নিট ইউজি-র পুনঃপরীক্ষা আয়োজিত হতে চলেছে রবিবার। তার আগে আরও একবার প্রশ্নের মুখে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি জানতে চেয়েছে, যথেষ্ট তহবিল থাকা সত্ত্বেও কেন উপযুক্ত পরীক্ষা পরিকাঠামো তৈরি করা যায়নি?
গত ৩ মে নিট ইউজি পরীক্ষার পরই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে সে সংক্রান্ত প্রমাণ মেলায় গত ১২ মে পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে এনটিএ। পরবর্তীতে পুনঃপরীক্ষার দিন ঘোষণা হয় ২১ জুন। এরই মধ্যে নানা অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে নিয়ামক সংস্থা। নড়ে বসেছে কেন্দ্র। এনটিএ-র কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি।
তথ্য প্রকাশ করে স্ট্যান্ডিং কমিটি জানিয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে নিট খাতে ৪৪৮ কোটি টাকা বাড়তি উপার্জন হয়েছে এনটিএ-র। কমিটি প্রশ্ন তুলেছে, এই উদ্বৃত্ত অর্থ কেন পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হল না?
সংসদের শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব এবং খেলাধূলা বিষয়ক কমিটি এনটিএ-র অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছিল। হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পরীক্ষার ফি হিসাবে ৩৫১২.৯৮ কোটি টাকা আয় করেছে এনটিএ। ব্যয় করেছে ৩০৬৪.৭৭ কোটি টাকা। উদ্বৃত্ত ৪৪৮ কোটি টাকার হিসাব পাওয়া গিয়েছে এনটিএ-র অ্যাকাউন্টেই।
এ দিকে বার বার প্রশ্ন উঠেছে পরীক্ষার পরিকাঠামো নিয়ে। নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অনুপযুক্ত পরিকাঠামোর দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বিশেষজ্ঞেরা। ২০২৪-এ নিট-এ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল পরীক্ষা ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তনের। কিন্তু তার পর ২০২৬-এ ফের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। মনে করা হচ্ছে ছাপাখানা থেকে প্রশ্নফাঁস হয়ে থাকতে পারে। সেখানেই প্রশ্ন, কেন যথেষ্ট তহবিল থাকা সত্ত্বেও কাজ করল না এনটিএ?
দেশের অন্যতম বড় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা এনটিএ। পরীক্ষার্থীদের থেকে তারা কত রোজগার করেছে, তা নিয়ে অবশ্য কোনও প্রশ্ন তোলেনি সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটি। শুধু জানতে চাওয়া হয়েছে, সে টাকা কেন কাজে লাগানো হল না, যাতে পরীক্ষা পদ্ধতিটি আরও বিশ্বাসযোগ্য এবং নিরাপদ হয়?