সমাজে নিয়ম আছে নানা রকম, কিন্তু সে নিয়ম জানেই বা ক’জন, আর মানেই বা কে! এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। বিশেষত শিশু সুরক্ষা এবং শিশু অধিকার সংক্রান্ত নিয়মকানুন সব থেকে কম জানে শিশুরা। কিন্তু তাদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। এ বার সেই লক্ষ্যে স্কুলে স্কুলে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করতে চলেছে রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতর।
বিকাশ ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত পোস্টার প্রদর্শন করতে হবে। আয়োজন করতে হবে কুইজ় প্রতিযোগিতার মতো আকর্ষক অনুষ্ঠানের। যা থেকে সচেতনতা তৈরি হবে পড়ুয়াদের মধ্যে।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, গত ডিসেম্বরে কলকাতা হাই কোর্টের তরফে এক নির্দেশিকা যায় স্কুলশিক্ষা সচিবের কাছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, জেলা এবং ব্লক স্তরের সমস্ত স্কুলে শিশুর অধিকার বিষয়ে ব্যাপক প্রচার করতে হবে। হাই কোর্টের ‘জুভেনাইল জাস্টিস কমিটি’ একটি ব্যানার-এর নমুনা নকশা পাঠিয়ে দেয় দফতরে। তা-ই লাগানো হবে স্কুলে স্কুলে। শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত ওই পোস্টারে জোর দেওয়া হয়েছে কন্যাসন্তানের অধিকারের উপর। প্রচারের স্লোগান হিসাবে লেখা হয়েছে— ‘মেয়েকে সুরক্ষা দিন, দেশকে শক্তি দিন।’ স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত অধিকার বিষয়েও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ।
রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের জেলা স্কুল পরিদর্শক এবং জেলা প্রাথমিক সংসদের অফিসে ইতিমধ্যেই ওই নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মাধ্যমিক স্তরের এক জেলা স্কুল পরিদর্শক বলেন, “প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে প্রচারের জন্য হাই কোর্টের পাঠানো নমুনা পোস্টারই ছাপিয়ে নেওয়া হবে। স্কুলের প্রধান প্রবেশ পথ, শ্রেণিকক্ষের বাইরের বারান্দা-সহ বিভিন্ন জায়গায় তা টাঙানো হবে যাতে সহজেই সকলের চোখে প়ড়ে। হাই কোর্টের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই পোস্টার দু’ফুট চওড়া এবং তিন ফুট লম্বা হতে হবে।
এরই পাশাপাশি নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চলেছে দফতর। কলকাতা শিক্ষা ভবন সূত্রের খবর, শিশুদের অধিকার বিষয়ক সচেতনতা তৈরির প্রাথমিক দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষকদের। কোন কোন সুযোগ একটি শিশু পেতে পারে, তা জানাবেন তাঁরাই। এ ছাড়া, পোস্টার বানানোর প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতার মত নানা কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে এই বিষয়টি তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পরে প্রতিযোগিতার সেরা পোস্টারগুলি স্কুলের বিভিন্ন প্রান্তে প্রদর্শন করা হবে। যাতে প়ড়ুয়ারা আরও আগ্রহী হয়।
দফতরের এক কর্তা বলেন, “হাই কোর্ট যে ভাবে বলেছে সে ভাবেই প্রচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নানা প্রতিযোগিতার মাধ্যমেও এই সচেতনতার বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে।” শিক্ষক নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন , "শিশু সুরক্ষা এবং তাদের অধিকার বিষয়ে সারা বছর ধরেই সরকারের নানা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শিক্ষক সহ অভিভাবকদেরও সক্রিয় হতে হবে।"