Advertisement
E-Paper

বাংলা পিএইচডি-তে অনিয়মের অভিযোগ! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ কমিটি করবে বিচার

বৃহস্পতিবার ওই প্রার্থী নিজে আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে তিনি যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পিএইচডি-তে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, সে তথ্য কখনও গোপন করেননি। পিএইচডি-র ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে এমন কোনও তথ্য দেওয়ার জায়গা থাকে না। বরং ভর্তির সময় একটি মুচলেকা দিতে হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ১৮:৩৪

— প্রতীকী চিত্র।

বাংলা বিভাগের পিএইচডি ভর্তি সংক্রান্ত অভিযোগ এ বার খতিয়ে দেখবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কমিটি। এমনই সুপারিশ করছেন কর্তৃপক্ষ। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, পিএইচডি ভর্তির ক্ষেত্রে কোনও অস্বচ্ছতা নেই, তথ্য গোপনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা ভিত্তিহীন।

সম্প্রতি যাদবপুরে বাংলা বিভাগে পিএইচডি ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। তিন আবেদনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তথ্য গোপনের। এঁদের মধ্যে একজন ২০১৮ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েই অন্য বিষয়ে পিএইচডি-র আবেদন করেছিলেন। রেজিস্ট্রেশনও হয়েছিল। কিন্তু তিনি কাজ সম্পূর্ণ করেননি। অন্য আর এক প্রার্থী এক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ভর্তির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করেননি। পছন্দের প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান বলে সেখানে ফের আবেদন করেন।

তাঁদের নামও ওঠে মেধাতালিকায়। এর পরই অন্য কয়েকজন আবেদনকারী উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, পিএইচডি ভর্তিতে অনিয়ম হয়েছে। ওই অভিযোগপত্রে এক আবেদনকারী উল্লেখ করেন, তিনি জানতে পেরেছেন তথ্য গোপন করা এক প্রার্থীকে ভর্তি না নিয়ে বাড়তি ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে নথি পেশ করার জন্য। তথ্য গোপন করা দুই প্রার্থীর আবেদন বাতিল করার দাবি জানান ওই আবেদনকারীরা।

কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা আনন্দবাজার ডট কম-কে জানান, একজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে অন্তত এই অভিযোগের কোনও সারবত্তা পাওয়া যায়নি। কারণ তিনি এর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই অন্য একটি বিষয়ে পিএইচডি-তে ভর্তি হয়েছিলেন। কাজ সম্পূর্ণ করেননি। ওই কর্তা বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী পিএইচডি-তে ভর্তি হওয়ার ৫-৬ বছর পরে কাজের ধারাবাহিকতা না থাকলে মেয়াদ বাতিল হয়ে যায়। ২০১৮ সালের ভর্তির মেয়াদ ইতিমধ্যেই বাতিল হয়ে গিয়েছে ওই প্রার্থীর।”

বৃহস্পতিবার ওই প্রার্থী নিজে আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে তিনি যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পিএইচডি-তে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, সে তথ্য কখনও গোপন করেননি। পিএইচডি-র ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে এমন কোনও তথ্য দেওয়ার জায়গা থাকে না। বরং ভর্তির সময় একটি মুচলেকা দিতে হয়। তিনি দাবি করেন, ভর্তির আগেই তিনি পিএইচডি সেলকে জানিয়েছিলেন এবং তথ্য যাচাইয়ের সময়ও বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁর দাবি, পিএইচডি সেল-এর তরফে জানানো হয়েছিল পূর্বতন রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ভর্তির দিন তাঁকে বলা হয় কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। সেই নির্দেশ মেনেই তিনি কাজ করছিলেন, তাই তাঁকে বাড়তি ১০ দিন সময় দেওয়া হয়।

ওই প্রার্থী বলেন, “ভর্তির দিন আমি সব কাজই করছিলাম নিয়ম অনুযায়ী। আমাকে মুচলেকা দিতেও বলা হয়। সব নথি নিয়ে তৈরি ছিলাম। কিন্তু কিছু ক্ষণ পর বলা হয়, আমার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে না।” ঠিক কী কারণে, এই ভর্তি স্থগিত করা হল সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা অবশ্য বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা আর কিছু বলতে পারি না। নীতিগত ভাবে আপাতত গবেষণা কমিটি-ই বিষয়টা দেখবে এবং বিচার করবে।” এ দিকে অভিযোগকারী ছাত্রের দাবি, “সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে তো এমন ব্যবহার করা হয় না। আমাদের প্রশ্ন, কেন ১০ দিন অতিরিক্ত সময় দেওয়া হল নথি জমা দেওয়ার জন্য?’’

PhD Programme Jadavpur University Bengali
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy