চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই স্নাতকোত্তরে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ চালু করতে চায় আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিষয়ে রূপরেখা তৈরি করতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শ চাইলেন কর্তৃপক্ষ।
আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সরিৎ চৌধুরী জানান, চলতি বছর থেকেই জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠ্যক্রম তৈরি থেকে শুরু করে পড়াশোনার যাবতীয় কাজ করতে চান তাঁরা। ইতিমধ্যেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এই বিষয়ে অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। তাই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল।
সে আবেদনে সাড়া দিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শককে পাঠানো হয়েছে আলিপুরদুয়ারে। সোমবার থেকে শিক্ষকদের দু’দিনের কর্মশালা শুরু হচ্ছে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। এ প্রসঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর অফ কলেজেস) দীপ্তেন্দু চট্টোপাধ্যায় ওই কর্মশালায় যোগ দিয়েছেন।
সরিৎ জানান, সোম ও মঙ্গলবার কর্মশালা চলবে। উপস্থিত থাকছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষকেরা। প্রথমে শিক্ষকদের জানানো হবে কী ভাবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষানীতিকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। পাশাপাশি নতুন পাঠ্যক্রমে যেন ‘মাল্টিডিসিপ্লিনারি’ বিষয়ের উল্লেখ থাকে সেই বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হবে। শুধু আলোচনাই নয়, কী ভাবে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং তার বাস্তব প্রয়োগ ভিত্তিক পড়াশোনায় পড়ুয়াদের আগ্রহী করে তোলা যায়, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
উপাচার্য বলেন, ‘‘আমরা চাইছি এই কর্মশালায় শিক্ষকেরা সব বিষয়টি ভাল করে বুঝে নিন। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই আমরা নতুন পাঠ্যক্রম শুরু করে দেব।’’ বাংলা ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোলের পাশাপাশি বিজ্ঞানের পদর্থবিদ্যা, রসায়নের মত নানা বিষয়ে এখানে স্নাতকোত্তর কোর্স পড়ানো হয়। নতুন শিক্ষানীতিতে স্নাতকের পরে সরাসরি গবেষণা করারও সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সেই বিষয়ে বিধিও প্রকাশ করেছে। তাই এই সব জেনে বুঝেই এগোতে চাইছেন আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা মহলের মত, শিক্ষানীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জ্ঞানের আদান প্রদান। এ ক্ষেত্রে আলিপুরদুয়ার এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পড়ুয়াদের স্বার্থে যে নিবিড় সংযোগ হল সেটা খুবই ইতিবাচক।