প্রণব বর্ধনের সাক্ষাৎকার ‘ক্ষমতায়নই মূল উদ্দেশ্য’ (২৩-১)সম্পর্কে কিছু বক্তব্য। 

ডক্টর বর্ধনের মতে, যে দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা বাইরে কাজ করেন না, ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’ (ইউবিআই)-এর মাধ্যমে তাঁদের ক্ষমতায়নের পথ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য যে অধিকাংশ মেয়ে এখনও আর্থিক লেনদেন ও আনুষঙ্গিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে বাড়ির পুরুষ সদস্যদের উপর নির্ভরশীল। 

দরিদ্র পরিবারগুলির মেয়েদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যে টাকা জমা পড়বে, তার যথোপযুক্ত ব্যয় হবে কি না, তা নির্ভর করছে ওই পরিবারে মেয়েটির মর্যাদাগত অবস্থান, স্বাধীনতা ও শিক্ষার উপর।

বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের প্রান্তিক মানুষদের ক্ষমতায়নের অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে ইউবিআই। কিন্তু এই নিঃশর্ত অনুদান যে তাঁদের কাজ করার স্পৃহা হ্রাস করবে না, তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় কি? শুধু তা-ই নয়, বিনা পরিশ্রমে প্রাপ্ত অর্থ যে তাঁরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করবেন, তারও নিশ্চয়তা নেই। এনরেগা প্রকল্পের মাধ্যমে হাতে আসা টাকা খরচের ক্ষেত্রে স্বাধিকারের বিষয়টি জড়িয়ে থাকলেও, তার সঙ্গে যুক্ত প্রয়োজন, দায়িত্ববোধ ও যুক্তিবোধ। 

কিন্তু সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল: ইউবিআই-এর জন্য অর্থের সংস্থান। ফোরগন রেভিনিউ, ডিজ়ইনভেস্টমেন্ট, অনুৎপাদনশীল ক্ষেত্রে ভর্তুকি বন্ধ— প্রভৃতির মাধ্যমে অর্থের জোগান যথেষ্ট নয়। বাকি রইল আয়কর বৃদ্ধি, যার নেতিবাচক প্রভাব চাকরিরত মধ্যবিত্তদের উপর অবশ্যই পড়বে। দুর্ভাগ্যবশত, এই মধ্যবিত্ত শ্রেণি নীতিনির্ধারকদের অগ্রাধিকারের তালিকাভুক্ত হয়ে ওঠেনি কখনওই। অতএব, ইউবিআই ভারতের ন্যায় মিশ্র অর্থনীতির পক্ষে কতটা কার্যকর, তার আলোচনা হোক বৃহত্তর পরিসরে।

মৌমিতা সিংহ রায়

কলকাতা-১১০

 

অবিচার

প্রণব বর্ধনের সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষিতে বলি, আর্থিক ভাবে অনগ্রসর ৬৬% মানুষের (সরকারি হিসেব অনুযায়ী দারিদ্ররেখার নীচে ২২% আর তাদের উপরে থাকা আরও ৪০% মানুষ, যাঁদের জীবনেও নানা অনিশ্চয়তা এবং সুরক্ষার অভাব) ক্ষমতায়নই যদি কোনও সরকারি প্রকল্পের মুখ্য উদ্দেশ্য হয়, তবে কেন অধ্যাপক বর্ধন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব পরিবারকেই সরকারি অনুদান প্রদানের প্রস্তাব করছেন? আয়করের আওতাভুক্ত লোকজন, অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত সম্পন্ন চাকরিজীবী ও উদ্যোগপতিদের পরিবারকে এই বন্ধনীর বাইরে রেখে প্রতিটি দরিদ্র পরিবারকে প্রতি বছর যদি ১৬০০০ টাকার বেশি অনুদান দেওয়া সম্ভবপর হয়, তবে তো সেই চেষ্টাই আগে করা উচিত। 

তা ছাড়া ‘বেসিক ইনকাম’ প্রদান তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত, যাঁদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ‘বেসিক ইনকাম’-এর কোনও রকম সংস্থান নেই। ধনী-মধ্যবিত্তকে যদি এই ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে তা কি ‘বেসিক ইনকাম’-এর ধারণার প্রতি চরম অবিচার নয়? 

গৌতম নারায়ণ দেব

কলকাতা-৭৪

 

রক্ত জোগাড়

মুমূর্ষু এবং অস্ত্রোপচারের রোগীর জন্য অনেক সময়ই অতিরিক্ত রক্তের প্রয়োজন হয়। তখন হাসপাতাল থেকে রোগীর আত্মীয়দের বলা হয়, তাড়াতাড়ি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত নিয়ে আসতে। অনেক সময়ই সেই রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে তাঁদের প্রচণ্ড সমস্যায় পড়তে হয়। 

এমনও দেখা গিয়েছে, রোগীর আত্মীয়েরা রক্তের জন্যে বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কের দরজায় দরজায় হন্যে, রক্ত পাচ্ছেন না, রোগী অপারেশন টেবিলে শুয়ে জীবন-মৃত্যুর দোলায় দুলছেন। ধনী এবং প্রভাবশালী লোকদের কথা বাদ দিন, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এটা একটা জ্বলন্ত সমস্যা।

দুর্ঘটনা বা জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য এক জন রোগীকে হাসপাতাল ভর্তি নিলে, তাঁর ওষুধপত্র-সহ চিকিৎসার যাবতীয় উপকরণ জোগানোর দায়িত্ব স্বাভাবিক ভাবে সেই হাসপাতালের উপরই বর্তায়। ওষুধ-সহ অন্য সব জিনিস যখন হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়, তখন রক্ত রোগীর আত্মীয়কে জোগাড় করে আনতে বলা হবে কেন? বেশির ভাগ বড় সরকারি হাসপাতালেই ব্লাড ব্যাঙ্ক আছে, তারা সেটা সোজাসুজি সেখান থেকে আনিয়ে নিতে পারে। সেই প্রক্রিয়া বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চালু হওয়া প্রয়োজন।

চণ্ডীচরণ দাস

কলকাতা-১৫৪

 

পিতৃত্বের ছুটি

‘পিতৃত্বের ছুটি’ (১৮-১) বিষয়ে বেশ কয়েকটি নির্দেশ নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। ৩০ দিনের পিতৃত্বের ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, ছুটি নিতে হবে স্কুলের সুবিধা-অসুবিধা দেখে এবং পঠনপাঠন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন না ঘটিয়ে। কিন্তু সন্তানের অসুবিধা বা কোনও সমস্যা কি পঠনপাঠন বা বিদ্যালয়ের স্বার্থ দেখে আসবে? 

এই মুহূর্তে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে যেখানে বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী ও যথেষ্ট কম পরিমাণে শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন, সেখানে যে দিনই ছুটি নেওয়া হোক না কেন, পঠনপাঠন বিঘ্নিত হবে। তা হলে শিক্ষকেরা পিতৃত্বের ছুটি নেবেন কবে, কখন ও কী ভাবে? 

২০১৬ সালে রাজ্যে ঘোষণা হয় পিতৃত্বের ছুটি, সেখানে শিক্ষা দফতরে এই নিয়ম চালু করতে তিন বছর কেটে যায়। এটা কি শিক্ষকদের উপেক্ষা নয়? 

পিতৃত্বের ছুটি কী কী কারণে নেওয়া যেতে পারে, বরং তার যুক্তিগ্রাহ্য, বাস্তব কারণগুলো উল্লেখ করা হোক নির্দেশিকায়— যাতে সন্তানদের প্রকৃত সমস্যার সময়, যদি কোনও শিক্ষক তাঁর সন্তানের পাশে থাকতে চান, তখন বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন বা অন্য বিষয়গুলো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

মহম্মদ মগদুম

কালিন্দি, পূর্ব মেদিনীপুর

 

বন্ধ হয়নি

‘বন্ধ হয়ে যেত’ (২৩-১) শীর্ষক পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানাই, গুজরাতের সানন্দে টাটাদের গাড়ির কারখানা ভাল ভাবে চলছে। এখন ওখানে ন্যানোর বদলে অন্য মডেলের গাড়ি তৈরি হচ্ছে। আর, ‘‘আমও গেল ছালাও গেল’’— এই হল বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরের অবস্থা।

সুদর্শন চক্রবর্তী

কলকাতা-৯৬

 

দিবস পালন

২৩ জানুয়ারি, ২৬ জানুয়ারি এবং ১৫ অগস্ট স্কুলে আসা বাধ্যতামূলক কি নয়, এই প্রশ্নে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে নানান আলোচনা চলতে থাকে। আমার কয়েকটি পরামর্শ—  

১) বর্তমানে সিসিই (কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড কন্টিনিউয়াস ইভ্যালুয়েশন) পদ্ধতিতে যে মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে, সেখানে শিক্ষা শুধুমাত্র ক্লাসরুমের গণ্ডির মধ্য আবদ্ধ না রেখে ক্লাসরুমের বাইরে ব্যাপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। 

২) সিসিই-র প্রধান লক্ষ্য ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রধানত দশটি শিখন-সামর্থ্য গড়ে তোলা; এর মধ্য প্রধান কয়েকটি হল নীতিজ্ঞান, দলগত কাজ, সমাজ ও জ্ঞান ইত্যাদি। নীতিজ্ঞান অর্জনের সামর্থ্য সৃষ্টির সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি এই সব পালনদিবস ছাড়া আর কী হতে পারে। 

৩) এই দিবসগুলি পালন বা পূর্বপ্রস্তুতির মধ্য দিয়ে দলগত সংহতির বিষয়টিও ছাত্রদের অভ্যেসের আওতায় আসছে। 

৪) নিজের পরিচিত গণ্ডি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জনও দিবসগুলি পালনের মাধ্যমে অনেকটাই সম্ভব। তাই এই দিনগুলিকে ছুটি হিসাবে বিবেচনা না করে কর্মদিবস হিসাবে ধরলে বিষয়টি অনেক যুক্তিযুক্ত হবে।

শুভাশিস সিংহরায়

প্রসাদপুর, হুগলি

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।