Advertisement
E-Paper

এনবিইএমএস-র সিদ্ধান্তে কৃত্রিম মেধা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে মেডিক্যালে, কী বলছেন চিকিৎসকেরা?

মেডিক্যাল স্নাতকোত্তরের পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও এই কোর্স করতে পারবেন। পাঠক্রমে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে ২০২০ সালের পর উত্তীর্ণ চিকিৎসকদেরও।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৪
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

একবিংশ শতাব্দীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ শুরু হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের পাশপাশি স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও। বিশ্বের উন্নত দেশগুলির পাশাপাশি ভারতেও চিকিৎসা পরিষেবায় এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃত্রিম মেধাকে কাজে লাগিয়ে জটিল অস্ত্রোপচার থেকে রোগনির্ণয়— সবই করছেন বিশেষজ্ঞরা। সে পথে এ বার সুনির্দিষ্ট ভাবে আরও এক ধাপ এগিয়ে পদক্ষেপ করতে চলেছে ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগ্‌জ়ামিনেশনস ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস)। মেডিক্যাল শিক্ষায় কৃত্রিম মেধার ব্যবহার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পাঠক্রম।

সম্প্রতি এনবিইএমএস আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন মেডিক্যাল এডুকেশন নামক একটি কোর্স চালু করবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। জানিয়েছে, মেডিক্যাল স্নাতকোত্তরের পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও এই কোর্স করতে পারবেন। পাঠক্রমে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে ২০২০ সালের পর উত্তীর্ণ চিকিৎসকদেরও।

বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, অনলাইন কোর্সের জন্য কোনও মূল্য দিতে হবে না। ক্লাস শুরু জানুয়ারি মাসেই। ছ’মাসের এই কোর্সে থাকবে ২০টি মডিউল।

কোর্সে ভর্তির জন্য প্রযুক্তি বা প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত কোনও জ্ঞান না থাকলেও আবেদন করা যাবে। কোর্সের ক্লাস নেবেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্বদ্যালয়, আইআইএসসি বেঙ্গালুরু, আইআইএম লখনউয়ের মতো নামী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। ক্লাসে উপস্থিতির হার ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ হলে দেওয়া হবে সার্টিফিকেট।

কোর্সটিতে মূলত স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিভিন্ন এআই টুলকে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস, মেডিক্যাল শিক্ষায় কী ভাবে ব্যবহার করা যায়, তা শেখানো হবে। তবে চিকিৎসকেরা যাতে এআই-এর যথেচ্ছ ব্যবহার না করেন সে দিকটির উল্লেখও রাখা হবে। নিজেদের যুক্তিবুদ্ধি খাটিয়ে প্রয়োজন মতো নানা এআই টুল ব্যবহার করার খুঁটিনাটি শেখানো হবে বলে জানিয়েছে এনবিইএমএস।

চিকিৎসকেরা এই পদক্ষেপকে সদর্থক মনে করলেও একইসঙ্গে কিছু সতকর্তা অবলম্বনের কথাও বলেছেন। এসএসকেএম হাসপাতালের সার্জিকাল অনকোলজিস্ট দীপ্তেন্দ্র সরকার বলেন, “আমি এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই মনে করছি। মেডিক্যালের পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জার্নাল থেকে বই, সব কিছুই নিমেষের মধ্যে পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরতে পারে এআই। এতে সময় অনেক কম লাগবে।” তবে একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই তথ্য যে নির্ভুল হবে, তা মনে করা ঠিক না। তথ্য যাচাই করে নেওয়ার দায় অনেকটা পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের হাতেই। দীপ্তেন্দ্র বলেন, “একই ভাবে রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রেও পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে কৃত্রিম মেধার সাহায্য নিয়ে। কিন্ত কোন রোগীর ক্ষেত্রে কোন ওষুধ কার্যকর হবে, তা ঠিক করে দিতে পারেন একমাত্র চিকিৎসকই।” প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হলেও প্রযুক্তি যাতে মানুষকে পরিচালনা না করে, তা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত বলে মনে করেন দীপ্তেন্দ্র।

একই মত সিউড়ি সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জেন সুব্রত গড়াইয়ের। তিনি বলেন, “যে কোনও নতুন প্রযুক্তিকেই গ্রহণ করা উচিত। কৃত্রিম মেধাকে অস্বীকার করার জায়গা নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানোয়ন্নে কাজে লাগবে এআই।” তবে তাঁর মতে, কৃত্রিম মেধা কখনই বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা হতে পারে না। বরং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।

National Board of Examination in Medical Sciences AI in Medical Education AI in Medical Course AI in Medicine
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy