Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

সম্পাদক সমীপেষু: নিয়োগে অনিয়ম

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:২৩

‘শিক্ষার জট’ সম্বন্ধে দু’একটি কথা তুলে ধরতে চাই। শিক্ষকগণ নতুন নতুন চমকের মধ্য দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার যে পন্থা নিয়েছেন, তা কতটা কার্যকর, ভাবার বিষয়। দলিত, দরিদ্র, প্রান্তিক ও আদিবাসী ছেলেমেয়েদের শিক্ষার আঙিনায় আনার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২৪ নভেম্বর, ১৯৯৯-এ পঞ্চায়েত দফতরের অধীনে শিশু শিক্ষা কেন্দ্র ও মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করে, যা দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলিকে। ওই সব শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষক নিয়োগ হয় পঞ্চায়েতগুলির মাধ্যমে, ওদের পছন্দমতো। উদ্দেশ্য ছিল, প্রান্তিক অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার আলো দেখানো।

কিন্তু রাজ্যের যে কোনও পর্যায়ের বিদ্যালয়ে নিয়োগসংক্রান্ত সমস্যা অন্তহীন। কর্তৃপক্ষ উদার মন নিয়ে যদি হাজার হাজার শিক্ষিত টেট উত্তীর্ণ, উচ্চ প্রাথমিকের জন্য নির্বাচিত বেকার যুবক-যুবতীদের স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করে, তবে এক দিকে যেমন সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, অন্য দিকে শিক্ষক আন্দোলন স্তিমিত হবে।

প্রকৃতপক্ষে শিশু শিক্ষা কেন্দ্র এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলি স্থাপনের উদ্দেশ্য মহৎ। কিন্তু সরকারি উদাসীনতা এবং পরিচালনব্যবস্থার ত্রুটির জন্য কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। গত ডিসেম্বরে বিদ্যালয়গুলিকে শিক্ষা দফতরের অধীনে আনার ঘোষণা, ঘোষণাই থেকে গিয়েছে। ফলে ওই সব শিক্ষাকেন্দ্রে ‘সহায়িকা’ ও ‘সম্প্রসারকরা’ সমকাজে সমবেতনের দাবি তুলেছেন। প্রশ্ন হল, এই সব শিক্ষাকেন্দ্রে যুক্ত সহায়িকা বা সম্প্রসারকগণ এসএসসি নির্ধারিত ‘নর্ম’ বা ওই রকম কোনও পরীক্ষার মাধ্যমে কি নিয়োজিত হয়েছেন? এ রাজ্যে বা দেশে প্রাথমিক স্তরে সাধারণত যাঁদের নিয়োগ করা হয়, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখা হয় না। অথচ, শিশুদের শিক্ষা দান সবচেয়ে কঠিন কাজ। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ মেলামেশা, তাদের চাহিদা বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নিরূপণ, তাদের দৈহিক ও মানসিক চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনা করা ইত্যাদি নানা বিষয় কাজ করে। তার জন্য শুধু মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পাশের যোগ্যতা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার মান ক্রমশ নিম্নমুখী। তাই এ সব বিদ্যালয়ের জন্য চাই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা। তবেই হয়তো ওঁদের দাবি ন্যায্য মনে হতে পারে।

Advertisement

জয়ন্ত কুমার দেবনাথ, রানাঘাট, নদিয়া

প্রথম শিক্ষিকা

ত্রয়ী সিংহ লিখিত ‘প্রথম দলিত শিক্ষিকা’ (রবিবাসরীয়, ১৯-৯) প্রবন্ধ সম্পর্কে দু’চার কথা বলতে চাই। লেখক প্রবন্ধের শুরুতেই উল্লেখ করেছেন “একুশ শতকে পৌঁছেও যখন দেখা যায় জাতপাত ছুতমার্গের তেমন সুরাহা হয়নি, তখন সহজেই অনুমান করা যায়, উনিশ শতকের এক নিম্নবর্গীয় দলিত মহিলার ইচ্ছেপূরণের লড়াই কতখানি কঠিন হয়ে উঠেছিল।” লেখক নিজে একুশ শতকে দাঁড়িয়েও জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠতে পারলেন কই! লেখক সমগ্র লেখাটিতে সাত বার ‘দলিত’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। জাতপাত শুধুমাত্র ছোঁয়াছুঁয়ি বিষয়ক বিষয় নয়। জাতপাত একটি মানসিক ব্যাধি। বাবাসাহেব আম্বেডকর অ্যানিহিলেশন অব কাস্ট গ্রন্থে যথার্থ বলেছেন, “জাত হল একটি ধারণা, এটা একটি মানসিক অবস্থা। জাতের ধ্বংস বলতে কোনও নিরেট বস্তুর ধ্বংস বোঝায় না। জাতের বিলুপ্তি বলতে ধারণার পরিবর্তন বোঝায়।”

ভারতের প্রথম মহিলা ডাক্তার বলা হয় কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়কে। তাঁকে কিন্তু ‘প্রথম ব্রাহ্মণ ডাক্তার’ বলে উপস্থাপিত করা হয় না। সাবিত্রী ফুলে ভারতের প্রথম শিক্ষিকা। শুধুমাত্র প্রথম শিক্ষিকাই নন, তিনিই ভারতের প্রথম প্রধান শিক্ষিকাও। কিন্তু তাঁকে যখন উপস্থাপন করা হচ্ছে, তখন তাঁর পরিচয় দাঁড়াচ্ছে ‘প্রথম দলিত শিক্ষিকা’। কেন এই বৈষম্য? সাবিত্রী ফুলেকে আমরা ‘ভারতের প্রথম শিক্ষিকা’ বলে কবে মেনে নিতে শিখব? যে দিন সেটা শিখতে পারব, সে দিন থেকেই জাতপাত ছুতমার্গের সুরাহা হবে বলে মনে করি।

সমীরণ বিশ্বাস, পূর্ব বিষ্ণুপুর, নদিয়া

দায়ী কারা?

‘অসুস্থতা দিয়ে বোঝা যায় কি’ (১৭-৯) প্রবন্ধে যুক্তিবাদী সমাজকর্মী লেখিকা রত্নাবলী রায়ের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস চলে গেল। বিভিন্ন আলোচনা, সেমিনারে অবসাদ যে আত্মহত্যার মূল কারণ, তা বার বার উঠে আসে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর যত সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যা করেন, তার অর্ধেকের কোনও মানসিক অসুস্থতা নেই। আবার গত লকডাউনে যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের বেশির ভাগের বয়স ৩০-৫০ বছরের মধ্যে। এবং ৮৩ শতাংশই শ্রমজীবী! এর থেকেই বোঝা যায়, আর্থিক সঙ্কট, সামাজিক অসাম্যও আত্মহত্যার অন্যতম কারণ।

২০১৯ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, ভারতে আত্মহত্যায় মহারাষ্ট্র প্রথম, দ্বিতীয় তামিলনাড়ু, আর তৃতীয় পশ্চিমবঙ্গ। মহারাষ্ট্রের তুলোচাষিরা সরকারের সহায়তা না পেয়ে, ঊষর খেতে ঠিকমতো জলসেচন না করতে পেরে, মহাজনের ঋণ না শোধ করতে পেরে আত্মহত্যা করেন। পশ্চিমবঙ্গে ধান ইত্যাদির প্রচুর ফলন হওয়া সত্ত্বেও চাষি তাঁর ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। আগে সমবায়ের মাধ্যমে সরকার ধান কিনে নিত। কিন্তু, বর্তমানে সরকার চালকল মালিকদের থেকে চাল কিনে নেয়। চাষিদের দূরের চালকল পর্যন্ত ধান বয়ে নিয়ে যেতে হয়। দূরে বয়ে নিয়ে যাওয়ার খরচ এড়াতে মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের কাছে জলের দরে ধান বিক্রি করে দেন। এত আর্থিক ক্ষতি সামলাতে না পেরে আত্মহত্যার হিড়িক পড়ে যায়।

এর পরেই আসে গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনা। শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচার সয়ে, নিজের আর্থিক সঙ্গতি না থাকায়, এবং বাপের বাড়ির সহায়তাও না পেয়ে তাঁরা আত্মহত্যা করেন। র‌্যাগিং-এর শিকার হয়ে কিছু ছাত্র আত্মহত্যা করে। কেউ ইচ্ছা করে নিজের প্রাণটি বিসর্জন দেন না। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চার পাশের সব দরজা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন তাঁরা নিজেদের শেষ করে দেন। সরকারি বদলিব্যবস্থার দুর্নীতি, দলবাজির করুণ পরিণতি দেখা যায় পাঁচ জন শিক্ষিকার বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টার মধ্যে। ৮ বছর জেলার হাসপাতালে কাজ করার পর ডাক্তার অবন্তিকা ভট্টাচার্য নিজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মেয়ের কাছে থাকার জন্য কলকাতায় পোস্টিং চেয়েছিলেন। তাঁকে পাঠানো হল ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালে। কতটা অসহায় হয়ে আত্মহত্যার আগের দিন সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আমার আর কী করার আছে?”

শিখা সেনগুপ্ত, কলকাতা-৫১

মেয়েরা বাদ!

আফগানিস্তানের বেশ কিছু জায়গায় বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ছেলেরাই একমাত্র স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারবে। মেয়েরা নয়। কেন নয়? এ ক্ষেত্রে তেমন জোরালো প্রতিবাদও দেখছি না তো! যদি শরিয়ত আইন মোতাবেকই হয়, তা হলেও যত দূর জানি সেখানে কোথাও নারী শিক্ষাকে অবহেলা করার বিধান নেই। এটা সম্পূর্ণ স্বৈরতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক, এবং সঙ্কীর্ণতার উৎকৃষ্ট নজির হয়ে থাকল পৃথিবীতে। বর্তমানে মহিলাদের বাদ দিয়ে কোনও কাজ কি সম্ভব? যে কোনও সফল বা ভাল কাজের পিছনে নারীর অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। সারা বিশ্বে, ভারতে এমনকি পশ্চিমবঙ্গে একেবারে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনাতেও এখন নারীশিক্ষার অগ্রগতি ঘটেছে। বলা বাহুল্য, এখন মেয়েদের মধ্যে স্কুলছুটের সংখ্যা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। তাই, আফগানিস্তানে যা চলছে, তা চলতে দেওয়া যায় না। এটা কি সুস্থ সমাজ গঠনের পরিপন্থী নয়?

মুস্তাক আলি মণ্ডল, আমতা, হাওড়া

আরও পড়ুন

Advertisement