Advertisement
E-Paper

রিভিউ-এ দীর্ঘসূত্রিতা! তিন মাসেও মেলে না ফল, চার বছরের স্নাতক নিয়ে চিন্তিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে

পরীক্ষার ৪৫ দিনের মধ্যে ফলপ্রকাশ করা হয়। এর পর খাতা রিভিউ করার জন্য পড়ুয়াদের ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। আবেদনপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্যও ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। তার পর শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৯
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । — প্রতীকী চিত্র।

সেমেস্টারের সময়সীমা ৬ মাস। ফলপ্রকাশ হয় পরীক্ষার ৪৫ দিনের মধ্যে। কিন্তু পরীক্ষার খাতা পুনর্মুল্যায়ন (রিভিউ) করতে হলেই সমস্যা। সেখানেই কেটে যায় প্রায় ৩ মাস!

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দীর্ঘসূত্রী মূল্যায়ন পদ্ধতির ফলে বিপদে পড়ছেন পড়ুয়ারা। অনেকেই খাতা রিভিউ করার পরিবর্তে বেছে নিচ্ছেন সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার পথ, অভিযোগ এমনই।

তবে যাঁরা জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে তৈরি হওয়া নতুন পদ্ধতিতে পড়াশোনা করবেন, তাঁরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন। ষষ্ঠ সেমেস্টারের নম্বরের উপরে ভিত্তি করে সপ্তম সেমেস্টারে বিষয় বাছাই করার সুযোগ পাবেন তাঁরা। কিন্তু খাতা রিভি‌উ করতে তিন মাস সময় লাগলে কার্যত একটি সেমেস্টার নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছেন বলে দাবি। রিভিউ করার সময়কে যতটা কমিয়ে আনা সম্ভব সেই চেষ্টা চলছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, বেশ কয়েকটি ধাপে খাতা রিভিউ করা হয়। এতে প্রায় আড়াই বা তিন মাস সময় লেগে যায়। তিনি জানান, পরীক্ষার ৪৫ দিনের মধ্যে ফলপ্রকাশ করা হয়। এর পর খাতা রিভিউ করার জন্য পড়ুয়াদের ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। আবেদনপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্যও ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। তার পর শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। প্রধানপরীক্ষকের কাছে সেই আবেদনপত্র গেলে খাতার পুনর্মুল্যায়ন শুরু করেন পরীক্ষক। ফলে নতুন নম্বর পৌঁছতেই তিন মাস সময় লেগে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছর জুন মাস থেকে যে সেমেস্টার শুরু হচ্ছে তা-ই হবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের স্নাতক কোর্সের প্রথম ব্যাচ। অর্থাৎ যাঁরা ২০২৩ সালে ভর্তি হয়েছেন তাঁরা তৃতীয় বর্ষ শেষ করে চতুর্থ বর্ষ শুরু করেন। রিভিউ সংক্রান্ত সমস্যা প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা।

এক শিক্ষক জানান, ষষ্ঠ সেমেস্টারে কোনও পড়ুয়া ৭৫ শতাংশ নম্বর পেলে ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন। কিন্তু কেউ যদি ৭০ বা ৭২ শতাংশ পান তা হলে তাঁরা রিভিউ করে নম্বর বাড়িয়ে নেওয়ার কথা ভাবতেই পারেন। বা কেউ হয়তো ৩৮ শতাংশ পেয়ে অনার্সে পড়ার আশায় খাতা রিভিউ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে যদি তিন মাস পর দেখা যায় তাঁরা ওই সমস্ত কোর্সে পড়ার যোগ্য তত দিনে তিন মাস পার হয়ে যাবে। পরবর্তী তিন মাসে কী ভাবে কোর্স শেষ করবেন? ফলে একটি বছর নষ্ট হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি কুটার সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষ বলেন, ‘‘সব ক্ষেত্রে তো বটেই, বিশেষ করে ষষ্ঠ সেমেস্টারের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কোনও ভাবেই কোনও পড়ুয়া যেন এই প্রাতিষ্ঠানিক দীর্ঘসূত্রিতার শিকার না হয় সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে।’’

এক আধিকারিক অবশ্য জানান, এই সেমেস্টারকে তাঁরা সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েই দেখবেন। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করছি রিভিউ করার সময়কে যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়। এই নিয়ে সকলের সঙ্গে আলোচনা করব।’’

Review Calcutta University
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy