Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু

প্রশ্নেই ভুল ছিল

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০১৫ ০০:০১

প্রশ্নেই ভুল ছিল

অশোক মিত্র (‘উপাচার্য, বিজ্ঞানী ও একটি রঙিন পোস্ট কার্ড,’ ২৬-০২) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে উপেক্ষা করে সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪)-র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার যে কারণ দেখিয়েছেন, তা ছাড়া আরও কারণ রয়েছে। প্রথমত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সত্যেন্দ্রনাথের মাসিক বেতন ছিল একশো পঁচিশ টাকা। এ দিকে চাকরি পাওয়ার আগে অসমের গৌরীপুর রাজবাড়ির ছেলে প্রমথেশ বড়ুয়াকে টিউশনি পড়িয়েই মাসে পেতেন দুশো টাকা!

দ্বিতীয়ত, একটা সামান্য বিষয় নিয়ে আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সত্যেন্দ্রনাথের বিরোধ বাধে। এক বার অঙ্কের প্রশ্নপত্রে ছাত্ররা একটি বিশেষ প্রশ্নকে পরপর দু’বছর এড়িয়ে গিয়েছিল। স্যার আশুতোষের মনে হল, অধ্যাপকরা ঠিকমত পড়াচ্ছেন না বলেই ছাত্রদের এই প্রশ্নের উত্তর দিতে এমন অনীহা। অধ্যাপকদের মিটিংয়ে উপাচার্য এই মন্তব্য করলে অধ্যাপকরা ক্ষুব্ধ হন। সত্যেন্দ্রনাথ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছাত্রদের পক্ষে কঠিন কাজ, কারণ প্রশ্নটার মধ্যেই ভুল থেকে গেছে। তিনি জানতেন না যে প্রশ্নটা আশুতোষ মুখোপাধ্যায় নিজেই দিয়েছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ ভুলটা বুঝিয়ে দিলে সেটা মেনে নিলেন। কিন্তু, এর পর থেকে দু’জনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। আশুতোষ অবশ্য মাইনে বাড়িয়ে সত্যেন্দ্রনাথকে রাখতে চেয়েছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ রাজি হননি।

প্রবন্ধটির শেষে অশোকবাবু লিখেছেন, “...গবেষণা থেকে আহৃত তাঁর প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলি ভিত্তি করে ইতিমধ্যে সত্যেন্দ্রনাথ একটি প্রবন্ধ রচনা করে সদ্য নোবেল পুরস্কারজয়ী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনকে পাঠিয়েছিলেন, তাঁর অভিমতের আকাঙ্ক্ষায়।” প্রকৃতপক্ষে, ১৯২৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ‘প্ল্যাংকের সূত্র ও আলোক কোয়ান্টাম তত্ত্ব’ (Plancks Law and the Hypothesis of Light Quanta) এই ঐতিহাসিক গবেষণাপত্রটি প্রথমে ব্রিটিশ জার্নাল ‘দ্য ফিলসফিক্যাল ম্যাগাজিন’-এ পাঠালেন প্রকাশের জন্য। কিন্তু কোনও উত্তর না আসায় মনঃক্ষুণ্ণ হয়েই সত্যেন্দ্রনাথ বসু গবেষণাপত্রটি আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫)-এর কাছে পাঠিয়েছিলেন।...গবেষণাপত্রটি পড়ে উচ্ছ্বসিত আইনস্টাইন নিজেই জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে বসু-র নামে পদার্থবিজ্ঞানের সম্ভ্রান্ত জার্মান পত্রিকা ‘সাইটস্রিফ্ট ফ্যুর ফিজ়িক’-এ প্রকাশের ব্যবস্থা করলেন ১৯২৪-এর জুলাই মাসে।

স্বপনকুমার দে। কল্যাণী, নদিয়া

দোল আর ইস্টারের দিন

বিভিন্ন উৎসব নিয়ে জহর সরকারের সাম্প্রতিক লেখাগুলি পড়তে খুব ভাল লাগে। ৩ এপ্রিলে ইস্টার নিয়ে লেখা তার ব্যতিক্রম নয়। তবে, ইস্টারের দিন কী ভাবে নির্ধারিত হয়, সেই প্রসঙ্গে দু’-চার কথা জানালে ভাল হত। ইস্টারের দিন স্থির নয়, দিনটি চান্দ্রমাস মেনে চলে। বসন্তের ইক্যুইনক্সের পরে যে পূর্ণিমা, তার পরের রবিবার হল ইস্টার সানডে। অতএব, ইস্টার আগে মানে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে বা পরে এপ্রিলের মাঝে হতে পারে। আবার, পূর্ব ইউরোপের অর্থোডক্স চার্চের, যেমন গ্রিক ও রাশিয়ানদের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা।

আমাদের দোলও চান্দ্রমাস মেনে হয়, বসন্তু পূর্ণিমার দিনে। সাধারণত ফাল্গুনী পূর্ণিমা হলেও দোল যে ফাল্গুন মাসেই, মানে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে হবে, তেমন কোনও স্থিরতা নেই। সাধারণত মার্চের গোড়ায় হলেও, দোল চৈত্র মাসেও হতে পারে। যেমন, আগামী বছর হবে ২৩ মার্চ, ২০১৬। এ কথাটাও জহরবাবু তাঁর ৫ মার্চের দোল নিয়ে লেখাটায় এড়িয়ে গেছেন। লসাগু-র নিয়মে দোল আর ইস্টার তাই একসঙ্গে হতেও পারে। তিন দশক আগে ১৯৮৬ সালে ঠিক এমনটাই হয়েছিল। বুধবার ২৬ মার্চ ছিল দোল পূর্ণিমা আর শুক্রবার ২৮ তারিখ ছিল গুড ফ্রাইডে।

ইন্দ্রজিৎ রায়। শিক্ষক, কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়

ভ্রম সংশোধন

সোমবার (৬-৪) ‘সম্পাদক সমীপেষু’ বিভাগে সুশীল চৌধুরীর
চিঠি ‘বিশ্ববিশ্রুত ভাষাবিজ্ঞানীর সঙ্গলাভ’-এর শুরুতেই
ঘটনার সময় লেখা হয়েছে ১৯৫৫ সাল। সালটি হবে ১৯৫৬।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy