ঊর্ধ্বমুখী চিকিৎসার খরচ। বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেই মোটা টাকার বিলের ধাক্কা। এই সঙ্কট থেকে খানিকটা হলেও সুরক্ষা দেয় স্বাস্থ্য বিমা। কিন্তু স্বাস্থ্য বিমা করালেই যে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার খরচের জন্য টাকার দাবি করতে পারবেন এমনটা নয়। এমনই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন চেন্নাইয়ের বাসিন্দা রাকেশ। তিনি ১০ লক্ষ টাকার একটি স্বাস্থ্য বিমা করেন। সেটি ছিল একটি পারিবারিক বিমা। পলিসি কেনার ছ’মাসের মাথায় রাকেশের স্ত্রীর ছানির অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল। তিনি ২৫,০০০ টাকার জন্য সংস্থার কাছে বিমার টাকা দাবি করেন। সংস্থাটি তা প্রত্যাখ্যান করে।
বিমা করার পরে বেশির ভাগ গ্রাহকই একটি বিষয়ে খেয়াল করতে ভুলে যান। ফলে অনেকেই রাকেশের মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। বিমা করেও টাকা না পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তা হল ওয়েটিং পিরিয়ড বা বিমা চালু হওয়ার পর তা কার্যকর হওয়ার অপেক্ষার সময়কাল। রাকেশের মতো আপনিও যদি বিমা দাবি করে প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হতে না চান, তা হলে একটি স্বাস্থ্য বিমা পলিসির বিভিন্ন ওয়েটিং পিরিয়ড সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন থাকা উচিত। কী এই ওয়েটিং পিরিয়ড?
আরও পড়ুন:
বিমা পলিসিতে অপেক্ষার সময়কাল হল সেই নির্দিষ্ট সময়, যে সময়ে বিমা সংস্থা সম্পূর্ণ পলিসি অথবা নির্দিষ্ট অসুস্থতা বা চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য কভারেজ শুরু হওয়ার আগে অপেক্ষা করতে বলে। এই সময়কালের মধ্যে বিমার গ্রাহক কোনও দাবি করতে পারেন না। সেই দাবি স্বাভাবিক ভাবেই বিমা সংস্থা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এই ওয়েটিং পিরিয়ড বা অপেক্ষার সময়কালে যদি কাউকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তবে তাঁকে সেই বিল নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হবে।
এই অপেক্ষার সময়কাল সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে অথবা নির্দিষ্ট অসুস্থতা বা চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। অপেক্ষার সময়কাল বিভিন্ন বিমা সংস্থার পলিসিতে অথবা একই বিমা সংস্থার বিভিন্ন পলিসিতে কিংবা একই বিমা পলিসির বিভিন্ন সংস্করণের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। অপেক্ষার সময়কাল বোঝার জন্য গ্রাহককে পলিসির নিয়মকানুন ভাল করে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিমা বিশেষজ্ঞেরা।