রানির বয়স বেড়েছে, তাই অভিনেত্রী বদল

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ় ‘দ্য ক্রাউন’-এর তিন নম্বর সিজ়ন শুরু হতে চলেছে। এ বার দেখানো হবে ১৯৬০-এর দশক, তাই রানি এলিজ়াবেথকেও একটু বয়স্ক দেখানো হবে। এর আগের মরসুমে রাজকুমারী ও তরুণী রানি এলিজ়াবেথের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ক্লেয়ার ফয়, এ বার তাঁর জায়গায় আসছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী অলিভিয়া কোলম্যান। সিরিজ়ে দেখানো হবে, ওয়েলস-এর দুর্গে যুবরাজ চার্লসের অভিষেক হচ্ছে ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ রূপে। আসল অভিষেকের অনুষ্ঠানটি এত প্রচারিত ও জনপ্রিয় হয়েছিল, সারা বিশ্বের ৫০ কোটি মানুষ দেখেছিলেন তা। এই সিজ়নের অনেকটা জুড়ে থাকবেন রানির ছোট বোন প্রিন্সেস মার্গারেটও, বিতর্কিত জীবনযাপনের জন্য মাঝেমধ্যেই যিনি খবরের শিরোনামে চলে আসতেন।

যুগল: ‘দ্য ক্রাউন’ সিরিজ়ে অলিভিয়া কোলম্যান ও জোশ ও’কনর। ডান দিকে, রানি দ্বিতীয় এলিজ়াবেথ ও যুবরাজ চার্লস

 

নতুন রাজকবি

বাকিংহাম প্যালেস ইঙ্গিত দিয়েছে, পরবর্তী ‘পোয়েট লরিয়েট’ কমনওয়েলথ-সূত্রে সংশ্লিষ্ট ও সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর কেউ হলে ভাল। যে নামগুলো হাওয়ায় ভাসছে: সাংবাদিক অনিল ধারকর-এর প্রাক্তন স্ত্রী ও অভিনেত্রী আয়েশা ধারকর-এর মা ইমতিয়াজ় ধারকর, জন্মসূত্রে পঞ্জাবি ব্রিটিশ কবি দলজিৎ নাগরা এবং ভি এস নয়পলের তুতো বোন, ত্রিনিদাদের বাহনি কপিলদেও। তিন কবিরই কোনও না কোনও ভারতীয় যোগসূত্র আছে। বিবিসি রেডিয়ো ফোর-এর প্রথম ‘পোয়েট ইন রেসিডেন্স’ দলজিৎ কবিতা লেখেন ইংরেজি-পঞ্জাবি মেশানো ‘পাংলিশ’ ভাষায়। ইমতিয়াজ় কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরির পূর্বতন ‘পোয়েট ইন রেসিডেন্স’, লন্ডনের মেট্রো রেলে তাঁর কবিতা খোদাই করা আছে। সম্প্রতি বাকিংহাম প্যালেসে এক প্রদর্শনীতে ‘রয়্যাল কালেকশন’-এর ছবিগুলির কাব্যিক পর্যালোচনাও করেছেন তিনি। আর ‘ফরোয়ার্ড প্রাইজ়’ বিজয়ী কবি বাহনির বড় হয়ে ওঠা ত্রিনিদাদে, পরে ব্রিটেনে আসেন। তাঁর কবিতায় মেলে ভারতীয় ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান সুর। ব্রিটেনে ‘পোয়েট লরিয়েট’-এর ঐতিহ্য কয়েক শতাব্দীর। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রানি বা রাজা নির্বাচন করেন ‘পোয়েট লরিয়েট’, যাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান বা উপলক্ষগুলি নিয়ে কবিতা লেখা। প্রথম আনুষ্ঠানিক পোয়েট লরিয়েট ছিলেন জন ড্রাইডেন, ১৬৮৮ সালে রাজা দ্বিতীয় চার্লস তাঁকে নিয়োগ করেন। বর্তমান পোয়েট লরিয়েট ক্যারল অ্যান ডাফি-র মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছর এপ্রিলে।

 

 

জয়জয়কার

লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স-এ এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা হল ‘ডিএসসি প্রাইজ় ফর সাউথ এশিয়ান লিটরেচার’-এর শর্টলিস্ট। বাঙালিদেরই আধিপত্য সেখানে। চার বিচারকের মধ্যে দু’জন বাঙালি— লেখক-সমাজকর্মী নন্দনা দেব সেন ও বাংলাদেশের ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইংরেজির অধ্যাপক ফিরদৌস আজ়িম। বিচারকদের প্রধানও বাঙালি— ইতিহাসবিদ ও অশোকা ইউনিভার্সিটির চান্সেলর রুদ্রাংশু মুখোপাধ্যায়। শর্টলিস্টে ঠাঁই পাওয়া বই— আ স্টেট অব ফ্রিডম— লিখেছেন নীল মুখোপাধ্যায়। আর একটি বই ‘হরিলাল অ্যান্ড সন্স’-ও কলকাতার এক মারওয়াড়ি পরিবারকে ঘিরে লেখা। জানুয়ারিতে দেওয়া হবে ২৫০০০ ডলার মূল্যের এই পুরস্কার। 

 

 

দুই টিউলিপ

অভ্রংলিহ: স্থপতির চোখে ‘দ্য টিউলিপ’

নতুন নতুন আকাশছোঁয়া বাড়ি মাথা তুলছে, আর পাল্টে যাচ্ছে লন্ডনের স্কাইলাইন। এ বার লন্ডন পেতে চলেছে তার সবচেয়ে উঁচু বহুতল— ১০০০ ফুট লম্বা ‘দ্য টিউলিপ’। দেখতে হবে টিউলিপ ফুলগাছের মতো; লম্বা সরু কাণ্ড, উপরটা টিউলিপ ফুলের আকৃতির। আর এক বিখ্যাত বহুতল ‘দ্য গেকিন’-এর থেকেও উঁচু হবে ‘দ্য টিউলিপ’, আর টেমসের দক্ষিণে, লন্ডনের সর্বোচ্চ বহুতল ‘দ্য শার্ড’-এর চেয়ে লম্বায় মাত্র চার মিটার কম। টাওয়ারের একেবারে উঁচুতে কুড়ি হাজার সরকারি স্কুলপড়ুয়ার জন্য একটি শিক্ষণকেন্দ্র থাকবে। কাচের স্লাইড, গন্ডোলা-আকৃতির যানে রাইড-এর পরিকল্পনাও আছে। ২০২০ সালে নির্মাণ শুরু হবে, শেষ হবে ২০২৫-এর মধ্যে। সব শুনে লেবার পার্টির সাংসদ টিউলিপ সিদ্দিক টুইট করেছেন, ‘আমি জীবনে যত লম্বা হতে পারব, এ তার চেয়ে অনেক লম্বা।’ টিউলিপ হাউস অব কমন্স-এর সব সদস্যের মধ্যে সবচেয়ে বেঁটে, উচ্চতা মাত্র পাঁচ ফুট!