নতুন সরকার আসার পর হাওড়া পুরসভা পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে নিয়মমাফিক প্রচার অভিযান চালালেও, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া ইত্যাদির প্রকোপ তেমন কমানো যায়নি। সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের কথা জানা নেই, তবে বিশেষত হাওড়া শহর ও শহরতলির মানুষ বছরভর মশার উপদ্রবে যে তিতিবিরক্ত, এটা পুরসভাও মানতে বাধ্য।

মশার ধূপ, তেল বা কয়েল ব্যবহার করতে আমার আপত্তি আছে। তাই বিকল্প পথের সন্ধান করছি অনেক দিন ধরেই। সম্প্রতি এক বন্ধুর পরামর্শে শান্তিতে কাজ করার একটা উপায় খুঁজে পেয়েছি। বাড়িতে ছোট মাপের একটা মশারি টাঙিয়ে তার ভিতরে পড়াশোনা ও কম্পিউটারে কাজ করছি, যাতে একটা মশাও উৎপাতের সুযোগ না পায়। এমন সুফল পেয়েছি, সবাইকে সেই কৌশলটা জানাতে ইচ্ছে করল।  

শক্তিশঙ্কর সামন্ত

ধাড়সা, হাওড়া

 

অবৈধ

চলতি লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন যে সব অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের পর্যবেক্ষক মনোনীত করেছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। 

The Representation of the People Act, 1951-এর  20-B. ধারাটি নীচে হুবহু তুলে ধরা হল:

(1) The Election Commission may nominate an Observer who shall be an officer of Government to watch the conduct of election or elections in a constituency or a group constituencies and to perform such other functions as may be entrusted to him by the Election Commission.

সে কারণে তাঁদের নিয়োগ বাতিলযোগ্য। আর নিয়োগ বাতিল হলে, তাঁদের দ্বারা পর্যবেক্ষিত নির্বাচনও দূষিত গণ্য করতে হবে।

সুভাষ সরকার

কলকাতা-৩৫

 

এতটা সাহস

সংবাদমাধ্যম ফণী-কবলিত ওড়িশার ছবি দেখানোর আগেই টিভি-হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুকে ফণীর ধ্বংসলীলার যে ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে, তা ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ ইনস্টিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি (কেআইআইটি) থেকে তোলা। হাওয়ার দাপটে বাস উল্টে যাচ্ছে, দরজা ভেঙে যাচ্ছে, জানালা উড়ে এসে গ্রিলে ধাক্কা লেগে কাচ গুঁড়িয়ে যাচ্ছে, চেয়ার গড়িয়ে যাচ্ছে, এ রকম আরও ছবি আমরা দেখেছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাঁরা এই ভিডিয়োগুলো রেকর্ড করে দেশবাসীকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন তাঁদের ধন্যবাদ, কিন্তু একই সঙ্গে বলি,  প্রশাসনের বার বার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেগুলি অবজ্ঞা করে এতটা সাহসী তাঁরা না হলেও পারতেন।

অনিশা ঘোষ

সোনারগ্রাম, হুগলি

 

আছে আছে

‘বয়স্কদের জন্য’ (৬-৫) শীর্ষক চিঠির প্রেক্ষিতে জানাই, বয়স্ক নাগরিকদের 80 C ধারায় আয়কর ছাড়ের জন্য, ব্যাঙ্কের Income tax savings 5 years fixed deposit এবং তিন বছর মেয়াদের Income tax saving মিউচুয়াল ফান্ড ELSS আছে, যেগুলো খুবই জনপ্রিয়।

উদয় শংকর বসু

কলকাতা-৬৪

 

ফেরতের উপায়

‘টাকা কেটেছে’ (সম্পাদক সমীপেষু, ৬-৫) শীর্ষকে লেখা হয়েছে, ব্যাঙ্কে বহু অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি কাটা টিডিএস ফেরত পাননি। পাবেন কী করে? সে টাকা তো আর ব্যাঙ্কের কাছে নেই। ভুল করে কাটা হলেও, নিজের তহবিল থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। বেশির ভাগ ব্যাঙ্কই আমানতকারীর কাছে ভুল স্বীকার করে বিষয়টা বুঝিয়ে টাকা ফেরত পাওয়ার উপায় বাতলানোর সৌজন্য বা সাহস দেখায় না। কিছু চতুর ম্যানেজার, যাঁদের কাছাকাছি সময়ের মধ্যে বদলি হওয়ার কথা, তাঁরা বদলির দিনের পরের কোনও এক সময়ে গ্রাহককে দেখা করতে বলেন! 

পত্রলেখকের কাটা টাকা ফেরত পাওয়ার রাস্তাটা এই রকম—

১৯৬১ সালের আয়কর আইনের ১৯৪ ধারার বিভিন্ন উপধারা অনুসারে, উৎসমূলে কাটা কর যে দিন কাটা হল, তার পরের মাসের ৭ তারিখের মধ্যে আয়কর বিভাগকে জমা দিতে হয়। পত্রলেখকের কথায় ‘সঞ্চয়ের ঘোষণাপত্র’ অর্থাৎ যথাযথ ভাবে পূরণ করা ফর্ম ১৫ এইচ দাখিল সত্ত্বেও ট্যাক্স কাটা হলে, কেবলমাত্র আয়কর রিটার্ন সাবমিট করলেই তিনি সে টাকা ফেরত পেতে পারেন, যদি তাঁর আয় করযোগ্য আয়ের সীমার নীচে থাকে। সফল ভাবে রিটার্ন দাখিলের কিছু দিন পর সে টাকা সরাসরি তাঁর ব্যাঙ্কের খাতায় জমা পড়ে যাবে। 

উনি নিজেই অনলাইন রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। অন্যথায় তাঁকে পেশাদার ট্যাক্স প্র্যাকটিশনারের সাহায্য নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে, মাত্র ৯৭৮ টাকা ফেরতের জন্য হয়তো কনাসাল্টেশন ফি লাগবে এক হাজার বা তার বেশি টাকা!

বুদ্ধদেব চট্টোপাধ্যায়

কুলটি

 

সন্তানকে নিয়ে

আমার একমাত্র সন্তান মানসিক প্রতিবন্ধী। তার দেখাশোনা, নিয়মিত বিশেষ ট্রেনিং, চিকিৎসা, সবই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আমি কেন্দ্রীয় সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, পেনশন নগণ্য। তা দিয়ে সন্তানের চিকিৎসা যথাযথ ভাবে করতে পারছি না। প্রথমে আমার পূর্বতন সংস্থাকে চিকিৎসায় সাহায্যের অনুরোধ করেছিলাম, ওরা কিছু করল না। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একই অনুরোধ করি, সেখানেও ব্যর্থ হই। শেষে ডিসএবিলিটি কমিশনকে অনুরোধ করি, তারাও কিছু করেনি। 

অথচ ডিসএবিলিটি অ্যাক্ট ২০১৬ আইনে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা সম্পর্কে ভাল ভাল কথা, কিছু ভাল কাজ করার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। অসহায় প্রতিবন্ধী সন্তানের উপযুক্ত চিকিৎসা করতে পারছি না, এ দুঃখ প্রতিনিয়ত আঘাত করে।

আরও একটা কথা। দুই দশক আগে আমি অবসর গ্রহণ করি। এখন যা পেনশন পাই, বর্তমান মূল্যের নিরিখে তা বর্ধিত হলে আমি সন্তানের চিকিৎসা ভাল ভাবে করতে পারতাম। গত ২০ বছর ধরে আমি পেনশন আপগ্রেডেশনের জন্য আবেদন-নিবেদন করে আসছি। কেউ শোনেনি।

বিবেক চক্রবর্তী

পান্ডাপাড়া, জলপাইগুড়ি

 

ঠিকানা নেই

বিগত কয়েক বছর আমাদের গড়িয়া স্টেশন এলাকায় অনেক কিছু ভাল কাজ হয়েছে। তবে বাড়িগুলির ঠিকানা আজও হয়নি। এর ফলে, কোনও দরকারি চিঠি পাওয়া যায় না। বাইরের লোকেরা, কোনও দরকারে, বাড়ি খুঁজতে খুব অসুবিধা ভোগ করেন। 

শঙ্কর বিশ্বাস

কলকাতা-৮৪

 

তোমার পতাকা

প্যাসেঞ্জার নামিয়ে রিকশাওয়ালা বেজায় ঘেমেনেয়ে গিয়েছিলেন। দু’কদম এগিয়ে দৃপ্ত ভঙ্গিতে রাস্তার পাশ থেকে একটি পতাকা টেনে খুললেন। অনেক ক্ষণ ধরে সেটা দিয়ে মুখ-হাত-গা মুছলেন। লাঠি দিয়ে পিঠটা একটু চুলকোলেন। তার পর চরম অবহেলায়, পতাকাটা দূরে ছুড়ে ফেলে দিলেন। যদি এ কাজটাই, ভোট মিটে যাওয়ার আগে, ধরা যাক ৪৮ ঘণ্টা আগেও করতেন? কী হত বলা মুশকিল! সবাই তো মেহনতি মানুষের কথা বলে ভোট চান, পতাকাটা শেষ পর্যন্ত মেহনতি মানুষের কাজেই লাগল তা হলে!

শঙ্খমণি গোস্বামী

কলকাতা-১২২