Advertisement
E-Paper

কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ! প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি এ রাজ্যের শিক্ষকদের একাংশের

শিক্ষকদের আশঙ্কা, যে কোনও প্রকারেই কেন্দ্র সরকার এই বিলকে আইনে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩১
ফাইল চিত্র।

ফাইল চিত্র।

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল ২০২৫’-এর বিরোধিতা করে এ বার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানাল শিক্ষক সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ এডুকেশনাল অ্যাসোসিয়েশনস।’ এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ এবং বেসরকারিকরণ করতে চাইছে বলে খোদ প্রধাননমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করলেন তাঁরা। রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনও প্রস্তাবিত এই বিলের বিরুদ্ধেই সরব।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নবকুমার কর্মকার জানান, ২০২৫ সালেই লোকসভায় এই বিল পেশ হয়। কিন্তু প্রবল বিরোধিতার আশঙ্কায় বিল পাশ না করিয়ে বর্তমানে এই বিল জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটির বিবেচনাধীন রয়েছে। কিন্তু আশঙ্কা, যে কোনও প্রকারেই কেন্দ্র এই বিলকে আইনে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাই এই প্রতিবাদ। শিক্ষক নবকুমারের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), অল ইণ্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই) এবং ন্যাশনাল কাউন্সির ফর টিচার এডুকেশনকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার কেন্দ্রীকরণ হয়ে যাবে। কিন্তু শিক্ষার আদর্শ উন্নতি করতে হলে সব সময়ই বিকেন্দ্রীকরণ করা উচিত। যে কারণে সংবিধানে শিক্ষাকে যৌথ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘উচ্চ শিক্ষার সঙ্গে স্কুল শিক্ষার নীতিগত বিষয়গুলিকে এক করে দিলে সেটা জাতির ক্ষেত্রে মোটেই ভাল হবে না। তাই এই বিলের বিরুদ্ধে আমরা প্রচার চালিয়েই যাব।’

এই বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জুটাও। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় জানান, ইউজিসি এবং এআইসিটিই সম্পূর্ণ পৃথক সংস্থা। তাঁদের নীতি নির্ধারণের বিষয়টিও সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমানে এই দু'টি স্বশাসিত সংস্থা পৃথক হওয়া সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি (ওয়েবকুটা)-র সাধারণ সম্পাদক নিলয়কুমার সাহা বলেন, ‘‘কেন্দ্র সরকার এই বিলের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষাবিদদের প্রধান্যই শেষ করে দিতে চাইছে। এই স্বশাসিত সংস্থার মাথায় শিক্ষাবিদেরা থাকতেন। এই বিল আইনে পরিণত হলে সব কিছুই কেন্দ্র সরকার এবং তাদের আমলার হতে চলে যাবে। এ ভাবে স্বশাসিত সংস্থার বিলোপ ঘটিয়ে শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।’’ পাশাপাশি তাঁর দাবি, এই সংস্থাগুলি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে অর্থ সাহায্য করতে পারত। কিন্তু এই নতুন বিল আইনে পরিণত হলে শিক্ষা মন্ত্রকের সুপারিশে অর্থমন্ত্রক ওই অর্থ দেবে। এর ফলে যেমন ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হবে তেমনই অর্থ সাহায্য পেতেও অনেক দেরি হবে।

নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাসও এই বিলের বিরুদ্ধেই মত দিয়েছেন।

তবে সম্প্রতি এই মাসের গোড়াতেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আদৌ এই বিষয়ে কোনও প্রত্যুত্তর আসে কিনা সেটাই দেখতে চাইছে ‘অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ এডুকেশনাল অ্যাসোসিয়েশনস।’

Education Bill
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy