‘খোলাখুলি যা বলা দরকার’ (২৭-১১) তা বলতে গিয়ে সুগত মারজিৎ বলছেন, ‘‘দেশটাকে চালাতে ধর্ম বাদ দেবেন না। ধর্মের মেলবন্ধনটাই আসল।’’ কিন্তু এখানে তিনি দু’ধরনের ধর্মের উল্লেখ করেছেন। আধ্যাত্মিকতা একটি ধর্ম; আবার নাস্তিকতা আলাদা একটি ধর্ম। দুই ধর্মের মধ্যে কোন ধর্মকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দেশ চালাবার পরামর্শ দিচ্ছেন জানি না। এটাও খোলাখুলি বলা দরকার। এখানে মূলত আধ্যাত্মিকতাকে বাদ না দিয়ে চলার কথাই তিনি বলেছেন। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কিছু বক্তব্য আছে। তিনি বলছেন, ‘‘ধর্মের মোহ মানুষকে নির্জীব করে রাখে। তার বুদ্ধিকে নিরর্থক জড় অভ্যাসের নাগপাশে অস্থিতে-মজ্জাতে নির্দিষ্ট করে ফেলে। যে দেশে প্রধানত ধর্মের মিলেই মানুষকে মেলায়, অন্য কোনও বাঁধনে তাকে বাঁধতে পারে না, সে দেশ হতভাগ্য। সে দেশ স্বয়ং ধর্মকে দিয়ে যে বিভেদ সৃষ্টি করে সেটি সকলের চেয়ে সর্বনেশে বিভেদ।’’ (কালান্তর, হিন্দু-মুসলিম)। 

এখানে যা খোলাখুলি বলা দরকার তা হল, বুদ্ধদেব-শ্রীচৈতন্য-জিশু খ্রিস্টরা যেমন ঐতিহাসিক ব্যক্তি, রামচন্দ্র কিন্তু তেমন কোনও ঐতিহাসিক ব্যক্তি নন। রামচন্দ্র হলেন পৌরাণিক ব্যক্তি। রামচন্দ্রের জন্মের আগেই তাই বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করতে পেরেছিলেন। রামায়ণ গ্রন্থের সামাজিক প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে, কিন্তু এ নিয়ে মারপিট, হইচই বা ‘দা-কাটারি নিয়ে মুখিয়ে’ থাকাটা কেবল অন্যায় নয়, নির্বুদ্ধিতারও পরিচায়ক। এতে ভোটবাবুদের সুবিধা হয়, অসুবিধা হয় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের। মন্দির প্রসঙ্গে বিবেকানন্দ বলছেন, ‘‘কোটি টাকা খরচা করে, কাশী-বৃন্দাবনের ঠাকুর ঘরের দরজা খুলছে আর পড়ছে। এই ঠাকুর কাপড় ছাড়ছেন তো ঐ ঠাকুর ভাত খাচ্ছেন তো ঠাকুর আঁটকুড়ির ব্যাটাদের গুষ্টির পিণ্ডি করছেন। এদিকে আসল জ্যান্ত ঠাকুর অন্ন বিনা, বস্ত্র বিনা মরছে।’’ বিবেকানন্দ বলছেন, ‘‘সো লং অ্যাজ় ইভন আ সিঙ্গল ডগ ইন মাই কান্ট্রি হ্যাজ় নো ফুড, মাই হোল রিলিজিয়ন উইল বি টু ফিড দেম।’’ এই বিবেকানন্দকে সম্ভবত বিজেপি-আরএসএস-ভিএইচপি নেতাদের খুব অচেনা লাগছে। এই বিবেকানন্দই বলছেন, ‘‘আমার যদি একটা সন্তান থাকত, তাকে মনঃসংযোগের অভ্যাস এবং সেই সঙ্গে এক পঙ্‌ক্তির প্রার্থনা ছাড়া আর কোনও প্রকার ধর্মের কথা আমি শিখতে দিতাম না। তার পর সে বড় হয়ে খ্রিস্ট, বুদ্ধ বা মহম্মদ যাকে ইচ্ছা উপাসনা করতে পারবে। সুতরাং এটা খুবই স্বাভাবিক যে একই সঙ্গে সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে এবং নির্বিরোধে আমার ছেলে বৌদ্ধ, আমার স্ত্রী খ্রিস্টান এবং আমি নিজে মুসলমান হতে পারি।’’ এই ধর্মীয় নেতার সঙ্গে বর্তমানে ধর্মের ধ্বজাধারীদের দূরত্ব বেশ কয়েক যোজন। এর পরও একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের পরিচালনায় ধর্মকে আঁকড়ে ধরতে হবে?

গৌরীশঙ্কর দাস

সাঁজোয়াল, খড়্গপুর

কলেজের পরীক্ষা

আমি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বহরমপুর গার্লস কলেজের ছাত্রী। আমাদের ফার্স্ট সেমেস্টার পরীক্ষায়, পরীক্ষা-কেন্দ্ৰ নির্বাচিত হয় হরিহরপাড়া হাজি এ কে খান কলেজ। যা বহরমপুর থেকে ১৮ কিমি দূরত্বে, রাস্তার অবস্থাও অত্যধিক বাজে। বাসগুলিতে মানুষ ঠাসা। অগত্যা ট্রেকারে প্রাণ হাতে নিয়ে ঝুলতে ঝুলতে যাওয়া একমাত্র উপায়। এত কাহিল পরিশ্রমের পর অনেক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের পরীক্ষা স্বাভাবিক ভাবেই ভাল হয় না। আমার বক্তব্য, কলেজের পরীক্ষা কি কলেজ নিলেই ভাল হয় না? যদি বাইরে থেকে ইনভিজিলেটর আনা সম্ভব হয়, তা হলে সমস্ত ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে।

উর্মি সাহা

বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

বিধবাদের কথা

বীরেন সরকারের ‘পেনশন বাড়ে না’ (৩-১২) চিঠির ভিত্তিতে বলি, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের পেনশন হয়তো বাড়ছে না, মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রীদের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। তাঁরা তাঁদের মৃত স্বামীর পেনশনের মাত্র ১৫ শতাংশ পান, যা দিয়ে বর্তমান সময়ে জীবনধারণ করা অসম্ভব। পারিবারিক পেনশনের মাত্রা খুবই বাড়ানো উচিত। 

প্রীতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী

ইমেল মারফত

সকলকেই

বীরেন সরকার কেবলমাত্র ব্যাঙ্ক কর্মচারীদেরই পেনশনের কষ্টের কথা উল্লেখ করেছেন। এক জন অবসরপ্রাপ্ত বিদ্যালয় শিক্ষক হিসাবে আমাকেও একই যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। তবে, ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ‘কর্মচারীদের দেওয়া পেনশন ফান্ড থেকে’ পেনশন হলেও, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সরকার বাহাদুর প্রদত্ত পেনশন গ্রহণ করতে হয়। তাই আমার নিবেদন: পেনশনভোগীদেরও বাজারের অবস্থানুসারে ইনক্রিমেন্ট-এর মতো ব্যবস্থা হোক। 

শিবপ্রসাদ ভট্টাচার্য

হাবরা, উত্তর ২৪ পরগনা

শংসাপত্র

কেন্দ্রীয় সরকারের পেনশন প্রাপকদের প্রতি বছর নিজ পেনশন প্রদানকারী সংস্থায় (ব্যাঙ্ক বা ডাকঘর) জীবন প্রমাণ শংসাপত্র জমা দিতে হয়। শংসাপত্রটি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা ডাকঘর থেকে সংগ্রহ করতে হয়। ইদানীং ব্যাঙ্কগুলি প্রচলিত শংসাপত্রের পরিবর্তে ‘ডিজিটাল’ জীবন প্রমাণ শংসাপত্র চালু করেছে এবং পেনশন প্রাপকগণ ব্যাঙ্ক থেকেই নতুন শংসাপত্র পাচ্ছেন। কিন্তু ডাক কর্তৃপক্ষ এই শংসাপত্র সংশ্লিষ্ট ডাকঘরের পরিবর্তে, বিভাগীয় ডাকঘর থেকে কয়েকটি নির্ধারিত দিনের মধ্যে সংগ্রহ করার আদেশ জারি করেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই পেনশন প্রদানকারী ডাকঘর থেকে বিভাগীয় ডাকঘর আট/দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পেনশন প্রাপকদের অনেকেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতার জন্য প্রায় অচল অবস্থায় বেঁচে আছেন। একেবারে চলচ্ছক্তিশূন্য পেনশন প্রাপকও আছেন। আশি, নব্বই বা তদূর্ধ্ব বয়সের এমন পেনশন প্রাপক আছেন যাঁরা একক জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন, যাঁদের পাশে দাঁড়াবার কেউ নেই। ‘ডিজিটাল’ শংসাপত্র চালু করার প্রয়োজনীয়তা নিঃসন্দেহে যুক্তিসম্মত। কিন্তু এটা ব্যাঙ্কের গৃহীত পথে করা যাবে না কেন? 

চুনী ভরদ্বাজ

কলকাতা-৫৫

মালদহ বইমেলা

মালদহের বইমেলা উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড়। মালদহ কলেজ মাঠের অবস্থান যে হেতু শহরের প্রাণকেন্দ্রে, তাই এখানে বই মেলার সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। মেলার বিস্তার ও শহরবাসীর সুবিধার্থে, মেলাটিকে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনে স্থানান্তরিত করা হোক।

আদর্শ মিশ্র

মালদহ

সাঁতরাগাছি ঝিল

১৩ লক্ষ ৭৫ হাজার বর্গফুটের সাঁতরাগাছি ঝিলটি হাওড়ায় অবস্থিত। এই বিরাট ঝিলটিতে আবর্জনা ফেলার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে জরিমানার প্রস্তাবও করা হয়েছে। ঝিলের পাখিরালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কেন্দ্রের রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। অবৈজ্ঞানিক ভাবে ঝিল সাফাইয়ের জন্য সাঁতরাগাছি ঝিলে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমছে। আগে সাঁতরাগাছি ঝিলে কচুরিপানার দ্বীপ ছিল ১০টির বেশি। পরে ঝিল সাফাইয়ে কচুরি পানার দ্বীপ কমে হয় তিনটি। ফলে পরিযায়ী পাখিদের বিশ্রামের জায়গা ও খাবারের জোগান কমে যায়। বনবিভাগের সহযোগিতায় বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ঝিলটির তদারকি করে সাঁতরাগাছি ঝিলের ঐতিহ্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

বিশ্বরঞ্জন সরকার

হাওড়া

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।