Advertisement
E-Paper

এমটেক, পিএইচডি-র পাঠ্যক্রম রদবদলের ভাবনা! বাস্তবে কতটা প্রাসঙ্গিক? মতামত জানালেন বিশেষজ্ঞেরা

নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিতি, আরও বেশি স্পেশ্যালাইজ়েশনের সুযোগ এবং পিএইচডি গবেষণাকে আরও কার্যকরী করে তোলার লক্ষ্যেও পাঠ্যক্রমে রদবদলের প্রস্তাব দিয়েছে আইআইটি কাউন্সিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:১৯

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

গত কয়েক বছরের প্রবণতা থেকে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বিটেক করার পর পড়ুয়ারা এমটেক করতেই আগ্রহী নন। কারণ খুঁজতেই জানা গিয়েছে স্নাতকোত্তর স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় স্পেশ্যালাইজ়েশন-এর সুযোগ সীমিত। ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণও নেই বললেই চলে। তাই দ্রুত এমটেক পাঠ্যক্রমে বদল আনতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ।

২৫ অগস্ট, ২০২৪ দেশের বিভিন্ন আইআইটি প্রতিষ্ঠান একত্রে আইআইটি কাউন্সিল বৈঠক করেছিল। সেই বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এই বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা হয়েছে। পিটিআই সূত্রে খবর, পিএইচডি কোর্সকেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সাজানো হবে। যাতে আইআইটি প্রতিষ্ঠান বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আরও বেশি পিএইচডি কোর্স করাতে পারে।

বৈঠকের প্রস্তাবকে সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা সুমন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, আজকের যুগে যা পড়ানো হচ্ছে এবং নবীন পড়ুয়াদের থেকে কাজের বাজার যে ধরনের দক্ষতা আশা করা হচ্ছে, তার মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। তিনি বলেন, “পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অন্য বিষয় শিখে নিতে পারলে গবেষণার কাজ সামগ্রিক ভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। শিক্ষা গ্রহণের পর পড়ুয়ারা স্টার্টআপ, ইনোভেশন-এর মতো কাজেও উৎসাহ পাবে।”

যদিও স্নাতকোত্তর স্তরে কিংবা পিএইচডি পাঠ্যক্রমের রদবদলের প্রস্তাবনা সিদ্ধান্ত হিসাবে গৃহীত হলে তা আইআইটি প্রতিষ্ঠানগুলিতেই লাগু হতে চলেছে। সামগ্রিক ভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়, এমন বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজগুলির কী পরিস্থিতি? বিটেক-এর পর এমটেক-এর প্রবণতা কি সত্যিই কমেছে? এই বিষয়ে কী মত শিক্ষকদের?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শিক্ষক সুশান্ত রায়ের কথায়, “ইলেকট্রিক্যাল বিভাগ থেকে স্নাতকের পর স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির প্রবণতা কমেছে, এই ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। প্রতি বছরই ছেলেমেয়েরা আসে, নতুন বিষয় নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহও দেখায়। কিন্তু পড়াশোনায় আগ্রহ কমেছে বলে আমার মনে হয় না।”

আইআইটি কাউন্সিল-এর প্রস্তাবের নেতিবাচক বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। সুশান্তের মতে, ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার বিষয়গুলিতে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য স্নাতকোত্তর স্তরে ছেলেমেয়েরা ভর্তি হয়ে থাকেন। তাতে যদি স্পেশ্যালাইজ়েশন-এর জন্য আলাদা করে অন্য বিষয়ের সংযোজন হয়, তাতে সার্বিক জ্ঞানার্জনের পরিসর কমে আসবে।

ভবিষ্যতে এই নিয়ম সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চালু হতে পারে। এ প্রসঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক রজতকুমার পাল জানিয়েছেন, নতুন বিষয় ইলেক্টিভ বা অপশনাল হিসাবে যোগ করা যেতেই পারে। তিনি বলেন, “ছেলেমেয়েরা শুরু থেকেই নতুন কিছু শিখে কাজের বাজারে যোগ দিক, সেটা শিক্ষার সার্থকতা। কিন্তু যাঁরা শিখবেন, তাঁদের শেখানোর মত বিশেষজ্ঞও তো চাই। শিক্ষক-ছাত্রের অনুপাত যদি ঠিক না করা হয়, সে ক্ষেত্রে হাজারও নতুন বিষয় এলেও মূল লক্ষ্য থেকে পিছিয়েই থাকবেন পড়ুয়ারা।”

PhD Admission 2026 IIT Council Meet Curriculum Development Skill Development Program
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy