সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: সুভাষের ঘুসি?

Letter to the editor: Subhas Chandra Basu

 টিভিতে দেখলাম প্রেসিডেন্সির ছাত্র সুভাষ ধুতি-পাঞ্জাবি পরে কলেজের বারান্দায় অধ্যাপক ওটেন সাহেবের বাঁ-গালে প্রচণ্ড এক ঘুসি হাঁকিয়ে তাঁকে মেঝেতে ফেলে দিলেন। পর ক্ষণেই তাঁকে টেনে তুলে জামাটা ঝেড়েঝুড়ে কিছু উপদেশ দিয়ে বীরবিক্রমে চলে গেলেন। সহপাঠীরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য দেখল। আমাদেরও না দেখে উপায় নেই, দেখতেই হল।

সবাই জানেন ১৯১৬-র ১৫ ফেব্রুয়ারির এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এ বিষয়ে নানা মুনির নানা মত। সুভাষচন্দ্র নিজেও এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেননি, লিখেছেন— মিস্টার ওটেন... ওয়াজ় বিটেন ব্ল্যাক অ্যান্ড ব্লু। তবে একটা বিষয়ে সকলে একমত, ঘটনাটি কলেজের বারান্দায় নয়, সিঁড়িতে ঘটেছিল। এ পর্যন্ত যে সব তথ্য জানা গিয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সহপাঠী প্রমথনাথ সরকারের বিবরণ। তিনি লিখেছেন, ‘‘তখন তিনটে কি চারটে বাজে, শেষ পিরিয়ডের শেষে ওটেন সাহেব সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন তখন হিন্দু হস্টেলের কয়েকজন বাছা বাছা ছেলে যারা পূর্ববঙ্গ থেকে এসেছিল তারাই মেরেছিল।’’ পরে আর এক সহপাঠী স্বামী ওঁকারানন্দও বলেন, মারটা তো দেন অনঙ্গ দাস।

অনঙ্গমোহন দাস স্বয়ং লিখেছেন, ‘‘ওটেন পড়ে গেলে আমি ও বিপিন দে (পরে ঈশান স্কলার) তাঁকে দু-চার ঘা দিই। ওই মারামারিতে সুভাষ ছিল না।’’ সুভাষচন্দ্রের শেষ জেলপর্বের সঙ্গী নরেন্দ্রমোহন চক্রবর্তীর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘ওই গন্ডগোলের সৎকর্মটি যে কে করেছিল ঠিক বুঝতে পারিনি। মনে হয় ওই বাঙালটাই (অনঙ্গমোহন দাস) মেরেছিল।’’ সবচেয়ে বড় কথা, অনেক পরে ওটেন সাহেবও বলেন, তিনি ঘটনার সময় সুভাষকে দেখেননি, যদিও তিনি জানতেন সুভাষ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রসঙ্গত, আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ না দিয়ে কেবলমাত্র বংশীলাল নামে এক বেয়ারার সাক্ষ্যে সুভাষ ও অনঙ্গমোহনকে বহিষ্কার করা হয়।

১৯৪৫ সালে সুভাষচন্দ্র হারিয়ে গেলে ওটেন সাহেব তাঁর স্মরণে যে কবিতাটি লেখেন সেটি শুরু হয়েছিল এই জিজ্ঞাসা দিয়ে— ‘ডিড আই ওয়ান্স সাফার, সুভাষ অ্যাট ইয়োর হ্যান্ড?’ টিভিতে দেখানো ওই রকম ঘুসি খেয়ে কেউ কি এ রকম প্রশ্ন করতে পারে?

অরুণকান্তি দত্ত

বেলুড় মঠ, হাওড়া  

 

ডাক্তার প্রশ্ন

 ‘সরকারি ক্ষেত্রে কেন বেসরকারি ডাক্তার’ (৩০-১২) প্রতিবেদনটি পড়ে, দু’চার কথা। রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অপ্রতুলতার কারণে বেসরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যুক্ত করার সিদ্ধান্তে চিকিৎসক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নীতিগত আপত্তি জানিয়ে সরকারি ডাক্তারবাবুদের একাংশের প্রশ্ন, ‘বাইরের চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করে চলে যাওয়ার পর রোগীর দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে?’ প্রশ্নটি সঙ্গত।

সম্পূর্ণ নিখরচায় স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে রাজ্য সরকার যথেষ্ট আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করছে। এ রাজ্যের প্রায় ৮০% মানুষ এতে প্রবল উপকৃত হলেও, পরিকাঠামো উন্নত না হওয়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবার মান প্রত্যাশিত নয়। জেলা-সদর-গ্রাম মিলিয়ে মোট ১৩৯২৫ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ১.০৭ লক্ষ বেডে রোগীর চিকিৎসা চালু রাখতে সবচেয়ে বেশি চাপ সহ্য করতে হয় সরকারি ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের। প্রতিনিয়ত এই অসম্ভব চাপ ও আমলাতন্ত্রের সঙ্গে আপস করতে না চেয়ে, চিকিৎসকদের অনেকেই সরকারি পদে যোগ দিতে অনিচ্ছুক। গত বছর ৮২০ শূন্য পদে ১০৩ জন দরখাস্ত করে মাত্র ৩৯ জন ডাক্তার সরকারি পদে যোগ দিয়েছিলেন। করদাতাদের ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা খরচ করে এক জন ডাক্তার তৈরি করার পর সরকারি পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বিস্ময়কর।

সেই ফাঁক পূরণের জন্য বেসরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ডেকে আনা কত দূর বাস্তবসম্মত? প্রথম সমস্যা ফলো-আপ সংক্রান্ত, দ্বিতীয় দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত। বেসরকারি হাসপাতাল ও তার সঙ্গে যুক্ত ডাক্তারবাবুদের, মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত শ্রেণির রোগীরা সংশয়ের দৃষ্টিতে দেখেন। প্রচলিত ধারণা, এই ডাক্তারেরা কারণে-অকারণে ‘বিল’ বাড়িয়ে ‘ফতুর’ করে দিতে চান। তাই ‘উচিত মূল্যে উচিত চিকিৎসা’ লাভের জন্য ট্রেন বোঝাই করে দক্ষিণে পাড়ি দেওয়া এ-রাজ্যের ট্রেন্ড। বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সরকারি হাসপাতালের রোগীকে ফুসলিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাবেন, এ সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাই মাথাব্যথার কারণ অনুসন্ধান করে ওষুধের ব্যবস্থা হোক, মলম (বেসরকারি ডাক্তার ভাড়া করা) সাময়িক উপশম দিলেও, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

রাজশেখর দাস

কলকাতা-১২২

 

বঞ্চনা

আমি এক জন ৮২ বছর বয়স্ক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। স্বাভাবিক ভাবেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগের কারণে আমাকে নিয়মিত সংশ্লিষ্ট রোগ-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে যেতে হয়। কয়েক দিন আগে এক হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে, প্রাথমিক ভাবে আমাকে দেখে তিনি প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দেওয়া ছাড়াও চার-পাঁচ রকম রক্তপরীক্ষা, ইসিজি, ইকো কার্ডিয়োগ্রাফি, করোনারি অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম ইত্যাদি করতে বলেন। যে প্রখ্যাত প্রাইভেট হাসপাতালের সঙ্গে তিনি যুক্ত, সেখান থেকেই অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম করার কথা বলেন। কিন্তু সেখানকার খরচ বেশি মনে হওয়ায়, পাশের আর একটি বিখ্যাত প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে অনেকটা কম খরচে ওই পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে যখন তাঁকে দেখাই, তিনি সরাসরি ওই রিপোর্ট নাকচ করে দেন এবং নতুন করে করোনারি অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম করাতে বলেন। ভেবে দেখা দরকার, এ কাজ করার অধিকার কি তাঁর আছে?

দেবরঞ্জন তরফদার

কলকাতা-১২২

 

পৃথক ফল

 বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া তেজস এক্সপ্রেসের যাত্রীরা ট্রেন লেট হলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন। অথচ অন্যান্য এক্সপ্রেস ট্রেন সরকারি হাতে বলে সেখানকার যাত্রীরা ক্ষতিপূরণ পাবেন না! একেই বলে রেলযাত্রায় পৃথক ফল!

অরূপরতন আইচ

কোন্নগর, হুগলি

 

জলের সমস্যা

 আমি কলকাতা পুরসভার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের পি এম সরণির বাসিন্দা। ২০০৩ সালে যখন গরফা জলাধার তৈরি হয় তখন আমরা এক বছর পরিস্রুত পানীয় জল পেয়েছি, কিন্তু তার পরেই কোনও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হল! আমাদের চার পাশে সবাই পানীয় জল পাচ্ছেন আর আমাদের জন্য বরাদ্দ গভীর নলকূপের আয়রন এবং আর্সেনিক পূর্ণ জল! এই জলে বাড়ির পাইপ জ্যাম হয়ে যাচ্ছে, জামাকাপড় হলুদ হয়ে যাচ্ছে।

জীবেন্দ্রনাথ দত্ত 

কলকাতা-৭৮

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন