৭১ বছরের ‘কালারফুল বয়’ মদন মিত্র আবার এক বার ভোটের ময়দানে। আবার চেনা মাঠ— উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি বিধানসভা। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে সেখান থেকেই আবার প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা করেছেন মদন। হলফনামায় জ্যোৎস্নাকুমার মিত্রের পুত্র জানিয়েছেন তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে মামলা নিয়ে সবিস্তার তথ্য।
মদনের সম্পত্তি
মদন এবং স্ত্রী অর্চনা মিত্রের সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন কমিশনকে। বিদায়ী বিধায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন তাঁর হাতে রয়েছে নগদ ৪৫ হাজার টাকা। মদনের স্ত্রী বাড়ি সামলান। তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ১৫ হাজার ৮৫০ টাকা। স্ত্রীর ব্যাঙ্ক ব্যালান্স ১১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। মদনের ব্যাঙ্কে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ১১ লক্ষ ৯ হাজার টাকা। সাড়ে সাত লক্ষ টাকার একটি জীবনবিমা রয়েছে মদনের।
মদনের গাড়ি
টিয়া রঙের মারুতি জিম্মির সামনে-পিছনে লেখা ‘এমএম’, অর্থাৎ মদন মিত্র। গাড়িটির মূল্য প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা। মদন জানিয়েছেন, ওই একটিই গাড়ি তাঁর। স্ত্রী অর্চনার নামে একটি স্করপিও আছে। সেটির দাম ৭ লক্ষ টাকা।
সস্ত্রীক মদনের গয়নাগাটি
তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন, সোনা-রুপো এবং রত্নসামগ্রী মিলিয়ে তাঁর গয়নার মূল্য ১০ লক্ষ ১২ হাজার টাকা। ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকার গয়না রয়েছে স্ত্রীর। সব মিলিয়ে মদনের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা। স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭৪ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা।
মদনের জমিজমা
কোনও কৃষিজমি নেই মদনের। স্ত্রীরও তা-ই। অন্যান্য জমিজমাও নেই মিত্র দম্পতির।
মদনদের বাড়ি
ধীরেন্দ্রনাথ বোস রোডে মদনের একটি বাড়ি আছে। ৯০০ স্কোয়্যারফুটের। কলকাতার ডিএইচ রোডে ৫৭০ স্কোয়্যারফুটের একটি বাড়ি আছে। প্রথমটি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। দ্বিতীয়টি নিজের কেনা। স্ত্রীর নামে ১৪৮২ স্কোয়্যারফুটের একটি বাড়ি রয়েছে। মদনের মোট স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। স্ত্রীর বাড়িটির মূল্য আনুমানিক ৫৫ লক্ষ টাকা।
মদনের ধার-দেনা
এসবিআই থেকে ১ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন মদন। ব্যক্তিগত ঋণ ১৩ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে ১৪ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা ঋণ মদনের। স্ত্রীর নামে ঋণ রয়েছে ১০ লক্ষ ২২ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন:
মদনের সম্পত্তি বৃদ্ধি
২০০৬ সালে বিষ্ণুপুর পূর্ব থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মদন। তখন তাঁর সম্পত্তি ছিল ১২ লক্ষ টাকার সামান্য বেশি। ২০১১ সালে ‘পরিবর্তনের নির্বাচনে’ কামারহাটি থেকে লড়েন তৃণমূলের মদন। তখন তাঁর সম্পত্তি ছিল ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা। ২০১৪ সালে সারদা চিট ফান্ড-কাণ্ডে গ্রেফতার হন মদন। সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল। প্রায় ২১ মাস জেলে থাকার পরে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জামিন পান তিনি। ফের কামারহাটি থেকে প্রার্থী হন। তখন মদনের সম্পত্তি ছিল দেড় কোটির আশপাশে।
তার পর ২০১৯ সালে ভাটপাড়া উপনির্বাচনে তাঁকে আবার প্রার্থী করে তৃণমূল। তখন নির্বাচনী হলফনামায় মদন জানিয়েছিলেন তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার বেশি। ভাটপাড়ায় অর্জুন সিংহের পুত্র পবন সিংহের কাছে পরাজিত হন মদন। এর পর গত বিধানসভা নির্বাচনে আবার কামারহাটি থেকে প্রার্থী হন তিনি। সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা এবং দেনা ছিল ১৬ লক্ষ টাকার বেশি।
মদন-মামলা
মদন জানিয়েছেন, ২০২১ সাল থেকে ইডির দায়ের করা একটি মামলা এখনও চলছে। ইডি-সিবিআই থেকে থানা-পুলিশ, সব মিলিয়ে ছ’টি বিচারাধীন মামলা রয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত