্রেমী মানুষের ভিড়ই তার প্রমাণ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি গ্রন্থাগারগুলির অবস্থা শোচনীয়।

প্রথমত, প্রয়োজনের তুলনায় গ্রন্থাগারের সংখ্যা কম। দ্বিতীয়ত, যে ক’টি গ্রন্থাগার রয়েছে, তার মধ্যেও কর্মীর অভাবে অনেকগুলি কার্যত অচল বা নিয়মিত পরিষেবা দিতে অক্ষম। তৃতীয়ত, একটি গ্রন্থাগার পরিচালনার জন্য অন্তত দু’জন কর্মী প্রয়োজন— এক জন গ্রন্থাগারিক এবং এক জন সহায়ক। কিন্তু বাস্তবে এই ন্যূনতম ব্যবস্থাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেই। চতুর্থত, অধিকাংশ গ্রন্থাগারে পরিকাঠামোর অভাব প্রকট। বই সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিচর্যার ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। ফলে বহু মূল্যবান বই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব শূন্য পদ পূরণ করে গ্রন্থাগারগুলির পরিকাঠামো ও পরিষেবার উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন।

শঙ্খ অধিকারী, সাবড়াকোন, বাঁকুড়া

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Generation Z Central Government indian politics

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy