-৪০ নম্বরেও মেডিক্যালের স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়া সম্ভব। কম নম্বর পেলেও এমবিবিএস ডিগ্রি থাকার কারণে তাঁরা চিকিৎসক হিসাবে যোগ্য, এমনটাই দাবি করেছে ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগ্জ়ামিনেশনস ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস)। তবে, তা চিকিৎসাবিদ্যার স্নাতকোত্তর স্তরের পঠনপাঠন এবং রোগীদের পরিষেবায় কোনও ভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কিনা, তা যাচাই করে দেখবে শীর্ষ আদালত।
গত জানুয়ারিতে এনবিইএমএস-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল, সোমবার তারই শুনানি হল বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আর্ধের ডিভিশন বেঞ্চে। তাতেই শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, “শিক্ষার মানদণ্ড বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। কেন এত কম নম্বরে পড়ুয়া ভর্তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হল, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে হবে।”
কেন্দ্রের তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটার জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি এ দিন হলফনামা পেশ করেন। সেখানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস-এর দাবি, চিকিৎসকেরাই নিটপিজি দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের এমবিবিএস ডিগ্রি এবং এক বছরের ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক। পরীক্ষায় পাশ করার পর প্রার্থীর পছন্দ এবং মেধার ভিত্তিতেই সীমিত আসনে ভর্তি নেওয়া হয়। তাই নম্বর কমিয়ে দেওয়া হলেও তা কোনও ভাবেই শিক্ষার মানদণ্ডকে উপেক্ষা করছে না।
সোমবারের শুনানি শেষে কেন্দ্রের বক্তব্য শোনার পর শীর্ষ আদালত জানায়, যাঁরা ভর্তির আবেদন করছেন, তাঁরা চিকিৎসক হলেও এই সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৪ মার্চ।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ২০২৬-এর জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে মেডিক্যালের স্নাতকোত্তরে ভর্তির কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হয়। দেখা গিয়েছে, তাতে ৯,৬২১টি আসন ফাঁকা। তাই, কাট অফ নম্বর কমিয়ে পূর্ণমান ৮০০-র মধ্যে ১০৩ করা হয়। সংরক্ষিত শ্রেণিভুক্তদের ক্ষেত্রে কাট অফ স্কোর ৪০ থেকে কমিয়ে ০ পার্সেন্টাইল, অসংরক্ষিত এবং আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কাট অফ ৫০ পার্সেন্টাইল থেকে কমিয়ে ৭ পার্সেন্টাইল করা হবে।
এ ক্ষেত্রে সংরক্ষিত শ্রেণিভুক্তরা সর্বনিম্ন -৪০ কাট অফ স্কোর থাকলেও ভর্তি হতে পারবেন। আর এতেই বিরোধিতা করছেন চিকিৎসকেরাই। তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা কম নম্বর পেয়েও বিশেষ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হওয়ার পাঠগ্রহণ করবেন, তাঁরা আদতে কতটা দক্ষ এবং মেধাবী, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এতে আখেরে ভবিষ্যতে রোগী পরিষেবা ব্যাহত হবে। চিকিৎসকদেরই প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়তে হবে।