মমতাশঙ্কর অমলাশঙ্করের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে যে সাক্ষাৎকার (রবিবাসরীয়, ২৪-৬) দিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে জানাই, উদয়শঙ্করের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সর্বপ্রথম তিন দিনব্যাপী যে অনুষ্ঠান করে, তার উদ্বোধনে ছিলেন অমলাশঙ্কর। এই উপলক্ষে রবীন্দ্রভারতীর দৃশ্যকলা অনুষদের প্রাক্তন অধ্যাপক ছত্রপতি দত্ত ও তাঁর ছাত্রছাত্রীরা অমলাশঙ্কর ও মমতাশঙ্করের সহযোগিতা নিয়ে উদয়শঙ্করের জীবনীকেন্দ্রিক যে অসামান্য আর্ট গ্যালারিটি তৈরি করেছিলেন তা উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তখন স্থির হয়েছিল, আর্ট গ্যালারিটি দৃশ্যকলা অনুষদের স্থায়ী বিল্ডিংয়ে স্থানান্তরিত হবে। তার পর অনেক বছর হয়ে গেল জোড়াসাঁকো প্রাঙ্গণ থেকে দৃশ্যকলা অনুষদ রবীন্দ্রভারতীর বিটি রোডের মরকতকুঞ্জে স্থায়ী ভবনে চলে যায়। কিন্তু উদয়শঙ্করের জীবনীকেন্দ্রিক আর্ট গ্যালারিটি জোড়াসাঁকো প্রাঙ্গণের মিউজ়িয়ামে পড়ে আছে। সম্প্রতি বর্তমান উপাচার্যের কাছে খবরটি পৌঁছনোয় আশা করা যায় ওটি স্থায়ী ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনসাধারণ তা দেখতে পাবেন।

উদয়শঙ্করের নৃত্যঘরানা প্রসঙ্গে জানাই, ১৯৫৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে জোড়াসাঁকো প্রাঙ্গণে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নৃত্য নাটক সঙ্গীত আকাদেমি। সেখানে উদয়শঙ্কর নৃত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। অমলাশঙ্করও সহযোগী অধ্যাপিকা রূপে যুক্ত ছিলেন। এখানেই উদয়শঙ্কর ঘরানার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। আমার উপস্থিতিতে রবীন্দ্রভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য শুভঙ্কর চক্রবর্তী অমলাশঙ্করের কাছে উদয়শঙ্করের নৃত্য ঘরানার প্রশিক্ষণ প্রবর্তনের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তখন তা অনিবার্য কারণে সম্ভব হয়নি। অমলাশঙ্করের জন্মশতবর্ষে রবীন্দ্রভারতীর নৃত্য বিভাগে উদয়শঙ্কর ঘরানা প্রবর্তিত হলে, তা নৃত্যের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শিশির মজুমদার, কলকাতা-৩২

সংস্কৃত শিক্ষা

অতনুশাসন মুখোপাধ্যায়ের ‘ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে’ ও ‘কী ভাবে ঐতিহ্য বাঁচানো যায়’ (২৯-৬, ৩০-৬) শীর্ষক প্রতিবেদন দু’টি পড়লাম । খুবই সময়োপযোগী। লেখককে ধন্যবাদ। পশ্চিমবঙ্গে বঙ্গীয় সংস্কৃত শিক্ষা পরিষদ এখন বোধ হয় অস্তিত্বহীন। দীর্ঘ কাল আদ্য-মধ্য-উপাধি পরীক্ষা হয় না। অধ্যাপক বিষ্ণুপদ ভট্টাচার্য, অধ্যাপক দিলীপ কাঞ্জিলাল প্রমুখের দেহাবসানের পর শাস্ত্র বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করে ছাত্রছাত্রী তৈরি করার চেষ্টা এখন হয় না। চতুষ্পাঠী যে ক’টি আছে, তার পণ্ডিতগণ পৌরোহিত্যই চর্চা করেন। মেদিনীপুরে অবশ্য এখনও শাস্ত্রচর্চা গভীরে হয়। স্মরণাতীত কাল থেকে, এই পরীক্ষায় বা অধ্যয়নে যে প্রায় নিঃশুল্ক বিদ্যাদানের প্রথা প্রচলিত আছে, তা এখনকার অর্থকৌলীন্যযুক্ত ছাত্রছাত্রীর উপহাসের বিষয়। আর জীবনধারণের বাস্তবতায় এই ডিগ্রিগুলি এখন অচ্ছুৎ।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার বহু বছর আগে আচার্য মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়কে চেয়ারম্যান করে একটি রিভিউ কমিটি করেছিল। আচার্য মুখোপাধ্যায়ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করেছিলেন— এতে জীবন-জীবিকা রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে অতীত ঐতিহ্য রক্ষার নিদান ছিল। কিন্তু সে রিপোর্ট ঠান্ডা ঘরে পড়ে রইল। পূর্বতন সরকার সংস্কৃতের অন্তর্জলি যাত্রার পাকাপাকি ব্যবস্থা করল, বর্তমান সরকারও সুদৃষ্টি দিল না। নয়াদিল্লির রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত সংস্থান পণ্ডিতদের অনুদান দেয় বটে, তবে রাজনৈতিক পরিচিতিই সেখানে প্রাধান্য পায়।

কলকাতার শ্রীশ্রীসীতারামদাস ওঙ্কারনাথ সংস্কৃত শিক্ষা সংসদ দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে বেদ-সহ সংস্কৃত শাস্ত্র অধ্যয়ন-অধ্যাপনার ধারা রক্ষা করছে, নিজ ব্যয়ে প্রতি বছর সংস্কৃত পরীক্ষা গ্রহণ করছে। কিন্তু পরীক্ষাটি সরকারি মান্যতা পাচ্ছে না। বঙ্গীয় সংস্কৃত শিক্ষা পরিষদ সুদীর্ঘ কাল পরীক্ষাগ্রহণও করছে না— অপরে নিলেও তাকে মান্যতা দিচ্ছে না। আশ্চর্য সসেমিরা অবস্থা। রাজনৈতিক আনুকূল্য না থাকায় কিছু কিছু চতুষ্পাঠী বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই ঐতিহ্য রক্ষার দায় সকল বঙ্গবাসীর।

পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়  সিউড়ি, বীরভূম

ই-বর্জ্য

‘রাজ্যের কোথাও নেই রিসাইকল কেন্দ্র’ (২৪-৬) পড়ে হতাশ হলাম। বিগত এক দশকে আমাদের জীবনযাত্রার মান যত উন্নত হয়েছে, অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে ই-বর্জ্য বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশে শুধু মোবাইল ফোন রয়েছে প্রায় ১০০ কোটি। এর মধ্যে বাতিল হয় ২০ শতাংশ। এ ছাড়া ঘরে ঘরে রয়েছে টিভি, কম্পিউটার-সহ নানা ধরনের বৈদ্যুতিন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্র। এদেরও জীবনীশক্তি অফুরান নয়। পণ্য উৎপাদকেরাও প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে এমন পণ্য উৎপাদন করছে, যা দ্রুত বদলানোর প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে জমে উঠছে বৈদ্যুতিন ও বৈদ্যুতিক বর্জ্যের পাহাড়। এই বিপুল বর্জ্যের ভার এড়ানোর উপায় খুঁজতে মরিয়া পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা, সেখানে আমাদের রাজ্যে গড়ে উঠল না
‘ই-বর্জ্য হাব’।

একই দিনের অন্য প্রতিবেদন ‘বিপদ জেনেও পেটের টানে বর্জ্যে বন্দি ওঁরা’ পড়ে আতঙ্কিত হলাম। ই-বর্জ্য ‘‘পুড়িয়ে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ উদ্ধার’’ করার সময় সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, ক্লোরিন ও ব্রোমিন— বিপজ্জনক পদার্থগুলো বাতাস, জল ও খাবারের মাধ্যমে প্রবেশ করে এই কাজে যুক্ত মানুষের শরীরে। অথচ ই-ওয়েস্ট (ম্যানেজমেন্ট) রুলস ২০১৬-তে সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে, ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদককে ‘এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেস্পন্সিবিলিটি’–র আওতায় আনা হয়েছে। ওই নিয়মে বলা আছে, উৎপাদককেই ইলেকট্রনিক বর্জ্য সংগ্রহ করে তা তুলে দিতে হবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভেন্ডরকে। উদ্দেশ্য: কোনও মতেই যাতে ইলেকট্রনিক বর্জ্য অসংরক্ষিত ক্ষেত্রে চলে না যায়। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে কই?

‘রিডিউস, রিইউজ় এবং রিসাইকল’ নীতির প্রাত্যহিক প্রয়োগ ই-বর্জ্য অনেক কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি উৎপাদকদেরও পরিবেশবান্ধব উপাদান, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পুরনো বৈদ্যুতিন যন্ত্রের সিস্টেম আপগ্রেড করার ব্যবস্থা এবং খারাপ হয়ে গেলে সারানোর যন্ত্রাংশ সহজলভ্য করতে হবে। এই প্রেক্ষিতে পরিবেশবিদগণ উৎপাদকদের কাছে আর্জি জানাচ্ছেন, ‘রিথিংক প্রোডাক্ট ডিজ়াইন’। আর ইউরোপের দেশগুলোতে বেশ কয়েক বছর আগেই চালু হয়ে গিয়েছে ‘রিডাকশন অব হ্যাজ়ার্ডাস সাবস্ট্যান্স’ নীতি।

নন্দগোপাল পাত্র  সটিলাপুর, পূর্ব মেদিনীপুর

নীতি শেখানো

‘উচিত অনুচিত’ (৩০-৬) সম্পাদকীয় নিবন্ধে যথার্থই বলা হয়েছে, মোবাইল ও ইন্টারনেটে আচ্ছন্ন, বাস্তব সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন আজকের শিশুদের মনে নীতিনিষ্ঠতা এবং ঔচিত্যবোধ গুণ প্রোথিত করা যেতে পারে। তবে দুঃখের হলেও সত্যি, আজকের অনেক পিতামাতাই সন্তানদের উল্টো শিক্ষাটাই দেন। আমার পরিচিত এক অভিভাবকের ছেলে স্কুল স্পোর্টসে একশো মিটার দৌড়ে প্রথম হয়। যে ছেলেটি অনেকটা এগিয়ে ছিল সে হঠাৎ পড়ে যায়। প্রথম হওয়া বালকটিকে আমি ভুলিয়েভালিয়ে ক্যাডবেরি হাতে দিয়ে জিজ্ঞাসা করি, যার প্রথম হওয়ার কথা ছিল, সে পড়ল কী করে? সে বলল, ‘‘কেন, আমি ল্যাং মেরে দিলাম আর ও পড়ে গেল। আমি ফার্স্ট হয়ে গেলাম।’’ বিস্ময় আরও অপেক্ষা করছিল। সে বলল, ‘‘বাবা এই টেকনিকটা আগেই আমাকে বলে দিয়েছিল।’’ এর পর নীতিনিষ্ঠতা এবং ঔচিত্যবোধ কতটা শিশুদের কাজে লাগবে, ঈশ্বর জানেন!

সুদর্শন নন্দী  রাঙামাটি, মেদিনীপুর শহর

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ই-মেলে পাঠানো হলেও।