পথকুকুরদের নির্যাতন ও তাদের পিটিয়ে মারার সংবাদ প্রায়ই চোখে পড়ে খবরের কাগজে। পথকুকুররা খুবই অসহায়। তাদের থাকার কোনও জায়গা নেই, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সব ঋতুতেই তাদের কষ্ট। তার ওপর মানুষ যখন-তখন তাদের অাঘাত করে অানন্দ পায়। কিন্তু অন্য বহু অত্যাচারের বর্ণনাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ‘‘বিবাদের জের, কুকুরকে ‘নির্যাতন’ শখেরবাজারে’’ (২৪-১০) প্রতিবেদনে বিবৃত ঘটনাটি। পথকুকুর ভুতো কী অপরাধ করেছিল? তাকে দরজা বন্ধ করে আটকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারা হয়েছে, ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, চোখ খুবলে নেওয়া হয়েছে, গোটা গাড়িবারান্দা জুড়ে ছড়িয়ে আছে তার চাপ চাপ রক্ত। আত্মীয়দের মধ্যে বিবাদের জেরে একটি নিরীহ প্রাণীকে এ ভাবে মার খেতে হবে?

এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান লিপিবদ্ধ হয়েছে, তিনি বলেছেন, ‘‘...মারের চোটে এক সময় আর নড়তেও পারছিল না ভুতো। ...তার পরেও উনি মুখে বাঁশ দিয়ে মারেন। তাতে ভুতোর বাঁ চোখটা খুলে বেরিয়ে এল।’’ এই নির্মম অত্যাচার যিনি করতে পারেন অন্য একটি প্রাণীর প্রতি— সেই প্রাণীটি তাঁর বিন্দুমাত্র ক্ষতি না করা সত্ত্বেও— তাঁকে কী বিশেষণে বর্ণনা করা যাবে? নিশ্চয়ই মনুষ্যেতর প্রাণী বলে নয়? কারণ জন্তু-জানোয়ারেরা কখনও এমন নিষ্ঠুর হয় না, তারা অকারণে কোনও প্রাণীকে ছিন্নভিন্ন করে আনন্দ পায় না। 

যদিও ‘প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী এই ব্যক্তির শাস্তি হতেই পারে, কিন্তু আসলে আমাদের সমাজে পশুর অধিকার স্বীকার করাই হয় না। কিছু মানুষ তাদের শারীরিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রায়ই তাদের অত্যাচার করে। প্রতিটি পশুপাখির জীবন মূল্যবান। তারা আমাদের পরিবেশ-বৈচিত্রকে ধরে রাখে। তার চেয়ে বড় কথা, মানুষের মতোই, সব পশুপাখিরই সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার সমান অধিকার আছে।

সমীর কুমার ঘোষ

কলকাতা-৩৬

 

কেওয়াইসি

আমার এবং আমার স্ত্রীর নামে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার খড়দহ শাখায় একটি যৌথ সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে। সম্প্রতি ওই ব্যাঙ্ক থেকে পুরনো ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ ডেবিট কার্ডের পরিবর্তে নতুন চিপ ডেবিট কার্ড দেওয়া হয়েছে। যদিও আমার মোবাইল নম্বর অনেক আগে থেকেই দেওয়া আছে (এমনকী শেষ ফর্ম ১৫ এইচ জমা দেওয়ার তারিখে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল, ২০১৮-তেও দেওয়া হয়েছে) তা সত্ত্বেও নতুন চিপ ডেবিট কার্ডের পিন জেনারেট করতে গেলে দেখানো হয়েছে, মোবাইল নম্বর ব্যাঙ্কের সঙ্গে ম্যাচ করানো নেই। বাধ্য হয়েই আবার নতুন করে ফর্ম ফিল-আপ করে জমা দিতে হয়েছে। জমা করার সময় আমি কাউন্টারের ভদ্রলোককে বলেছি, আপনাদের কাছে আগে থেকে তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও আমাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হল। তাতে উনি আমাকে বললেন, প্রত্যেক বছর কেওয়াইসি জমা দিতে হয়। কেওয়াইসি কথাটার পুরো কথাটা আমার যত দূর জানা আছে, নো ইয়োর কাস্টমার। কাস্টমারের তথ্য যদি পরিবর্তিত না হয় তা হলে প্রত্যেক বছর কেওয়াইসি দিতে হবে কেন?

কালীশঙ্কর মিত্র

খড়দহ, উত্তর ২৪ পরগনা

 

গোপাল কানন

বেহালার পর্ণশ্রী অঞ্চলে ‘গোপাল কানন’ নামে একটি পুকুর ঘেরা সুন্দর পার্ক আছে এবং এর সংলগ্ন একটি শৌচালয়ও আছে। প্রতি দিন বয়স্ক ও বাচ্চারা এখানে বেড়াতে/খেলতে আসেন। কিন্তু শৌচালয়টি দু’বছরের উপর তৈরি হয়ে পড়ে থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত সাধারণের ব্যবহারের জন্যে খুলে দেওয়া হয়নি। বিপদে পড়ে মানুষ ওই শৌচালয়ের গেটের সামনেই মলমূত্র ত্যাগ করছেন।

সুজয় মিত্র

বেহালা

 

ভুল দাবি

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩১-১০ তারিখে ডুয়ার্সের গরুমারা লাগোয়া টিয়াবনে একটি সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছেন, বন্ধ চা বাগান শ্রমিকদের জন্য ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার কাজ তাঁর সরকার শুরু করেছে। বাস্তবে বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের জন্য বামফ্রন্ট সরকারই ভাতা দেওয়ার প্রকল্প চালু করেছিল। বন্ধ চা বাগান শ্রমিকদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। প্রথমে দেওয়া হত মাসে ৫০০ টাকা করে। পরে দফায় দফায় তা বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করা হয়। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ এক টাকাও বাড়ায়নি।

অনিল সরকার

চাতরা, হুগলি

 

আরও সঙ্গিন

‘জীর্ণ ভবনেই দমকল কেন্দ্র রিষড়ায়’ (৩১-১০) সচিত্র প্রতিবেদন পড়ে এই চিঠি। সংবাদে প্রকাশ, দমকল কেন্দ্রটি তৈরি হয়েছিল আশির দশকে। এর থেকে বহু প্রাচীন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ কোন্নগর জিটি রোডে হাতিরকুলে অবস্থিত দমকল কেন্দ্রটি। যখনই এটির সামনে দিয়ে যাই এর সঙ্গিন অবস্থা দেখে ভয় হয়। জানালা-দরজা ভেঙে পড়ছে, দেওয়ালে বড় বড় গাছ। ভেতরের অবস্থা আরও করুণ। সমাজবন্ধু দমকল কর্মীরা প্রাণ হাতে করে তাঁদের কর্তব্য করে যাচ্ছেন।

তপন কুমার মল্লিক

রিষড়া, হুগলি

 

একটি মাত্র

ভারতবর্ষের বৃহত্তম রেলজংশন হল খড়্গপুর স্টেশন। কিন্তু এই বিশাল স্টেশনে মাত্র একটি ফুটব্রিজ। সেটিও বিশেষ চওড়া না। আর একটা ফুটব্রিজ খুব দরকার।

সঞ্জয় চৌধুরী

খড়্গপুর

 

অথচ অন্য বাস

এসি-৪ বাসের ওপর বেহালার পর্ণশ্রী এলাকার বহু মানুষই নির্ভরশীল। এই বাস রুট ধর্মতলা, ডালহৌসি, হাওড়া ইত্যাদি জায়গার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সব থেকে সুবিধাজনক। যাত্রীও বেশি হয়। কিন্তু এই রুটটি অত্যন্ত উপেক্ষিত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি। কিন্তু একটিও বাসের দেখা মেলে না। আশ্চর্যের বিষয়, লক্ষ করি, এক ঘণ্টার মধ্যে ১৩টি থেকে ১৪টি ই-১ (হাওড়া থেকে যাদবপুর) বাস আসে ও যাত্রী নিয়ে চলে যায়। এটা এক দিনের ব্যাপার নয়, প্রতি দিনই চলছে।

সুদীপ্ত কুমার মিত্র

কলকাতা-৬০

 

অন্য মাসে

সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশু শিক্ষা কেন্দ্র সমূহের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অঞ্চল, চক্র, মহকুমা, জেলা ও রাজ্য স্তরে অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত অক্টোবর মাসে দুৰ্গাপুজোর ছুটির অব্যবহিত পরেই এই সমস্ত স্তরের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পুজোর ছুটির মাসে ছাত্রছাত্রীদের এমনিতেই পড়াশুনার সঙ্গে সংস্রব কম থাকে, আর তৃতীয় পর্বের মূল্যায়ন ছুটির পরে ডিসেম্বর মাসে হয়। মোট তিনটি পর্বের মূল্যায়নের মধ্যে তৃতীয় পর্বের মূল্যায়নের নম্বর বিভাজন বেশি। ফলে অনেকেই তৃতীয় পর্বের মূল্যায়নে ভাল ফল করতে পারে না। তা ছাড়া শিক্ষকদের ডিসেম্বর মাসে পরীক্ষার খাতার মূল্যায়ন করতে হয়, মার্কশিট, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট প্রভৃতি তৈরি করতে হয়। ফলে তাঁদের উপরেও চাপ পড়ে। যদি এই সব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে হয়, সবারই ভাল। 

কার্তিক আদক

চাঁইপুর, পূর্ব মেদিনীপুর

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।