ডিজিটাল মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন পড়ুয়া এবং অভিভাবকরা। এই বিতর্কের মাঝেই সিবিএসই-র বিরুদ্ধে ওই পদ্ধতি নিয়ে সুনাম করার নির্দেশ দেওয়া নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, বোর্ডের আঞ্চলিক দফতরের আধিকারিকদের তরফে বিভিন্ন স্কুলের প্রিন্সিপালদের অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতির সুনাম করে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ খারিজ করেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, নবোদয় বিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন স্কুলকে নাকি বোর্ডের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে ইতিবাচক প্রচারের নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কুলের প্রিন্সিপালদের জানাতে হবে, যে নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে হওয়া মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে সমস্যা হলেও, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য কোনও ক্ষতি যাতে না হয়, তা সুনিশ্চিত করা হবে।
সমাজমাধ্যমে এমন বহু লেখা কিংবা ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিয়োতেই আবার শিক্ষামহলের একাংশ একতরফা প্রচারের অভিযোগও জানিয়েছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
এই বিষয়ে যাবতীয় দাবি খারিজ করেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। সিবিএসই-র তরফে জোর করে পদ্ধতির সুনাম করার কোনও নির্দেশিকাই দেওয়া হয়নি, এমনটাই দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের এক আধিকারিক। শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, বোর্ডের তরফে কোনও পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতির পক্ষে বিবৃতি দিতে বাধ্য করার জন্য কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
খাতা পুনর্মূল্যায়ন কী ভাবে করা হবে, তা নিয়ে সদ্যই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সিবিএসই-এর সদর দফতরে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, খাতা দেখার আসল পোর্টালটিতে কোনও রকমের নিরাপত্তা বা সুরক্ষাজনিত ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
সিবিএসই-র দ্বাদশের ফল প্রকাশিত হয়েছিল ১৩ মে। এর পর মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বোর্ডের গাফিলতির একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি আশ্বাস দেন, অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতিতে খাতা দেখার ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং এতে ছাত্র-ছাত্রীদেরই উপকার হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “তদন্তে যদি কোনও রকমের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তবে কেউ রেহাই পাবে না।”