‘সচিন নারাজ, মেরিকে ডিলিট’ (২০-৯) শীর্ষক খবরের প্রেক্ষিতে এই চিঠি। সচিন তেন্ডুলকর ক্রিকেটবিশ্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অবিসংবাদী সম্রাট হিসেবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ‘ডিলিট’ প্রত্যাখ্যান করে এ হেন সম্রাট একদম উচিত কাজই করেছেন। এর আগে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রেও তিনি একই কাজ করেছিলেন। রাহুল দ্রাবিড়ও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, বেঙ্গালুরু ইউনিভার্সিটির সাম্মানিক ডক্টরেট। এঁদের দু’জনেরই নীতি হল, যা স্বোপার্জিত নয় তা তাঁরা গ্রহণ করতে চান না। আর এই ‘না চাওয়া’-তেই এই দুই নক্ষত্রের সম্মান কয়েক লক্ষ গুণ বেড়ে গেল।

গৌতম মুখোপাধ্যায়, কলকাতা-১১৭

ট্যাক্স বাড়ছে

আমি বর্ধমান শহরের ২৮ নং ওয়ার্ডের বোরহাটের বাসিন্দা। বাড়ির হোল্ডিং নং ২৫। বাড়ির আধ কাঠার কিছু বেশি জায়গায় নীচে ১০ ফুট বাই ১২ ফুট একটি ঘর আছে, তারই ওপরে ১০ ফুট বাই ১২ ফুট একটি সাধারণ মানের ঘর আছে। ঘর সংলগ্ন নীচে অতি সাধারণ মানের একটি বাথরুম আছে। ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত যার ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে বাৎসরিক ৭০ টাকা। এই ঘরের ২০১৮-১৯ সাল থেকে ট্যাক্স ধার্য হয়েছে ৪১২ টাকা প্রায়। বাড়ির সামনে আনুমানিক ১১ কাঠার অব্যবহৃত অবাণিজ্যিক একটি ডোবা আছে। হোল্ডিং নং ২৭। ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত বাৎসরিক ট্যাক্স ছিল ২৩১ টাকা। ২০১৮-১৯ সাল থেকে ট্যাক্স দেওয়ার যে নোটিস পেলাম, তাতে ওই ডোবাটির বাৎসরিক ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে ১০৬৮ টাকা। আবেদন-নিবেদনে কোনও কাজ হয়নি। এ দিকে বাড়িতে সব বেকার।

গোরা চাঁদ রায়, নূতনগঞ্জ, বর্ধমান

 

কেন আসবে

আমার পুত্র কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৬-০৭-২০১৮ তারিখে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করে ও দুই দিন কাজ করার পর ভুলবশত নিয়োগ করা হয়েছে বলে ১৮-০৭-২০১৮ তারিখে তাকে বরখাস্ত করা হয়। ইতিপূর্বে সে ইজ়রায়েলে জেরুসালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ গবেষণায় রত ছিল এবং মাঝপথে তা ছেড়ে দিয়ে যোগদান করে। এখন সে দুই দিকই হারিয়ে অত্যন্ত মানসিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মাঝে মাঝেই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে আমাদের রাজ্যের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা বিদেশে গিয়ে আর ফিরে আসে না। কিন্তু আমার পুত্রের এই অবস্থা দেখে আর কোনও ছাত্রছাত্রী কী ভরসায় ফিরে আসবে?

নীলিমা মণ্ডল, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান

 

সরকারি বাস

গত ১২ অগস্ট উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বহরমপুর-খড়্গপুর রুটের বাসে মেদিনীপুর যাব বলে ইলামবাজারে উঠি। বাসটি ঠিকই চলছিল, কিন্তু বিষ্ণুপুর ঢোকার আগে টায়ার পাংচার হয়ে যায়। টায়ার সারানো হয়ে গেল, কিন্তু গোল বাধল অন্য জায়গায়। বলা হল, ১:৩০ মিনিটের অন্য একটি বাস না থাকায়, এই বাসটি সেই বাসের টাইমে যাবে।

প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমে গাড়িটিকে এক ঘণ্টার ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা হল (গাড়িটি ১২:১৫ মিনিটে বিষ্ণুপুর ঢোকে)। আমরা কয়েক জন বলতে থাকলেও কনডাক্টর তাঁর যুক্তিতে অনড়, উনি পরের বাসের প্যাসেঞ্জার নিয়েই যাবেন। যখন বেসরকারি বাসের একচেটিয়া ব্যবস্থা থেকে রেহাই দিতে মন্ত্রী সরকারি
বাস পরিষেবাকে উৎসাহ দিচ্ছেন, তখন এই ধরনের পরিষেবা বিরূপ প্রভাব ফেলবেই।

রাজীব চক্রবর্তী, বিশ্বভারতী

 

প্রিমিয়াম

হেল্‌থ ইনশিয়োরেন্স পলিসি যে সংস্থাগুলি করে তাদের মধ্যে স্টেট ব্যাঙ্কের নামটাও আছে। এসবিআই জেনারেলের মধ্যে এসবিআই হেল্‌থ পরিষেবাও রয়েছে। এই রকম ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ইনশিয়োরেন্স কোম্পানি’ নামে চেন্নাইয়ের এক প্রতিষ্ঠান এসবিআইয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের হেল্‌থ পলিসি করছে। আমি নিজেও প্রাক্তন এসবিআই কর্মী এবং আমার পরিবার এসবিআই হেল্‌থ ও ইউনাইটেড ইন্ডিয়া দু’জায়গাতেই যুক্ত। লাগামছাড়া ভাবে প্রিমিয়াম খরচ বেড়েই চলেছে। উদাহরণ দিয়ে বলি— ইউনাইটেড ইন্ডিয়াতে গত বছর যে পরিমাণ টাকা প্রিমিয়ামের জন্য দিয়েছি, এ বছর দিয়েছি প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি টাকা ওই একই অঙ্কের পলিসির জন্য। অন্য দিকে, এসবিআই হেল্‌থ এক লাফে শতকরা পঞ্চাশ ভাগ টাকা বাড়িয়ে দিল প্রিমিয়ামের। শুধু টাকা বাড়ানোর জন্য নয়, অন্য কারণে আতঙ্কিত হয়েই এ বছর থেকে এই পলিসি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ— ২০১৪-তে এক বার ম্যানুয়ালি জমা দেব এই শর্তে পলিসির প্রিমিয়াম দেওয়া শুরু করলাম, ২০১৫-য় একই ভাবে কাটল, স্পিড পোস্টে পলিসির কাগজপত্র এল, হেল্‌থ কার্ড এল, যেটা রোগী ভর্তির সময়ে দেখাতেই হবে। ২০১৬ থেকে চিত্রটা পাল্টে গেল। যেমন দিচ্ছিলাম সেই রকম ম্যানুয়ালি প্রিমিয়াম জমা দিলাম, আর ব্যাঙ্কও সঙ্গে সঙ্গে অটো ডেবিট করে নিল প্রিমিয়ামের টাকা আমাকে অগ্রিম কিছু না জানিয়ে। একই বছরে একটা পলিসির জন্য ডবল প্রিমিয়াম! বাড়তি একটা প্রিমিয়ামের টাকা অনেক ঝামেলা সহ্য করে মুম্বই অফিস থেকে ফেরত আনতে হল। ২০১৭-তে একদম একই রকম হয়রানির শিকার হতে হল। বাড়িতে পলিসির কাগজপত্র, হেল্‌থ কার্ড আসা গত দু’বছরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এ বছর ওই সব ঝামেলার আতঙ্কে পলিসি বন্ধের চিঠি দিয়েছি ব্যাঙ্ককে।

স্বপন কুমার দত্ত, রানির বাগান, বর্ধমান

 

শুধু ট্রেন

গঙ্গার দুই পারে কলকাতামুখী সমান্তরাল দু’টি পথ— পূর্বে বিটি রোড আর পশ্চিমে জিটি রোড। বিটি রোডে হরেক রুটের বাস চলায় আশপাশের শহরগুলোর নিত্যযাত্রীরা ট্রেন-নির্ভর নন। অপর দিকে জিটি রোডে টোটো চললেও, পুরনো রুটের ৩ নং ছাড়া তেমন কোনও বাস চলতে দেখা যায় না। ফলে শ্রীরামপুর, কোন্নগর, উত্তরপাড়ার মতো শহরগুলোর সঙ্গে কলকাতার সহজ যোগসূত্র একমাত্র ট্রেন। ধর্মতলা পৌঁছতে এ সব এলাকার নিত্যযাত্রীদের ট্রেন-বাস-লঞ্চ ভেঙেই যেতে হয়। কোনও কারণে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীদের উদ্বেগ চোখে পড়ার মতো। শ্রীরামপুর থেকে জিটি রোড ধরে হাওড়া হয়ে ধর্মতলা রুটের বাস সার্ভিস জরুরি।

দেবব্রত সেনগুপ্ত, কোন্নগর, হুগলি

 

‘বি’ শ্রেণি

 সম্প্রতি (১৭-৯) ক্রিয়া যোগ এক্সপ্রেসের প্রথম শ্রেণির বাতানুকূল কোচে আমাদের কেবিন ‘বি’র অন্দর দেখে মনে হল, আমরা আক্ষরিক অর্থেই ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত যাত্রী। বার্থের কাপড়ের ঢাকনা, জানালার পর্দা নোংরা, জানালার কাচে ধুলো এবং ধাতব অংশ স্থানে স্থানে মরচে ধরা। শৌচাগারে শেকল বাঁধা টাল খাওয়া মগ মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। দাগ ধরা কমোড-বেসিন। কালিঝুলি মাখা পাখা। বাইরের বেসিনের তলায় উচ্ছিষ্ট জমা। সমগ্ৰ কোচটিরই বিবর্ণ চেহারা। প্রথম শ্রেণি বলে তফাত কিছু বুঝলাম না। চড়া ভাড়া নিয়ে পরিষেবার নামে এ তো প্রতারণা!

ধীরেন্দ্র মোহন সাহা, কলকাতা-১০৭

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

 

ভ্রম সংশোধন

ব্যবসা বিভাগে ‘নেড়েচেড়ে’ শীর্ষক ছবির ক্যাপশনে ওয়াইনের বোতলের দাম ‘প্রায় ২.৩৮ লক্ষ টাকার’ বদলে ‘প্রায় ২৩,৮০০ টাকা’ পড়তে হবে। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।