Advertisement
E-Paper

চাকরি পেয়েও যোগদানে অনীহা! শূন্যপদ ভরাতে নতুন ব্যবস্থা, কেন্দ্রের নির্দেশিকা ঘিরে প্রশ্ন

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নিতে গিয়ে স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি) একাধিকবার সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। নিয়োগের জন্য নতুন বিধি চালুর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতেই ফের চর্চায় কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১৭:১১

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

সরকারি চাকরিতে পদ খালি, কাজের সুযোগ পেয়েও যোগ দিতে আগ্রহী নন পরীক্ষায় উত্তীর্ণেরা। স্টাফ সিলেকশন কমিশনের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্যই প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে স্পষ্ট বলা হচ্ছে, নিয়োগের জন্য পরীক্ষা, ইন্টারভিউ সম্পূর্ণ হওয়ার পর যাঁরা পাশ করছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই চূড়ান্ত পদে নিয়োগের জন্য নথি যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় যোগ দিচ্ছেন না। খালি থেকে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পদটিও।

এই সমস্যা দূর করতে নতুন বিধি চালু করতে চলেছে এসএসসি। বিধি অনুযায়ী, মেধা এবং পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশিত হবে। প্রথম পর্যায়ে বা ফার্স্ট রাউন্ড অফ টেনটেটিভ অ্যালোকেশন (এফআরটিএ) শীর্ষক ওই তালিকায় থাকা প্রার্থীদের নির্দিষ্ট বিভাগে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে এসএসসি। তাঁদের এসএসসি-র আঞ্চলিক দফতরে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আধার কার্ডের তথ্য জমা দিতে হবে। এর পর তাঁরা নির্বাচিত পদের বদলে অন্য কোনও বিভাগের পদ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় নিয়োগের চল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাছাই করা প্রার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা, ইন্টারভিউ, নথি যাচাইয়ের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। নির্দিষ্ট পদের জন্য বরাদ্দ থাকে শূন্যপদও। সে ক্ষেত্রে এই বিধি কেন জারি করতে চাইছে কমিশন? তা হলে কি সরকারি চাকরি-ই চাইছেন না এ দেশের শিক্ষিত তরুণেরা?

কমিশনের অন্দরমহলে ফিসফাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা হারাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। ২০২৫-এ সিলেকশন পোস্টে নিয়োগের পরীক্ষায় প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং পরীক্ষাকেন্দ্র বণ্টন নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে একাধিকবার পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছিল এসএসসি-কে। তা ছাড়া, ওই বছরেই কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েশন লেভেল এগ‌্‌জ়ামিনেশন-ও (সিজিএল) একই ভাবে বাতিল করা হয়েছিল। কমিশনের বিরুদ্ধে ওই সব পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনৈতিক মূল্যায়নের অভিযোগও উঠেছিল। ফলে উত্তীর্ণদের অনেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া যোগদান করেননি। অভিযোগ, পরীক্ষার্থীরা পছন্দ মতো পদ পাচ্ছেন না।

কমিশনের অন্দরেই এ নিয়ে বেড়েছে চাপানউতর। বছরের পর বছর পরীক্ষা হলেও এই সমস্ত অভিযোগ উঠেই চলেছে। নতুন পদ্ধতিতে নথি যাচাইকরণ শুরু হলেও, নিয়োগের জন্য দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে উত্তীর্ণদের। সরকারি কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, নিয়োগে দুর্নীতি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় অস্বচ্ছতা সংক্রান্ত অভিযোগের পাহাড় জমছে। এতে কমিশনের ব্যর্থতার ছবিটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাই সরকারি চাকরি থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন অনেকেই।

এসএসসি-র নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত পদেই যাঁরা চাকরি করতে চান, তাঁরা স্থায়ী বা ‘ফিক্স’ বিকল্পটি বেছে নিতে পারবেন। যাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর অন্য যে কোনও পদে চাকরি করতে আগ্রহী, তাঁরা ‘ফ্লোট’ বিকল্পটি বেছে নিতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে তাঁদের মেধা, পছন্দ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে শূন্যপদের সংখ্যার বিচারে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। এর পর অন্য বিভাগের অধীনে তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।

Staff Selection Commission Govt Jobs 2026 SSC Recruitment
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy