Advertisement
E-Paper

গল্পের ছলে পড়ানো হবে পাঠ্যবিষয়! প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিকে নয়া ব্যবস্থা চালু করতে উদ্যোগী রাজ্য

ইতিমধ্যে ১৫০ শিক্ষককে এ জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে অনলাইনে। আগামী দিনে রাজ্যের সমস্ত স্কুলেই এই পদ্ধতিতে পঠনপাঠন চালু করতে আগ্রহী স্কুল শিক্ষা দফতর।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৯:০২

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বদলে যাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারাই মানুষের জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক দশকে ধীরে ধীরে বদলেছে বাঙালি পরিবারের গঠন। একটু একটু করে বদলে গিয়েছে শৈশবের ধরনধারণ। হারিয়ে গিয়েছে যৌথ পরিবার, আর তারই সঙ্গে হারিয়েছে ভাইবোনের খুনসুটি থেকে ঠাকুমা-দিদিমার আদর-আবদার। হারিয়ে যাচ্ছে গল্প শোনার প্রবণতা। এ বার সেই চিরায়ত গল্পশোনার অভ্যাসকে ফিরিয়ে আনতে চাইছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর।

প্রথাগত পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় এবং সহজবোধ্য করে তোলার জন্য পড়ুয়াদের গল্পের মাধ্যমে পাঠদানের পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। এ জন্য শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে। প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়েও ছোটরা যাতে তাদের শৈশব না হারিয়ে ফেলে, সে জন্য প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের গল্পের ছলে পাঠদানের প্রক্রিয়া চালু করার উদ্যোগ।

স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রায় সব ক’টি জেলা থেকে নির্বাচিত ১৫০ শিক্ষককে অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্কুল শিক্ষা দফতর স্টেট কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এসসিইআরটি) এক কর্তা জানান, আগামী দিনে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষককে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

গত দু’দশকে শহরে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে সরকারি ও সরকারপোষিত প্রাথমিক স্কুলগুলি। ধীরে ধীরে কমছে বাংলা মাধ্যম স্কুলের পড়ুয়া সংখ্যা। কিন্তু গ্রাম ও মফসসলে এখনও এই প্রবণতা কম। তাই ওই অঞ্চলের স্কুলগুলির দিকে বিশেষ নজর দিতে চাইছে রাজ্য। ঢেলে সাজা হচ্ছে পাঠ্যক্রম। নাচ, গান, আবৃত্তির মতো বিষয়কেও পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তারই পাশাপাশি চলছে পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী এবং আকর্ষণীয় করার প্রয়াস।

কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, গল্পের ছলে পড়াশোনা হলে শিশুদের আগ্রহ বাড়বে স্কুলের প্রতি। তাই পাঠ্য বইয়ের বিষয়গুলি পড়ানোর সময় গল্পের মতো করে শিশুদের সামনে তুলে ধরার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে শিক্ষকদের। এ জন্য বিশেষ বইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে এবং পরীক্ষামূলক ভাবে তা ব্যবহারও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

দফতরের এক কর্তা জানান, ‘প্রারম্ভিক শৈশবকালীন যত্ন ও শিক্ষা’, ‘ভিত্তিমূলক সাক্ষরতা’ ও ‘সংখ্যা জ্ঞান এবং সহযোগিতামূলক গল্পকথন’ শীর্ষক বইয়ের পিডিএফ ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণরত ১৫০ শিক্ষককে। ক্লাসে এর প্রয়োগ করে দফতরে রিপোর্ট দিয়েছেন শিক্ষকেরা। সেই রিপোর্ট সন্তোষজনক বলেই জানাচ্ছেন দফতরের ওই কর্তা। এর পরে সমস্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ওই কর্তার কথায়, “শিশুরা যেন নিজে থেকেই স্কুলকে ভালবাসে, স্কুলে আসতে চায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। রাজ্যের বহু জায়গায় এই প্রাথমিক স্কুলগুলিই ভরসা। অতিব্যস্ত জীবনে এখন আর কেউ ছোটদের গল্প শোনায় না। এতে মানসিক বিকাশ খানিকটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে। তাই এই গুরুদায়িত্ব স্কুলের শিক্ষকদের নিতে হবে।” তাঁর দাবি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকেরাও এই বাড়তি দায়িত্ব পেয়ে খুশি।

School education department Primary School
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy