স্পেন সরকার প্রায় পাঁচ লক্ষ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করল— এ বার তাঁদের আইনত চাকরি পাওয়ার পথে আর কোনও বাধা থাকবে না। তাঁদের এক বছরের জন্য স্পেনে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে, এবং প্রতি বছর এই অনুমতির নবীকরণ প্রয়োজন হবে। এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে নির্দিষ্ট সময় স্পেনে বসবাস করার এবং অপরাধমুক্ত থাকার প্রমাণ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ় একে ‘ন্যায়ের অভিমুখে পদক্ষেপ’ বললেও অর্থনৈতিক তাগিদও স্পষ্ট— দ্রুত বার্ধক্যের পথে হাঁটছে স্পেন, ফলে শ্রমশক্তিতে টান পড়ছে, চাপ বাড়ছে জনপরিষেবার উপরে। কাজ করার মতো লোক চাই সে দেশে। স্পেনের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ। যখন ইটালি, ফ্রান্স বা জার্মানির মতো দেশ অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে, স্পেন সেখানে উল্টো পথে হাঁটছে— অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। যদিও এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে; বিরোধীদের অভিযোগ, এতে অবৈধ অভিবাসন উৎসাহিত হবে। প্রশ্ন হল, যে মানুষরা বহু দিন ধরেই অর্থনীতির ভিত গড়ে তুলছেন, তাঁদের স্বীকৃতি না-দিয়ে কি ন্যায়বিচার সম্ভব?
চিন্তিত: স্পেনে কত দিন আছেন, সেই সংক্রান্ত নথি জোগাড়ের লাইনে অভিবাসীরা।
তাতা থৈথৈ
ষোলো বছরের একটা সরকার পাল্টে গেলে, দেশের আবহটা কেমন হতে পারে? হাঙ্গেরিতে উগ্র দক্ষিণপন্থী নেতা ভিক্টর অরবানের দল নির্বাচনে পরাজিত হল, পেটার মাদিয়ারের দল টিসা পার্টি ক্ষমতায় আসবে এ বার। বুডাপেস্টের রাজপথে দলে দলে মানুষ আনন্দে আত্মহারা, সব গাড়ি এক সঙ্গে এক ছন্দে-লয়ে হর্ন বাজাচ্ছে, কিন্তু সব ছাপিয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রে বিজয়ী দলেরই আর এক নেতা জ়োল্ট হিগেডুশ— দল জেতার খবরে বাঁধনহারা উদ্দাম নেচেছেন! জ়োল্ট দেশের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তাঁর এমন নাচের দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে— সবাই রসিকতা করছেন, এমন নাচ সুস্বাস্থ্যেরই লক্ষণ বটে! এ বার দেশের ভবিষ্যতের, উপরন্তু গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষা হলেই হয়!
আতঙ্কের প্রহর
তুরস্কের কাহরামানমারাসে এক ১৪ বছরের ছাত্রের গুলি প্রাণ কাড়ল আট শিশু ও এক শিক্ষকের। সে দেশে এই প্রথম স্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা ঘটল। আমেরিকায় বিভীষিকা হয়ে ওঠা এই হিংস্রতার অনুকরণ তুরস্কে প্রবল আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত কিশোরের সমাজমাধ্যমে বিদেশি হামলাকারীর প্রতি আগ্রহও সামনে এসেছে। মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, আগে থেকেই স্কুলব্যবস্থায় হিংস্রতার নানা লক্ষণ ছিল, এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বন্দুকের সহজলভ্যতা। ঘটনার পর প্রশাসন সামাজমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ করেছে, ধরপাকড়ও হয়েছে। সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে যদি অভিভাবকদের সর্বক্ষণ আতঙ্কিত হয়ে থাকতে হয়, তার পরিণতি কী, তা কল্পনারও অতীত।
শেষ অস্ত্র
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন বললেন, পারমাণবিক অস্ত্র ভান্ডার তৈরি করার সিদ্ধান্ত ঠিক তো ছিলই, তা এখন ‘অপরিবর্তনীয়’ও বটে। দেশের সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে ভাষণের সময়ে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের উদাহরণ টেনে তাঁর মত, পারমাণবিক অস্ত্র হাতে থাকলে কাউকেই আর ডরাতে হয় না। এই অবস্থান ভবিষ্যৎ কূটনীতির কাঠামোকেও বদলে দিচ্ছে। কিম জং উন জানিয়েছেন, পিয়ংইয়্যাং যে কোনও দেশের সঙ্গেই আলোচনায় রাজি, কিন্তু পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচ্য বিষয় নয়। মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ওয়াশিংটন আবার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রশ্ন হল, সব দেশের কাছেই কি নিরাপত্তার শেষ ভরসা এখন পারমাণবিক অস্ত্র?
দাপুটে: সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।
বরফঢাকা জীবন
জাপানের উত্তরাঞ্চলে রেকর্ড তুষারপাত হল এ বছর। সবচেয়ে বিপন্ন প্রবীণ নাগরিকরা। এমনিতেই জাপান এখন প্রবীণদের দেশ। তার মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরা প্রায় সবাই কাজের সূত্রে বড় শহরের বাসিন্দা, ফলে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা একাই থাকেন। দিনের পর দিন ঘরের সামনে বরফ সরাতে না-পেরে অনেকে আটকে পড়েন ঘরেই। বেশ কয়েক জন মারাও গেলেন বরফ সরাতে গিয়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ বছর তুষারপাত আরও প্রবল হয়েছে, ফলে বিপদও বেড়েছে। প্রশাসনিক সহায়তা থাকলেও তা সব সময় পৌঁছয়নি সবার কাছে। তবু নিজের ভিটে ছাড়তে চাইলেন না বহু বয়স্ক মানুষই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)