×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২০ জুন ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: অনাস্থার প্রকাশ

১০ জুন ২০২১ ০৪:৪৮

‘অবিশ্বাস’ (৩-৬) শীর্ষক সম্পাদকীয় নিবন্ধে পঞ্চায়েতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ইয়াসের ত্রাণকার্যে ব্রাত্য করে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা যথার্থ। সংবিধান অনুযায়ী পঞ্চায়েত এবং পুরসভা এখন স্থানীয় সরকার। সেখানে নির্বাচিত সদস্যরা স্থানীয় মানুষের কাছাকাছি থাকায় তাঁদের পক্ষে এলাকার ভাল-মন্দ সবচেয়ে ভাল ভাবে জানার কথা। কিন্তু আমপানের দুর্নীতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার ইয়াসে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পেশ করার কাজে তাঁদের গুরুত্ব দেয়নি রাজ্য সরকার। এর পরিবর্তে প্রশাসনের আধিকারিকদের হাতে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সমস্যা হল, পঞ্চায়েত, পুরসভার সদস্যদের দুর্নীতি রুখে দেওয়ার পরিবর্তে যদি তাঁদের একেবারে ব্রাত্য করে দেওয়া হয়, তা হলে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উপর অনাস্থা প্রকাশ পায়। সেটি আদৌ কাম্য নয়। তা ছাড়া সম্পূর্ণ ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে দিয়ে দিলে সেখানেও যে দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের সম্ভাবনা থাকে, তা ১৯৭৮ সালের আগে অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন। আর এই দুঃসময়েও যদি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা তুলে ধরতে না পারেন, তা হলে পঞ্চায়েত এবং পুরসভার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যেতে পারে। সেই কারণেই প্রশাসন এবং পঞ্চায়েতের একত্রে কাজ করা প্রয়োজন।

প্রদ্যোৎ পালুই

Advertisement

বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া

সুন্দরবন

১৯৫২ সাল। মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের কাছে তৎকালীন ‘সুন্দরবন প্রজামঙ্গল সমিতি’র সম্পাদক ও হিঙ্গলগঞ্জের প্রাক্তন নির্দল বিধায়ক ভোলানাথ ব্রহ্মচারী এবং বসিরহাটের কংগ্রেস সাংসদ পাতিরাম রায় সুন্দরবনকে পৃথক জেলা করার দাবি নিয়ে হাজির হন। তার পর মাতলা, রায়মঙ্গল, মুড়িগঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসেন। ২০১৫ সালে সুন্দরবনকে পৃথক জেলা করার সরকারি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। সেই পরিকল্পনাও নোনা জলে তলিয়ে গিয়েছে।

পৃথক জেলা হলে সার্বিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা, অর্থসংস্থানের ক্ষেত্রে সুবিধে হয়। কেন্দ্রীয় আর্থিক বরাদ্দের আলাদা অংশও পাওয়া যায়। ১৯৮৩ সালে ২৪ পরগনা, ১৯৯২ সালে দিনাজপুর, ২০০২ সালে মেদিনীপুর ভেঙে দু’টি করে জেলা তৈরি হয়। সুন্দরবন এখনও আলাদা জেলা হয়নি। প্রশাসনিক পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ২০০৮ সালে গঠিত হয় প্রাক্তন মুখ্যসচিব অমিত কিরণ দেবের নেতৃত্বাধীন কমিটি। তাঁর সুপারিশগুলির মধ্যে ছিল প্রতি ব্লকে জনসংখ্যা এক লক্ষের বেশি নয়, একটি ব্লকে ছ’টির বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত নয়। মহকুমায় চারটির বেশি ব্লক নয়। জেলায় চারটির বেশি মহকুমা নয়। এই কমিটির সুপারিশকে মান্যতা দিলে সুন্দরবনকে পৃথক জেলা করার দাবি যৌক্তিকতা পায়।

তা ছাড়া সুন্দরবন প্রকৃতপক্ষে একটি ভৌগোলিক ভাবে চিহ্নিত এলাকা। এর পূর্বে ইছামতী, কালিন্দী নদী, পশ্চিমে ভাগীরথী, হুগলি, উত্তরে ডাম্পিয়ার হজেস লাইন, (সুন্দরবন কমিশনের কমিশনার উইলিয়াম ডাম্পিয়ার এবং সার্ভেয়ার হজ এর নামানুসারে) দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। আয়তন ৯,৬৩০ বর্গ কিলোমিটার।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৩টি ব্লক ও উত্তর ২৪ পরগনার ছ’টি ব্লক, মোট ১৯টি ব্লক নিয়ে সুন্দরবন অঞ্চল। রয়েছে ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্র, তিনটি লোকসভা কেন্দ্র। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এখানকার জনসংখ্যা ৪৪ লক্ষ। সুন্দরবনে পরস্পর বিচ্ছিন্ন ১০২টি দ্বীপের মধ্যে ৪৮টি দ্বীপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এই অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ বছর ইতিমধ্যেই বাঘের আক্রমণে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নদীতে মীন ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে মৃত্যুর ঘটনাও প্রায়ই ঘটে। যাঁরা ট্রলারে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান, তাঁরা মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। কেবলমাত্র ক্যানিং ১ ব্লকে ২০১৫ সালে সাপের কামড়ে মৃতের সংখ্যা ছিল ১০২৪, ২০১৬ সালে ৯৮২, ২০১৭ সালে ১১৯৮। দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে প্রতি দিন এই অঞ্চল থেকে বহু নাবালিকা পাচারচক্রের হাত ঘুরে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই রওনা হয়ে যাচ্ছে। এ সম্পর্কে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও সরকারের কাছে নেই। এই অঞ্চল থেকে হাজার হাজার যুবক পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে পাড়ি দেন ভিন্‌রাজ্যে, শহরে। সেখানে তাঁরা নিকৃষ্ট ধরনের জীবনযাত্রা অতিবাহিত করতে বাধ্য হন, রোগগ্রস্ত হন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরিখেও এই অঞ্চল অনেক পিছিয়ে।

কিন্তু সুন্দরবনের দিকে মানুষের দৃষ্টি পড়ে কেবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে। গত বছর আমপান ঝড়ে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। মৃতের সংখ্যা ছিল ৮৫। সম্প্রতি ইয়াস ঝড়ে ১৫০টি জায়গায় নদীবাঁধ ভেঙেছে। প্রায় তিন লক্ষ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১.১৬ লক্ষ হেক্টর চাষের জমি নষ্ট হয়েছে। মিষ্টি জলের মাছচাষও ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

সুন্দরবন অঞ্চলে ভূমিজ, কৃষিজ ও জলজ সম্পদ এবং পর্যটন থেকে সরকারি কোষাগারের বিপুল আয় হয়। এখানকার কাঁকড়া, চিংড়ি, মধু, মোম রফতানি করে রাজ্য বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। অথচ, সুন্দরবনের দরিদ্র মানুষদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকার উদাসীন। তাই বার বার উত্থাপিত হলেও সুন্দরবন জেলা গঠনের পরিকল্পনা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। প্রশাসনিক সুবিধা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্রকে রক্ষা করার জন্য এই অঞ্চলকে এখনই পৃথক জেলা করা হোক।

অমলেন্দু চক্রবর্তী

ইমেল মারফত

ঘাসের নাম কুশ

নদীবাঁধ রক্ষার প্রসঙ্গে আজকাল প্রায়ই সংবাদপত্রে ভেটিভার ঘাসের কথা পড়ি। ভারতের এই অতি প্রাচীন ঘাসটিকে ‘ভেটিভার’ বলতে প্রথম শুনি আট-দশ বছর আগে। তখন এটিকে অন্য প্রদেশ থেকে আমদানি করার কথা ভাবা হচ্ছিল। যদিও পশ্চিমবঙ্গে এই প্রজাতির ঘাসের অভাব নেই। বেনা, কুশ বা খসখস— এই সব নাম কিন্তু এ দেশে অতি পরিচিত। শ্রীরামচন্দ্রের পুত্র ছিলেন কুশ, আর কৌটিল্যের কুশাহত হওয়ার ঘটনাও অনেকেরই জানা। এই আখ্যানগুলি এই ঘাসের প্রাচীনত্বের প্রমাণ। বাঙালির প্রিয়জন বিয়োগে বেনা গাছ পুঁতে তাতে জল দেওয়ার রীতিও বহু প্রাচীন। এক সময় ভারতের বহু অংশে কুশের বিস্তীর্ণ প্রান্তর ছিল। নদীর ঢালেও এই ঘাস জন্মায়। অনেকে এই ঘাস থেকে ঝাঁটা এবং আরও কিছু গৃহস্থালি ও গৃহসজ্জার উপকরণ তৈরি করেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলিতে ‘ভেটিভার’ না লিখে ‘কুশ’ লেখা চালু করা যায় কি না, ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি।

তুষারকান্তি চৌধুরী

উত্তরপাড়া, হুগলি

বর্জ্যের বিপদ

কোভিড চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই কিট বর্জ্যে পরিণত হয়। গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে দৈনিক গড়ে কোভিড-সংক্রান্ত প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়েছে ৬.৫ টন। বর্তমানে দ্বিতীয় তরঙ্গের ভয়াবহতা প্রথম তরঙ্গের থেকে প্রায় চার গুণ বেশি। তাই ‌অনুমান করা যায়, ২০২১ সালের শেষে বর্জ্যের পরিমাণও হবে পাহাড়প্রমাণ। কোভিডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দূষণ আমাদের ভয়ানক ক্ষতি করছে। এই বর্জ্যগুলি হয় মাটির নীচে, অথবা সমুদ্রে যাচ্ছে। নির্গত করছে প্রচুর পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিকস। এই বিষ নানাবিধ স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি করতে পারে। ২০০০ সালের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা বিধিতে আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ করে সার, জৈব গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা আছে। কোভিড বর্জ্য থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা যেতে পারে।

শুভশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

বহড়ু, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

Advertisement