অর্থমন্ত্রকে সচিব থাকাকালীন তিনিই নোট বাতিলের ধাক্কা সামলেছিলেন। পরে হন রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর। এখন প্রধানমন্ত্রীর ‘প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি-২’ শক্তিকান্ত দাস বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয়ে তাঁর ‘বস’-এর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসাবে আবির্ভূত হচ্ছেন। সরকারি মহলে প্রভাব, ফাইল ও পরিসংখ্যান নিয়ে তাঁর দক্ষতা বাকিদের চেয়ে অনেক বেশি বলে সবাই টের পাচ্ছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর ভূমিকা আরও বড় হতে চলেছে, বিশেষ করে দেশে ও বিদেশে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ ও সমন্বয় তৈরিতে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর এবং তামিলনাড়ু ক্যাডারের ১৯৮০ ব্যাচের আইএএস অফিসার শক্তিকান্ত গত এক দশকের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঘটনার সাক্ষী। জিএসটি বাস্তবায়ন থেকে অতিমারি, জি২০, আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চ— শক্তিকান্তের শক্তি নীরবে বেড়ে চলেছে।
সম্মুখে: গত এক দশকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঘটনাবলির সাক্ষী শক্তিকান্ত দাস।
নিজ জটে আটকে
‘মাদার অব অল ডিলস’-এর জন্য ভারতে এসেছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতৃত্ব। চুক্তির পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার কথা কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গয়াল ও বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর। দিল্লির জাতীয় মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী এলেও অনুপস্থিত বিদেশ সচিব। ওই দিন বিদেশি অতিথিদের যাতায়াতের কারণে মাঝেমধ্যেই বন্ধ রাখা হচ্ছিল একাধিক রাস্তা। বিদেশ সচিব সাংবাদিক সম্মেলনে আসার পথে জনপথ রোডে এমনই যানজটে আটকে যান। দীর্ঘ সময় পরে গাড়ি থেকে নেমে এক নিরাপত্তারক্ষী ও সহকারী আমলার সঙ্গে হন্তদন্ত হেঁটেই জাতীয় মিডিয়া সেন্টারে পৌঁছন। ফলে বেশ খানিকটা অপেক্ষার পরেই শুরু হয় সাংবাদিক সম্মেলন।
মুখ চেয়ে
লালুপ্রসাদ ও মুলায়ম সিংহ যাদবের পুত্রদ্বয়ের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক পারিবারিক ভাবেই মধুর। এঁদের শৈশব থেকেই দেখছেন। তেজস্বী বা অখিলেশও তাঁকে মান্যতা প্রদর্শনে পরাঙ্মুখ নন। তারই সাম্প্রতিক সংস্করণ দেখা গেল অখিলেশের সিদ্ধান্তে। তাঁর দল এসপি, দেশের বিভিন্ন শহরে ‘ভিশন ইন্ডিয়া’ সম্মেলন করছে। উদ্দেশ্য, বিভিন্ন পেশায় কর্মরত পেশাদারদের সঙ্গে মত বিনিময়, নিজেদের দর্শন তুলে ধরা। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, ভুবনেশ্বরের পর কথা ছিল কলকাতায় সম্মেলনের। কিন্তু অখিলেশের সিদ্ধান্ত, ভোটের মুখে দাঁড়ানো বাংলায়, এই সময়ে এই আয়োজনে ভুল বার্তা যাবে। এসপি-র রাজ্যে ভোটে লড়ার অভিপ্রায়ও নেই। মুখ্যমন্ত্রীর সমস্যা হয়, এমন কোনও কাজ পশ্চিমবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে করতে চান না অখিলেশ যাদব।
আনারের উত্থান
নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন আনন্দীবেন পটেল। এখন তিনি উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল। গুজরাতের রাজনীতিতে তিনি বরাবরই মোদীর সবচেয়ে আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত। এ বার আনন্দীবেনের কন্যা আনার পটেল গুজরাতের প্রভাবশালী ও বিপুল সম্পত্তির মালিক লেউভা পটেল সংগঠনের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হলেন। এই সংগঠন রাজকোটের বিখ্যাত খোদাল ধাম মন্দির পরিচালনা করে। গত এক দশক ধরেই আনারের রাজনীতিতে আসা নিয়ে গুঞ্জন চলছে। আনারের নতুন পদে উত্থান রাজনৈতিক ভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তিনি ব্যবসায়ী ও পটেল সমাজের নেতা নরেশ পটেলের জায়গায় এসেছেন। বিজেপি নেতাদের বহু দিনের অভিযোগ ছিল, নরেশ কিছু পটেল অধ্যুষিত আসনে কংগ্রেসকে সাহায্য করছেন। এখন বিজেপি নেতাদের ধারণা, আনার এ বার আগামী বছরের গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে লড়বেন। সে ক্ষেত্রে পটেল সমাজের সমর্থন তাঁর সঙ্গে থাকবে। মায়ের সাহায্য তিনি পাবেন। সর্বোপরি নরেন্দ্র মোদীর আশীর্বাদ তাঁর কন্যাসম আনারের মাথায় থাকবে।
অভ্যুদয়: আনার পটেল।
ডাল-বাটি-চুরমা
নানা দেশের স্পিকারদের সম্মেলন উপলক্ষে সংসদে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন স্পিকার ওম বিড়লা। শেষে ছিল সাংবাদিকদের জন্য মধ্যাহ্নভোজ। প্রথামাফিক, মধ্যাহ্নভোজে নিরামিষের ব্যবস্থা। রাজস্থানের সাংসদ ওম বিড়লার কাছে সাংবাদিকদের অনুরোধ, পরের বার যেন রাজস্থানের ‘বিশেষত্ব’ ডাল-বাটি চুরমা থাকে। স্পিকারের আশ্বাস, বাজেট অধিবেশনের শেষের মধ্যাহ্নভোজে অবশ্যই থাকবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)