রাজ্যের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্যের নিয়োগ থমকে ছিল। তার মধ্যে ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে জট কাটল। স্থায়ী উপাচার্যের নাম স্থির হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য। প্রায় তিন বছর পর উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতায় কি ইতি পড়তে চলেছে? হিসাব বলছে, এখনও বাকি রয়েছে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত ১৬ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও রাজভবন উভয় পক্ষই সহমত হয়েছে। তাই ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী উপাচার্যের নাম স্থির করা গিয়েছে। বাকি যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ইউইউ ললিতের নেতৃত্বে সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটিকে নতুন নাম স্থির করবে।
আরও পড়ুন:
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যে আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে দুই পক্ষ সহমত হয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে অবিলম্বে। বাকি তিনটের জন্য ললিত কমিটি আগের প্যানেল থেকে কারও নাম নির্বাচন করতে পারবে না। বরং নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইন্টারভিউ নিতে হবে। পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলা হয়েছে।
২১ জানুয়ারি, বুধবার আদালতের সেই নির্দেশনামা সামনে এসেছে। সেই অনুযায়ী, সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন অয়ন ভট্টাচার্য। কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন সঞ্চারী রায় মুখোপাধ্যায়। হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন নিমাইচন্দ্র সাহা। রানিগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ণব সেন, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবাসাহেব অম্বেডকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটিতে অরুণাশিস গোস্বামী, উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবব্রত বসু এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হয়েছেন দেবব্রত মিত্র।
রাজ্যের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টিতে স্থায়ী উপাচার্য থাকলেও ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। মাস দুয়েক আগে কলকাতা, যাদবপুর ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী উপাচার্যের নামে সম্মতি জানায় রাজভবন। ফলে ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বর্তমানে স্থায়ী রয়েছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও মৌলানা আবুল কালাম আজাদ টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের জট এখনও কাটেনি। উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, রাজভবন থেকে এঁদের নিয়োগে অনুমতি মিললেই দ্রুত নিয়োগপত্র দিয়ে দেওয়া হবে।