২৪ মে, রবিবার রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্জ়ামিনেশন (ডব্লিউবিজেইই)। সম্প্রতি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ডব্লিউবিজেইই বোর্ড। দ্বাদশ শ্রেণির পর যে সব পড়ুয়া রাজ্যের প্রতিষ্ঠান থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসি এবং টেকনোলজি নিয়ে পড়তে চান, তাঁদের ডব্লিউবিজেইই উত্তীর্ণ হতে হয়।
প্রশ্নপত্রের ধরন:
অফলাইনে ‘ওএমআর’ শিটে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রথম পত্রে ১০০ নম্বরের অঙ্কের পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয় পত্রে পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নের পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষা দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয়পত্রে দু’টি বিষয়ের প্রতিটিতে ৫০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে।
নম্বর বিভাজন:
প্রতিটি পত্রের পরীক্ষায় তিনটি ক্যাটেগরির প্রশ্ন থাকবে। প্রথম ক্যাটেগরির প্রশ্নের উত্তর সঠিক হলে ১ নম্বর মিলবে, ভুল হলে ১/৪ নম্বর বাদ যাবে। দ্বিতীয় ক্যাটেগরির প্রশ্নের ক্ষেত্রে সঠিক উত্তরের জন্য ২ নম্বর দেওয়া হবে। ভুল উত্তরের ক্ষেত্রে বাদ পড়বে ১/২ নম্বর।
তৃতীয় ক্যাটেগরির প্রশ্নের উত্তর একের থেকে বেশি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নেগেটিভ মার্কিং থাকছে না। এই ক্যাটেগরির প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ নম্বর। প্রশ্নের একাধিক অপশন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে দু’টি সঠিক এবং তৃতীয়টি যদি ভুল উত্তর হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর দেওয়া সত্ত্বেও ওই প্রশ্নের জন্য কোনও নম্বরই পরীক্ষার্থী পাবেন না।
পরামর্শ
সুতরাং খুব ঠান্ডা মাথায়, বুঝে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। হাতে আর দু’মাসও নেই। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন চলছে তুঙ্গে। এই সময় অযথা সময় নষ্ট না করে গণিত এবং পদার্থবিদ্যায় বেশি জোর দিতে বলেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক অনুপম দেব সরকার। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিগত বছরের প্রশ্নপত্র খুটিয়ে পড়া খুব প্রয়োজন। দু’টি পত্রের পরীক্ষা জন্য সময় দু’ঘণ্টা করে। তাই এই সময়ের মধ্যে কী ভাবে প্রশ্নপত্রের সম্পূর্ণ উত্তর দেওয়া যায়, তা অনুশীলন করতে হবে।
এমনই পরামর্শ দিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিমাদ্রি চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের তরফে দেওয়া সিলেবাস খুব ভাল করে খুঁটিয়ে পড়া দরকার। তাঁর কথায়, ‘‘যে কোনও প্রশ্ন আসতে পারে, এর আগে থেকে কিছু বলে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই পাঠ্যের কোনও অংশই বাদ দিলে চলবে না। লেখা এবং পড়া দু’টোই ভাল করে অনুশীলন করতে হবে।”
পরীক্ষাকক্ষে বসে মনে হতেই পারে, প্রশ্নপত্র মনের মতো নয়। কিন্তু সেই সময় ঘাবড়ে গিয়ে বা মন খারাপ করলে পরীক্ষা আরও খারাপ হতে পারে বলেই মনে করছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক প্রশান্ত সাউ। তাঁর কথায়, ‘‘পাঠ্য ভাল ভাবে অনুশীলন করতে হবে। এমনটা যেন না হয়, পাঠ্য থেকেই প্রশ্ন এল, কিন্তু উত্তর দিতে পারলেন না।’’
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এটি। এখানে ভাল ফল করেও র্যাঙ্ক পিছিয়ে যেতে পারে। আবার র্যাঙ্ক ভালও হতে পারে। তাই নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন, সময় নির্ধারণ এবং ভাল ভাবে খুঁটিয়ে পড়া সব সময় জরুরি। বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন এই খুঁটিয়ে পড়াই ভাল র্যাঙ্কের চাবিকাঠি।