অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের বেতন কমে গিয়েছে একধাক্কায় অনেকখানি। কলেজ শিক্ষকদের একাংশ এমনই অভিযোগ তুলেছিলেন। তাই শুক্রবার সমস্যা সমাধানে শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের কাছে আবেদন জানাল নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদ।
সংগঠন সূত্রের জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের আগে অন্য নিয়ম চালু ছিল। সাধারণত অন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে অধ্যক্ষ পদে যোগ দিলে সেই সব শিক্ষকদের ‘পে-প্রোটেকশন’ দেওয়া হত। অর্থাৎ, পুরনো চাকরিতে বা পুরনো পদে যে বেতন তিনি পেতেন, অধ্যক্ষ পদের বেতন কখনওই তার থেকে কম হত না। কিন্তু অভিযোগ, ২০২১-এর পর সেই নিয়মে বদল ঘটে। তার পরই এই সুরক্ষা ভেঙে পড়ে এবং তার ফলে ভুগছেন অধ্যক্ষেরা। নিয়ম অনুযায়ী, প্রায় ১৭ বছর সহযোগী অধ্যাপক পদ মর্যাদায় কাজ করেও কোনও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব নিতে পারেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তাঁর বেতন কমে যাচ্ছে।
জানা গিয়েছে সরকারি কলেজের ক্ষেত্রে ‘পে-প্রোটেকশন’ থাকলেও সরকার পোষিত কলেজগুলির ক্ষেত্রে সেই নিয়মের পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। সংগঠনের দাবি, অধিক কাজের দায়িত্ব এবং কম বেতনের ফলে সরকার অনেকেই পোষিত কলেজগুলিতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না শিক্ষকদের একাংশের। পরিস্থিতি এমন হলে ধীরে ধীরে কলেজগুলিতে অধ্যক্ষের পদ ফাঁকা পড়ে থাকবে বলে মনে করছেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে আগেই কলকাতার সরোজিনী নাইডু কলেজ ফর উইমেন-এর অধ্যক্ষা তথা পরিষদের সভাপতি স্বাগতা দাস মোহন্ত জানিয়েছিলেন যে এই অবস্থা চলতে থাকলে আর কেউ অধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলাতেই চাইবেন না কেউ। সঙ্কট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনিও। দফতরে আবেদন করার পরে সমস্যা সমাধানের আশায় অধ্যক্ষেরা।
আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ তথা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানস কবি বলেন, ‘‘এই সমস্যার যেন সুরাহা করা হয় আজকে আমরা শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের কাছে সেই আবেদন জানিয়েছি।’’