রসায়ন, পদার্থবিদ্যা নিয়ে প্রথাগত পড়াশোনায় নাকি আগ্রহ কমছে! এমন আলোচনা যখন রাজ্যজুড়ে, তখনই রসায়নে ভাল ফল করে তাক লাগিয়ে দিলেন মহেশতলার সৌম্য পাল। বৃহস্পতিবার আইআইটি আয়োজিত জ্যাম-এর (জয়েন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট ফর মাস্টার্স) ফলপ্রকাশ হতেই দেখা যায় রসায়নে গোটা দেশের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন সৌম্য।
দেশের আইআইটিগুলিতে স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হওয়ার জন্য এই প্রবেশিকার আয়োজন করা হয়। সেখানেই দেশের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন কলকাতার নিউ আলিপুর কলেজের রসায়ন স্নাতকের ছাত্র সৌম্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার ব্যনার্জিহাট পাড়ার বাসিন্দা সৌম্যর বাবা গৃহশিক্ষকতা করেন। মা সেলাইয়ের কাজ করে রোজগার করেন। মেধাবী সৌম্য ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানে আগ্রহী।
দ্বাদশের পর তিনি বেছে নেন রসায়ন। অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত সংসারে ছেলের অদম্য জেদ এবং বিজ্ঞানের প্রতি ভালবাসা তাঁকে সাফল্য দিয়েছে বলে মনে করেন পরিবারের সকলে। কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের বাড়িতে নিয়মিত চর্চা করতেন সৌম্য। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিশেষ কোনও প্রশিক্ষণ নেননি।
সৌম্য জানিয়েছেন, আইআইটি কানপুর থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর করতে চান তিনি। ভবিষ্যতে গবেষণার পাশাপশি শিক্ষকতা করতে চান।
নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী বলেন, "এই সাফল্য নিঃসন্দেহে বাংলার নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করবে।" কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান শ্যামল মণ্ডল বলেন, "এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কলেজ ছাড়া সৌম্য অন্য কোনও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নেয়নি। ওর সাফল্য প্রমাণ করে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা চাইলেই জাতীয় স্তরে সফল হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও সাফল্য আসবে।"