‘আত্মবলির মিছিল, দেশ নির্লিপ্ত’ (১২-৩) লেখার পরিপ্রেক্ষিতে আমার এই চিঠির প্রারম্ভেই অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই লেখিকা জয়া মিত্রকে। এ বছর ১৯ ও ২০ জানুয়ারি মাতৃসদন আশ্রমের এই নীরব, নিরস্ত্র আন্দোলনে আমার সাক্ষী হওয়ার এবং এই যুবা সন্ন্যাসীকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেখানে আয়োজিত একটি সভায় উপস্থিত কিছু বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার সুবাদে এই বিষয়টি জেনেছিলাম। 

২০১১ সালে কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারের আমলে উত্তরাখণ্ডে গঙ্গানদী ও তার উপনদীগুলির ওপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ব্যারেজ তৈরির কাজ শুরু হলে প্রাক্তন কানপুর আইআইটি’র অধ্যাপক গুরুদাস আগরওয়াল, যিনি কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করে স্বামী জ্ঞান স্বরূপ সানন্দ নামে পরিচিত, তদানীন্তন সরকারের এই নীতির বিরোধিতায় অনশনে বসেন এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী জয়রাম রমেশের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ প্রকল্পগুলিকে বন্ধ করে দেন এবং স্বামী সানন্দজি অনশন ত্যাগ করেন। 

পরবর্তী কালে নতুন সরকার এসে ওই প্রকল্পগুলিকে কেবল শুরুই করল না, পার্বত্য গঙ্গা নদীর ওপর ১০০ কিমি অন্তর নতুন ব্যারেজ করার সিদ্ধান্ত নিল। বাঁধ দিয়ে নদীকে ও তৎনির্ভর জীববৈচিত্র তথা প্রায় ৪৫ কোটি জনজাতির মানুষকে বিপর্যস্ত করার কুফলকে নানা ভাবে বোঝাতে, এমনকি বিকল্প হিসাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করে বিফল হয়ে, স্বামী সানন্দজি পুনরায় আমরণ অনশনে বসলেন। তাঁর সকল প্রচেষ্টা ও তাঁর দ্বারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে প্রেরিত তিনটি চিঠির প্রতি ‘নমামি গঙ্গে’ ঘোষণাকারী সরকার কোনও ভ্রুক্ষেপ তো করলই না, উপরন্তু ৮৬ বছর বয়সি সন্ন্যাসীকে জোর করে হৃষীকেশ এমস-এ ভর্তি করা হল, এবং পর দিন অনশনের ১১২তম দিনে রহস্যজনক ভাবে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হল। সারা দেশ চুপ করে রইল। 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

তার পর সন্ত শ্রী গোপাল দাসজি বসলেন অনশনে এবং অনশনের ১৪৭তম দিনে তাঁকেও জোর করে ভর্তি করা হল একই হাসপাতালে এবং কয়েক দিন পর তাঁকে নিখোঁজ বলে জানানো হল। আজও চলছে তাঁর সন্ধান। সারা দেশ একটি শব্দও করল না। 

আন্দোলনের ধারা বজায় রেখে এ বার অনশনে বসলেন ২৬ বছর বয়সি দক্ষিণ ভারতীয় যুবক সন্ন্যাসী আত্মবোধানন্দ (ছবিতে)। তাঁর কথা ‘‘গঙ্গা কেবল উত্তর ভারতের নয়, সবার’’, ‘‘আমার নয়, গঙ্গার চিন্তা করুন।’’ আসলে তিনি বলতে চেয়েছেন এই নদীমাতৃক দেশের নদীনির্ভর কোটি কোটি জীবন রক্ষার কথা। হিন্দুধর্মাবলম্বী প্রকৃত সন্ন্যাসীর আমরণ অনশনের প্রতি ভ্রুক্ষেপহীন নিজেদের গঙ্গাপুত্র ও গঙ্গাপুত্রী বলা হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী ভারত সরকার।

এখানে উল্লেখ্য, এই বিদ্যুতের অতি ক্ষুদ্রাংশই বাতি জ্বালাবে উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দাদের ঘরে। সিংহভাগ চলে যাবে বন্ধু কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে। এ ভাবেই উন্নয়নের নামে সারা দেশ জুড়ে বেচে দেওয়া হচ্ছে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ, যা আমাদের জাতীয় সম্পদ। 

আমি ও আমার সঙ্গীরা এই আন্দোলনে আছি। যখন এটা লিখছি, তখন কিছু মানুষ দিল্লি থেকে হরিদ্বার মাতৃসদনের পথে হেঁটে চলেছেন আত্মবোধানন্দজির সমর্থনে। কেন কোনও সাড়া নেই এ বাংলায়? কোথায় গেলেন এ রাজ্যের গঙ্গাপুত্রেরা? সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নের কান্ডারিদের কাছে জানতে চাই, সোনার বাংলা কি তা হলে গড়া হবে নদীগুলির শবদেহের উপর?

যে বাংলার সমবেত কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে পারে ব্রিটিশ সিংহের গর্জন, যে বাংলা টলিয়ে দেয় দিল্লির সিংহাসন, যে বাংলার অঙ্গুলিহেলনে মুছে যায় এ রাজ্যের দীর্ঘ দিনের অপশাসন, কোটি কোটি জীবনরক্ষার্থে আত্মবলিদানরত সন্ন্যাসীর প্রতি সেই বাংলার কেন এই অবহেলা? 

তাপস বিশ্বাস 

পরিবেশ বান্ধব মঞ্চ, ব্যারাকপুর 

মেট্রোর ভিড়

বর্তমানে মেট্রো রেলের অনিয়মিত চলাচল, যান্ত্রিক ত্রুটিকে বাদ দিলেও, যে সমস্যা সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করেছে: অস্বাভাবিক ভিড়। প্রচলিত কথায়, এই ভিড় বনগাঁ লোকালকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। অফিসটাইমে ওঠা যায় না, উঠলে নামা যায় না। অবস্থার আশু পরিবর্তন প্রয়োজন। কিছুটা হলেও ভাড়া বাড়িয়ে, ভিড়ে রাশ টানতে হবে।

বিবেকানন্দ সরকার

কলকাতা-৭৪

যুবকের মৃত্যু

‘হাওড়া স্টেশনে ভিড়ের চাপে মৃত্যু যুবকের’ (২১-২) দুঃসংবাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা নেই। এই স্টেশন থেকে প্রতি দিন কয়েক লক্ষ রেলযাত্রীর যাতায়াত, কিন্তু নেই কোনও চিকিৎসা কেন্দ্র। খবরে প্রকাশ, জিআরপি এসে মেমো তৈরি করতে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে নেয়। একটি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে, নিয়ম-নির্দেশ পালন আগে প্রয়োজন! এ খবরে রেলের পদস্থ কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে স্টেশনে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র থাকা প্রয়োজন, এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। তা হলে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটলে কোনও পরিষেবার ব্যবস্থা করা উচিত নয়? 

জয়দেব দত্ত

কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান

সূর্য উঠবে না?

রবীন্দ্রনাথকে এক কোরীয় যুবক বলেছিল, গোটা পৃথিবী জুড়ে মানুষের দুঃখগুলো মানুষকে মেলাবে। পুলওয়ামার সন্ত্রাসবাদী হামলার পরও দেখা গেল, গোটা বিশ্ব মিলে গেল হিংসার বিরুদ্ধে একটা বিন্দুতে। দুঃখগুলো চাইল ধরতে পরস্পরের হাত। তাই পুলওয়ামার ঘটনায় নিহত সৈনিকের স্ত্রী মিতালি দেবীর ‘‘যুদ্ধ চাই না’’ উক্তি আরও প্রাসঙ্গিক। এই বক্তব্য ফুটিয়ে তোলে এক নতুন বিশ্বের কথা, যেখানে হল্লারাজাদের ‘যুদ্ধ চাই’ হুঙ্কারের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকে মাথা উঁচু করেই বলে, ‘‘অ্যান আই ফর অ্যান আই মেকস দ্য হোল ওয়ার্ল্ড ব্লাইন্ড।’’

কাশ্মীরি কবি আগা সঈদ আলীর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘আ কান্ট্রি উইদআউট পোস্ট অফিস’-এর কথা মনে পড়ে। সঈদ নানা নিপীড়নের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ভূস্বর্গকে দেখছেন এমন এক দেশ হিসেবে— যে চিঠি লিখতে পারে, কিন্তু যে হেতু সে দেশে কোনও পোস্ট অফিস নেই, তাই সে দেশের মনের কথা আমরা জানতেই পারি না। ডাকঘরের অমলের চিঠি তবু রাজার হাতে এসে পৌঁছয়। কাশ্মীরের বেলায় তা-ও হয় না।

ক্রমাগত মৃত্যু দেখতে দেখতে, বন্দুকের নলের সঙ্গে বাস করতে করতে, গোটা কাশ্মীরি সাহিত্য জুড়েও হয়তো এক আশ্চর্য মৃত্যু তার উপস্থিতির কথা বলতে থাকে, গল্পকার হৃদয় কাউল তাই হয়তো লেখেন: সূর্য চিঠি লিখে জানাচ্ছে কাল থেকে আর আকাশে না ওঠার কথা। কাউলের গল্পের নাম ‘সূর্য উঠবে না’।

দেবাশিস চক্রবর্তী

কলকাতা-৬১

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা
সম্পাদক সমীপেষু, 
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, 
কলকাতা-৭০০০০১। 
ইমেল: letters@abp.in
যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

ভ্রম সংশোধন

‘সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে তরজা বহাল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে (পৃ ৯, ১৯-৩)অর্থনীতিবিদ মৈত্রেশ ঘটক লেখা হয়েছে। ঠিক নামটি হবে মৈত্রীশ ঘটক।
‘যদি কিছু ঘটে, ছেলেকে তো আর দেখতে পাব না’ শীর্ষক প্রতিবেদনে (পৃ ৮, ১৬-৩) প্রকাশিত হয়েছে যে প্রতিবেদকের ‘বাবা-মা আগেই গত হয়েছেন’। বস্তুত তাঁর মা গত হলেও বাবা জীবিত।

‘‘মাসুদ বিতর্কেও ‘দোষ’ নেহরুর’’ শীর্ষক প্রতিবেদনে (পৃ ১, ১৫-৩) কিছু সংস্করণে জওহরলাল নেহরুকে রাহুলের বাবার প্রপিতামহ লেখা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, জওহরলাল নেহরু রাহুলের বাবা অর্থাৎ রাজীব গাঁধীর মাতামহ। 

অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।