সংবাদ পড়ে জানলাম যে বিদ্যালয় পরিদর্শক একটি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছেন ‘‘বৃত্তের সংজ্ঞা কী?’’ আর একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ভূগোল ক্লাসে জিজ্ঞাসা করেছেন ‘‘আহ্নিক ও বার্ষিক গতি কী?’’ উত্তর দিতে পারেনি তারা। সংবাদটি পড়ার পর আমার মনে পড়ল আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছরের কিছু কম সময়ের কথা। সেখানেও বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্রেণিকক্ষে ছাত্রদের ইংরেজিতে পাঁচটি শব্দের বানান লিখতে বলেন। ছাত্রদের মধ্যে এক জন 'kettle' বানানটি লিখতে ভুল করে। শ্রেণিশিক্ষক ছাত্রটিকে পাশের ছেলের খাতা দেখে বানান সংশোধন করতে ইশারা করেন। ছাত্রটি কিন্তু তা করেনি। নকল করতে তার মন চায়নি। সেই ছেলেটি মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী।

ভাবছিলাম, আজ যে ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না আর সে দিন যে ছেলেটি বানান লিখতে ভুল করেছিল, এই ছাত্রদের মধ্যে কি কোনও পার্থক্য আছে? থাকলে তা কোথায়? উত্তর দিতে না পারা বা বানান ভুল করা একটি ঘটনা মাত্র। ওই ঘটনাই তো জীবনের সব নয়।  জীবনে ওই ব্যর্থতাকে ঢাকা দিয়ে সমাজে কে কতখানি ফুটে উঠতে পারে, সেটাই প্রশ্ন। সেটা পারলে ওই উত্তর দিতে না পারা বা বানান ভুল অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।

কল্যাণ কুমার দত্ত চৌধুরী

চাউলখোলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

 

জ্ঞানপাপী

আমাদের বাড়ির পাশে একটি পাঁচিল ঘেরা খালি জমি পড়ে আছে। এই পাড়ায় নিয়মিত কর্পোরেশনের গাড়ি এসে বাড়ির জমা আবর্জনা নিয়ে যায়, তা সত্ত্বেও অন্য বাড়ির বাসিন্দারা ওই খালি জমিতে সমানেই আবর্জনা ফেলে থাকেন। সেই আবর্জনার মধ্যে ভাঙা কমোড, ডাবের খোলা, বাড়িতে ভোজের পর থার্মোকলের থালা ইত্যাদি থাকে। আমরা এই সময়ে ডেঙ্গি আর ম্যালেরিয়ার আতঙ্কে আছি। কলকাতা কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে মুখে এবং কাগজপত্রের সাহায্যে মানুষকে ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ার মশার বিষয়ে সতর্ক করছেন। দিন কয়েক আগে আমাদের এক প্রতিবেশী ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, বেশ কিছু দিন রোগভোগের পর তিনি এখন সুস্থ হয়েছেন। যে সব মানুষ ওই জমিতে আবর্জনা ফেলেন তাঁরা যে বিষয়টা বোঝেন না তা নয়। তাঁরা প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত মানুষ। বিনয়সহকারে তাঁদের যদি ওই জমিতে আবর্জনা ফেলতে বারণ করা হয়, কেউ বলেন “খালি জমি পড়ে আছে, লোকে আবর্জনা ফেলবে না কেন?” কেউ বলেন, “সব জানি, বেশি জ্ঞান দেবেন না।” কেউ মুখে কিছু বলেন না, কিন্তু রাতের অন্ধকারে বাড়ির আবর্জনা ওখানে ফেলে যান। গত কাল এক বাড়ি থেকে তাঁদের কাজের লোক আবর্জনার পাত্র নিয়ে ওই জমিতে ফেলতে গেলে তাকে বলা হয়, আবর্জনা ওই জমিতে না ফেলে কর্পোরেশনের গাড়ি এলে সেখানে ফেলতে। কাজের লোক আবর্জনা নিয়ে ফিরে যাচ্ছিল, ওই আবর্জনার মালিক নিজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে সেই লোককে বললেন, “কে মানা করছে? শুনো না, যাও গিয়ে ফেলে এসো, আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি, কে কী বলে দেখে নেব।” ভদ্রতার খাতিরে চুপ করে থাকতে হল। যিনি বললেন তিনি এক জন শিক্ষিত, প্রবীণ ব্যক্তি, এক সময় সরকারের উচ্চপদে নিযুক্ত ছিলেন, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। ভাবলাম তাঁর প্রাক্তন সরকারি পদের মহিমায় মশারা হয়তো তাঁর বাড়ির দরজায় তাঁর নামের ফলক দেখে আর ভিতরে ঢুকতে সাহস করে না। এটি কেবল আমাদের পাড়ার ঘটনা নয়, কলকাতার অনেক পাড়াতেই একই ব্যাপার ঘটছে। আমরা নিজেদের শিক্ষিত, ভদ্র, ওয়াকিবহাল মনে করি। এই কি তার নমুনা?

নিজেরা সতর্ক না হলে মশাদের আর দোষ কী?

প্রভাত মুখোপাধ্যায়

কলকাতা-৯৩

 

দেহরক্ষী কেন

খবরে প্রকাশ, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দেহরক্ষী সংখ্যা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এই প্রেক্ষিতে কয়েকটি প্রশ্ন: যিনি কোনও মন্ত্রী নন, কোনও উচ্চপদস্থ আমলা নন, একটি রাজনৈতিক পার্টির রাজ্য সভাপতি, তাঁর জন্য সাধারণ নাগরিকের করের টাকায় ন’জন দেহরক্ষী নিয়োগ করা কি জরুরি? যেখানে গোরক্ষকদের হাতে মুসলমান হওয়ার অপরাধে সাধারণ মানুষকে মরতে হয়, যেখানে কৃষকরা তাঁদের ফসলের সরকার নির্ধারিত সহায়ক মূল্যের দাবি করলে গুলি খেতে হয়, সেখানে নেতাদের জন্য সরকারি নিরাপত্তা দানের রকমসকম দেখে অবাক হতে হয়। কোন গণতান্ত্রিক ব্যাখ্যায় এই ব্যবস্থা যুক্তিসঙ্গত? যাঁকে নিশ্ছিদ্র দেহরক্ষী পরিবেষ্টিত করে রাখা হল, তাঁর মুখনিঃসৃত ভাষণ/বাণী নিয়মিত টিভিতে শুনতে পাই, কাগজেও পড়ি।  অতি সম্প্রতি ‘‘বিরোধীদের ছ’ফুট মাটির তলায় পুঁতে ফেলব’’ হুমকির উত্তরে এক বিরোধী নেতা উল্টো হুমকি দেওয়ার পরেই দেখা গেল দিলীপবাবুর দেহরক্ষীর সংখ্যা চার থেকে এক লাফে নয় ছুঁয়েছে। এই সব নেতাদের নিরাপত্তার জন্য এত বিপুল ব্যবস্থা?

শ্যামল সরকার

কলকাতা-৮৪

 

উদাসীন

‘ময়নাগড় রাজবাড়ি ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়তে উদ্যোগ’ (পূর্ব মেদিনীপুর, ৪-১০) শীর্ষক সংবাদ পাঠ করে কিছুটা বিস্মিত হয়েছি। এত দিন পর জেলাপ্রশাসনের এই উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তো ঠিক এমন নয়। সৌন্দর্যায়ন দূর অস্ত্, চার দিকে রাশিকৃত জঞ্জাল ও নোংরা আবর্জনা জমে রয়েছে। পরিখা সংস্কার অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সুপ্রাচীন লোকেশ্বর মন্দিরের গর্ভগৃহ ভগ্ন। দর্শনার্থীদের জন্য রাত্রিবাস বা বিশ্রামগৃহ, শৌচালয়ের কোনও ব্যবস্থা সরকারি তরফে নেই। প্যাডল বোটে প্রতি দিনের অসংখ্য পুরুষ ও নারীযাত্রীদের জন্য কোনও সুবন্দোবস্ত নেই। প্রশাসনের ঔদাসীন্যে বেআইনি জবরদখলদারদের সমস্যা ক্রমশই বাড়ছে। সংরক্ষণের কোনও নিদর্শন নেই। রাজ্য প্রশাসন যথাযথ খবর রাখে কি না, তা নিয়েই এখন সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।

স্বরূপানন্দ বাহুবলীন্দ্র

হেরিটেজ ময়নাগড় ট্রাস্ট, ময়না,
পূর্ব মেদিনীপুর

 

প্যারডি শিল্পী নন

সম্পাদকীয় ‘এই পথ যদি না’ (১৯-১০)-তে লেখা হয়েছে ‘‘পিন্টু ভট্টাচার্যের প্যারডিতে খুলিবে পরিচিত গানের নূতন রূপ।’’ গায়ক পিন্টু ভট্টাচার্য কখনও প্যারডি গান গেয়েছেন বলে শুনিনি। উনি আধুনিক বাংলা গানের শিল্পী হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছিলেন। সেই সময় বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানের জলসাগুলি প্যারডি গান গেয়ে মাতিয়ে দিতেন মিন্টু দাশগুপ্ত। তারও আগে ছিলেন গায়ক-অভিনেতা রঞ্জিত রায়।

শুভায়ু সাহা

খাগড়া, মুর্শিদাবাদ

 

বিসর্জনে শব্দাসুর

বিসর্জনে যে ভাবে শব্দাসুর দাপাল তা নজিরবিহীন। মফস্সলের প্রায় সর্বত্রই নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়িয়ে শব্দই সে দিন নায়ক। শব্দবাজির পাশাপাশি বাজল ডিজে। পুলিশ-প্রশাসনের ভাবটা এমন, যেন এটাই স্বাভাবিক। বিসর্জনে যাতে কোনও গন্ডগোল না হয় সে জন্য মোড়ে মোড়ে পুলিশে ছয়লাপ। কিন্তু তারা তো শোভাযাত্রা দেখতে আর ভিড় সামলাতে ব্যস্ত। বিসর্জনের ঘাটে পুলিশ উপস্থিত, কিন্তু শব্দদূষণ নিয়ে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। সীমাহীন ডিজে-র শব্দের তালে চলল উদ্দাম নৃত্য। শব্দতাণ্ডবের নীরব দর্শক আমরা এবং আমাদের পুলিশ।

সোফিয়ার রহমান

অশোকনগর, উত্তর ২৪ পরগনা

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,  কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।