দক্ষিণ কলকাতার আইন কলেজের ঘটনার জের। এ বার ডিগ্রি কলেজগুলিতেও নিরাপত্তা বাড়াতে উদ্যোগী হলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে অন্যতম দক্ষিণ কলকাতার আশুতোষ কলেজ। প্রাক্তনী এবং বহিরাগতদের প্রবেশে রাশ টানল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সাউথ কলকাতা ল কলেজের ঘটনার পর কলেজগুলির নিরাপত্তা প্রশ্নচিহ্নের মুখে। কী করে কলেজের ভেতরেই এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে কলেজে প্রাক্তনী এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের তত্ত্ব। সে ক্ষেত্রে এ বার কলেজ ক্যাম্পাসে ঢোকার ক্ষেত্রে একাধিক নিয়মবিধি জারি করেছে আশুতোষ কলেজ। ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের গতিবিধির উপর রাশ টানতে একাধিক পদক্ষেপ করছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে রয়েছে—
১) এখন থেকে কলেজের বর্তমান পড়ুয়াদের আইডি কার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
২) কলেজের প্রাক্তনীরা কোনও প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে এলে তাঁদের অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
৩) ক্লাস শেষ হয়ে গেলে পড়ুয়ারা কমন রুমে বসে আড্ডা দিতে বা গল্প করতে পারবেন। করিডোর বা কলেজের অন্য কোনও জায়গায় বসতে পারবেন না। এ বিষয়ে যথাযথ নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকবেন কলেজের নিরাপত্তারক্ষীরা।
৪) প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস থাকলে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যেই তা শেষ করে ছুটি দিয়ে দিতে হবে পড়ুয়াদের।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ২৫ জুন কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ক্যাম্পাসের ভিতর রক্ষীর ঘরে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ওই কলেজেরই দুই ছাত্র এবং এক প্রাক্তনীকে। ওই প্রাক্তনী কলেজের অস্থায়ী কর্মী হিসাবেও নিযুক্ত। অভিযুক্তেরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তা খারিজ করার পরেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় কলেজের নিরাপত্তারক্ষীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আপাতত, আদালতের নির্দেশে রাজ্যের সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ক্যাম্পাসের ভিতর রক্ষীর ঘরে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ওই কলেজেরই দু’জন ছাত্র এবং এক জন প্রাক্তনীকে। ওই প্রাক্তনী কলেজের অস্থায়ী কর্মী হিসাবেও নিযুক্ত। অভিযুক্তেরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের ছাত্র পরিষদ টিএমসিপির সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তা খারিজ করার পরেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় কলেজের নিরাপত্তারক্ষীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
- কসবার কলেজের এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ধৃতেরা টিএমসিপি-র সঙ্গে যুক্ত থাকায় অস্বস্তিতে শাসকদল। তাদের তরফে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের তরফে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। নির্যাতিতাকে কলেজে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করেছে পুলিশ।
-
‘বুদ্ধ, মমতা ছাত্র রাজনীতির ফসল’, সংসদ ভোট না হওয়ায় আকাল নেতার, ছাত্র নির্বাচনে কোথায় জট?
-
হাই কোর্টে জমা পড়ল কসবাকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট, ‘পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট’, ফের জানাল নির্যাতিতার পরিবার
-
কোথায় ছিলেন কসবা আইন কলেজের উপাধ্যক্ষ! হাজিরা খাতার সঙ্গে মিলছে না বয়ান?
-
কসবাকাণ্ডে রাজনৈতিক ‘দাদাগিরি’র তীব্র নিন্দা, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে পঠনপাঠন শুরুর নির্দেশ রাজ্যপালের
-
প্রাক্তনীদের কাণ্ডে লজ্জিত শিক্ষকেরা, খুলল আইন কলেজ, বিধি থাকা সত্ত্বেও পরিচয়পত্র আনতে ভুললেন অনেকেই