ষাটের দশকে দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর হ্রদকেন্দ্রিক যে কংক্রিটের ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল, তার পরিপাটি ঘাসের মাঠের চার পাশ ঘেঁষে নির্মিত চারশো মিটার ট্র্যাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন জেলার ছেলেমেয়েদের নিয়ে নিয়মিত অ্যাথলেটিক্স অনুশীলন চলত। কিন্তু ২০১১ সালে সেই অনুশীলন বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৬ সালে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করায়, ৯ মে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই ৫ মে থেকে ছেলেমেয়েরা নতুন উৎসাহে কলকাতার প্রথম এই কংক্রিটের স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে নেমে পড়ে। বহু দিন ধরে স্টেডিয়ামের ভিতরে চলেছে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ফুটবল ক্লাবের অনুশীলন, আর রাজ্য, জাতীয় তথা আন্তর্জাতিক স্তরে পদকজয়ী ছেলেমেয়েরা গত পনেরো বছর ধরে অনুশীলন করে গিয়েছে স্টেডিয়ামের বাইরে। সল্ট লেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন, কসবার গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম কিংবা সন্তোষপুরের কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গন— সবই ফুটবল স্টেডিয়াম হিসাবে গড়ে উঠলেও, সবুজ মাঠের চার পাশের চারশো মিটার ট্র্যাকে গ্রামগঞ্জ ও শহরতলির ছেলেমেয়েরা অ্যাথলেটিক্স-এর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে না, এ কেমন ব্যবস্থা?
যে সব বিশিষ্ট প্রশিক্ষক গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় প্রতিভাদের নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন, তাঁরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যদি রাজ্য বা দেশের ভবিষ্যতের জন্য কিছু খেলোয়াড় গড়ে তুলতে পারেন, তাতেই তাঁদের শ্রম সার্থক হয়। যথাযথ পরিবেশ পেলে কেউ খেলোয়াড় হোক বা না-হোক, সুস্থ ও বলিষ্ঠ নাগরিক হিসাবেও তো গড়ে উঠতে পারে। রাজ্যে ক্রীড়া দফতর রয়েছে, রয়েছেন হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ-সহ মন্ত্রী ও পারিষদ। তাঁরা যদি ‘মাদার অব অল গেমস’ অ্যাথলেটিক্স নিয়ে সামান্য গুরুত্ব দিয়েও ভাবেন, তবে গ্রামীণ ছেলেমেয়েরা— যাদের অনেকের আর্থসামাজিক অবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল— নিজেদের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করার কিছুটা সুযোগ পাবে।
অ্যাথলেটিক্স-এ সাফল্য মাপা হয় সেকেন্ডের হিসাবে। নির্দিষ্ট মাপের মাঠ বা ট্র্যাক ছাড়া সেই অনুশীলন সম্ভব নয়। তাই নতুন সরকারের আমলে ছেলেমেয়েরা যখন উৎসাহের সঙ্গে আবার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করল, তখন বহু দিনের দমবন্ধ অবস্থা কাটিয়ে তারা যেন বুক ভরে শ্বাস নিল। গ্রামবাংলার খেলাধুলা যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বহু দেশজ প্রতিভার অপমৃত্যু রোধ করা যাবে। নতুন সরকার এ বিষয়ে নজর দেবে— এটাই প্রত্যাশা।
সৌম্যেন্দ্রনাথ জানা, কলকাতা-১৫৪
পেশা নয়
এক বিধানসভা কেন্দ্রের পরাজিত এক প্রার্থী গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, তিনি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন, ফলে “কাল থেকে আমার কোনও পেশা নেই।” একটি দলের এক মুখপাত্রও বার বার ডাক্তারি, ওকালতির মতো পেশার দুর্নীতির সঙ্গে নেতাদের দুর্নীতিকে একাসনে বসিয়ে বিষয়টিকে গুলিয়ে দিতে চেয়েছেন।
অসুবিধাটা এই জায়গাতেই। রাজনীতি যে কোনও পেশা নয়, রাজনীতি যে কোনও দিন পেশা হতে পারে না— এই বোধটুকুই যেন ক্রমশ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এ কথা বলাটাই যে লজ্জার, সেই উপলব্ধিও হারিয়ে যেতে বসেছে। নেতাদের অর্থের প্রাচুর্য ও ক্ষমতার দম্ভই তাঁদের সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বহু দূরে সরিয়ে দিয়েছিল।
গত শতাব্দী থেকেই নেতাদের কপটতা ও দুরাচার দেখতে মানুষ অভ্যস্ত। তবু পর্দার আড়ালে অর্থের প্রাচুর্য লুকিয়ে রেখে নেতা অন্তত সাধারণ মানুষের মতো হয়ে সাধারণ মানুষের সামনে আসবেন— এই প্রত্যাশাটুকু ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে কিছু নেতা যে ভাবে নির্বিকার ভঙ্গিতে অর্থের আস্ফালন করে বেড়িয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বড় বড় গাড়ি, অট্টালিকা, কথায় কথায় বিদেশভ্রমণের প্রদর্শনী করেছেন, তাতে সাধারণ মানুষ বিস্মিতই হয়নি, আহতও হয়েছে।
নতুন প্রশাসনকে এও মনে রাখতে হবে, বাংলার একটি অংশের মানুষ শুধু ‘দাদা’দের সঙ্গে ঘুরতে শিখেছেন, আর তার বিনিময়ে বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরাই আবার দলবদলের জন্য প্রস্তুত হবেন, এটাই স্বাভাবিক। ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার ফলাফল পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু আগামী নির্বাচনে বিজেপিই প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে। তাই নতুন নেতৃত্ব যেন পুরনো প্রশাসনের ভুলগুলি থেকে শিক্ষা নেন।
বাংলায় মানুষ সরকারের উপর সম্পূর্ণ অতিষ্ঠ হয়ে না উঠলে সাধারণত সরকার পরিবর্তনের সুযোগ আসে না। সেই অর্থে নতুন সরকারের দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও স্বাভাবিক ভাবেই বেশি।
মনে পড়ে, এই রাজ্যের মানুষগুলিই এক দিন চাকরি, ব্যবসা ও সম্মানজনক স্বাধীন জীবিকার স্বপ্ন দেখত। নতুন সরকার অন্তত সেই স্বপ্ন দেখার সাহসটুকু ফিরিয়ে দিক— এই সামান্য প্রত্যাশাই আজ মানুষের।
পদ্মনাভ মজুমদার, শ্রীরামপুর, হুগলি
দু’টি দাবি
সাধারণ সচেতন মানুষের আকাঙ্ক্ষাগুলি নতুন সরকারের অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত। তেমনই দু’টি বিষয়ের উল্লেখ করা যেতে পারে।
প্রথমত, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষায় আগের মতো পরীক্ষা-ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হোক। প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাপদ্ধতিতে অভ্যস্ত হলে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের শিক্ষার মান অনেক বেশি সহজে মূল্যায়ন করতে পারে। সীমাবদ্ধতা বুঝে শিক্ষার উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় চেষ্টাও করতে শেখে। বিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই এই অভ্যাস গড়ে ওঠা প্রয়োজন এবং তা শিক্ষার পক্ষে স্বাস্থ্যকরও। পরীক্ষা-ব্যবস্থা আবশ্যিক হলে আগামী দিনে শিক্ষার মান আরও বাস্তবমুখী ও সুসংহত হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয়ত, দুর্গাপুজো উপলক্ষে বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন বা আবাসনকে সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রথা বন্ধ করা হোক। কোনও মন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের ‘অনুপ্রেরণা’নির্ভর নয়, বরং মানুষের নিজস্ব উৎসাহ ও উদ্যোগেই হোক দুর্গাপুজো। কার্নিভালের আশ্চর্য প্রথারও অবসান হওয়া প্রয়োজন।
প্রদীপরঞ্জন দাস, কলকাতা-১৫৭
স্বচ্ছ নিয়োগ
গত পনেরো বছরে বিভিন্ন সরকারি দফতরে সুষ্ঠু ভাবে প্রায় কোনও নিয়োগই হয়নি। ফলে সেখানে বিপুল শূন্য পদ রয়েছে। পাশাপাশি, এই রাজ্যে সরকারি দফতরে বিপুল সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। রাজ্যে বিপুল সংখ্যক তরুণ শিক্ষিত বেকার রয়েছেন। সরকারি দফতরগুলির শূন্য পদে স্বচ্ছ ও নিয়মিত নিয়োগের মাধ্যমে তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হতে পারে।
তুষার ভট্টাচার্য, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ
জল নেই
গত তিন বছর ধরে আমাদের গ্রামে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট। আগে গঙ্গার জল তুলে শোধন করে নিয়মিত সরবরাহ করা হত। ট্যাপকলগুলিতে সকাল-বিকেল জল আসত। হঠাৎ সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। আরও উন্নততর পরিষেবার জন্যই নাকি এই ব্যবস্থা।
গ্রামে এখন জলের ব্যবসার রমরমা। কয়েকটি জলের গাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর প্রায় বারো হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে সেই জল কিনে খাচ্ছেন। অথচ সংবিধান জলের অধিকারকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। নতুন প্রশাসনের কাছে আবেদন, দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ করা হোক।
রাজীব মুখোপাধ্যায়, মুড়াগাছা, নদিয়া
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)